একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত বিএনপির!

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ০০:২৩, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৯, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

বিএনপিএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণার সমালোচনা করলেও নির্বাচনি ট্রেন কোনোভাবেই মিস করতে চায় না দলটি। এদিন রাতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্যদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (১০ নভেম্বর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে স্থায়ী কমিটি নির্বাচনি পরিকল্পনা তৈরি করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিজেরা উদ্ধৃত হতে চাননি। প্রত্যেকের ভাষ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে থাকবে বিএনপি। এক্ষেত্রে শনিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দিনব্যাপী আলোচনা করে দলের নির্বাচনি পরিকল্পনা, ইশতেহার ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন নীতিনির্ধারকরা।

এর আগে, শুক্রবার (৯ নভেম্বর) রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আছে, সেই সমাবেশ থেকে তফসিল ঘোষণার সমালোচনা করা হবে। একইসঙ্গে তফসিল পেছানোর দাবিও জানানো হবে। তবে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেওয়া হবে না, এমন ইঙ্গিতও দিতে পারেন নেতারা।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নেবে বিএনপি। একইসঙ্গে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে ঘোষণার আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে এর সম্ভাব্য কৌশল, পরবর্তী নীতি নির্ধারণ করবে বিএনপি। এক্ষেত্রে ফ্রন্টের নেতাদের অভিমত অনুযায়ী নির্বাচনি কৌশল ঠিক করবে দলটি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন সবাই চায়। কিন্তু সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করা সরকার ও ইসির দায়িত্ব। কিন্তু তারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সঠিক আচরণ করছে না। তফসিল ঘোষণা দুই-তিনদিন পরও করা যেতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনা করবেন না—এই আলোচনা তিনি ৫ বছর করেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা সংবিধানের বাইরে নয়। যেমন, নির্বাচনকালীন সরকার ছিল, আওয়ামী লীগই পরিবর্তন করেছে।’

ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার কোনও দাবিই সরকারের পক্ষ থেকে মানা হয়নি। এক্ষেত্রে নির্বাচন পেছানোর দাবি কতটা মানবে, এমন প্রশ্নে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা হবে। কথা বলার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের কী অবস্থান হবে, তা রাজশাহীর সমাবেশের পর ঠিক করবো।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।’

তফসিলের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, অভিমত জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল তফসিল পেছানোর। এটা নির্বাচন কমিশন মানেনি। জনগণের দাবি না মানলে জনগণই জবাব দেবে।’

এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এক নেতা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন করবে। ফ্রন্টের অন্যতম দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষেই নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি।

সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম কার সইয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবে, এরও একটি পন্থা বের করা হচ্ছে। শনিবারের বৈঠকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানান স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।

তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্রের দাবি, এক্ষেত্রে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সম্ভাবনা বেশি। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে শনিবার। এদিন ২০ দলীয় জোটের বৈঠকও ডাকা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত জোটের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সময় মিলিয়ে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। শনিবার বা রবিবার রাতে বা সন্ধ্যায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন করার সম্ভাবনা আছে। সে সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি খোলাসা করবে বিএনপি।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ