ইসির ওয়েবসাইটে এখনও জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ১২:৪৯, জুন ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৭, জুন ১৪, ২০১৮





নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এখনও দৃশ্যমান জামায়েতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রামে ব্যবহৃত ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা‘কে অন্য কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না’, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এমন সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট। সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সে সময়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই চিঠির আলোকে কমিশন নির্বাচনি প্রতীক থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দিয়ে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের জন্য বর্তমানে যে ৬৪টি প্রতীক রয়েছে, তাতে দাঁড়িপাল্লা নেই। দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের তালিকায়ও এটি এখন নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর নামের পাশে এখনও দাঁড়িপাল্লা রয়েছে। অবশ্য কমিশন বলছে, বিষয়টি যেহেতু নজরে আনা হয়েছে, নিশ্চয়ই এটি বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসির ওয়েবসাইট হালনাগাদের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের ওয়েবসাইটে জামায়াতের নামের বিপরীতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। কিন্তু কমিশন থেকে কোনও নির্দেশনা না পাওয়ায় বিষয়টি যেভাবে ছিল সেভাবেই রয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ১৪ নম্বর নিবন্ধিত দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম রয়েছে। অবশ্য সেখানে বন্ধনীতে () মামলার নম্বর ও কোর্টের আদেশের দিনক্ষণ উল্লেখসহ জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।

কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ হওয়ার সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের মতে, হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর প্রতীক বাতিল হয়েছে কোর্টের ভিন্ন একটি সিদ্ধান্তে। কর্মকর্তারা জানান, জামায়াত যদি আদালতের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাদের নিবন্ধন ফেরতও পায়, তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। এক্ষেত্রে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে তাদের অন্য কোনও প্রতীক পছন্দ করে নিতে হবে।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বাতিলের সময় ইসির তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে কমিশন নির্বাচনি প্রতীকের তালিকা থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দিয়েছে। এর ফলে আগামীতে কোনও রাজনৈতিক দল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকটি নির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবে না।

ওয়েবসাইটে এখনও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায়, জামায়াতের নিবন্ধন স্থগিত করা আছে। কিন্তু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকটি বাতিলই করা হয়েছে। এর আলোকে কমিশনও তাদের প্রতীকের তালিকা থেকে ওটা বাদ দিয়ে বিধিমালা সংশোধন করেছে। ভবিষ্যতে জামায়াত যদি নিবন্ধন পায়ও তারা ওই প্রতীকটি আর পাবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দলের নামটি যেহেতু রয়েছে, সেই হিসেবে ওয়েবসাইটেও নামের সঙ্গে প্রতীক রয়ে গেছে।’

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তো উচ্চ আদালতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে। কমিশনের প্রতীকের তালিকায় এটা এখন আর বিদ্যমান নেই। কাজেই এটা তো কোনোভাবেই থাকার কথা নয়। ওয়েবসাইটে থেকে থাকলে সেটা দ্রুত বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এপিএইচ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ