সংগঠনে শক্তি খুঁজছে বিএনপি

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ২১:১৪, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৩, জুন ১১, ২০১৯





বিএনপি

নতুন নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সাংগঠনিকভাবে শক্তি বাড়াতে চায় বিএনপি। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এরইমধ্যে জোর কদমে শুরু হয়েছে এই শক্তিবৃদ্ধির প্রক্রিয়া।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে যোগদান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারাসহ কিছু কারণে নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রশ্ন দূর করতে এবং আগামী দিনে কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের প্রস্তুত করতেই সাংগঠনিক শক্তি বাড়াবে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী রবিবার (১৬ জুন) থেকে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন সাংগঠনিক কাজ গোছাতে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদুল ফিতরের আগের দিন (৪ জুন) বিকালে মির্জা ফখরুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একঘণ্টার ওই সাক্ষাতে দলীয় প্রধান সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগাদা দেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ধরে রেখে আগামী দিনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে বৃহৎ ঐক্যের ওপর জোর দেন খালেদা জিয়া।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শরিক দলের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার (১০ জুন) জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মির্জা ফখরুল সাংগঠনিকভাবে শক্তি সঞ্চয়ের কথা বলেন। ফ্রন্টের শরিক নেতাদের কর্মসূচি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব শরিক নেতাদের জানান, সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘সরকারের চাপে ও বিভিন্ন কারণে হয়রানির মধ্যে আছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকায় এই মুহূর্তে কোনও কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হবে না।’
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিকল্প দেখছেন না লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। এ কারণে তিনি দ্রুততার সঙ্গে ছাত্রদল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন। যদিও এ নিয়ে ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তারা চাইছেন বয়স্কদের রেখেই নতুন কমিটি ঘোষণা হোক। যদিও বিএনপি হাইকমান্ড স্থির সিদ্ধান্তে রয়েছে, নতুনদের সামনে আনতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিএনপির সর্বস্তরের কমিটিতেই পরিবর্তন আনার ইচ্ছা রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের।
বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনৈতিক দিকটি দেখভাল করছেন মির্জা ফখরুল। এখন থেকে তাকেও সংগঠনে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান। ১২ থেকে ১৪ জুন ঠাকুরগাঁওয়ে একাধিক কর্মী সভায় তার যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে সাবেক নেতাদের বিক্ষোভ হওয়ায় সফর পিছিয়ে দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি সভাপতি তৈমুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মির্জা ফখরুল নতুন করে আগামী ১৬ জুন থেকে তিন দিনের জন্য ঠাকুগাঁওয়ে অবস্থান করবেন।
তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, হতাশা তৈরি হয়েছে, এগুলো দূর করা দরকার। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এ কারণে মহাসচিব হিসেবে সাংগঠনিক কাজ শুরু করবেন মির্জা ফখরুল।’
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘সিলেট জেলা আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে। মহানগর কমিটি গঠনের কথা শুরু হবে। আর বাকি কাজগুলো সাংগঠনিক নিয়মেই চলছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য গত কয়েক মাসে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে বিভিন্ন সভায় পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও একাধিকবার বলেছেন, বর্ধিত সভা আয়োজন করে নেতাকর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হোক।
জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যোগ দেওয়াই ভালো। আমাদের এমপিরা ন্যূনতম স্পেস নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে কর্মসূচি নিয়ে সামনে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।’
তিনি বলেন, ‘এখন প্রয়োজন সংগঠনকে শক্তিশালী করা, ম্যাডামের মামলার বিষয়গুলো নিয়মিত নার্সিং করা এবং ঐক্যফ্রন্টকে শক্তিশালী করা। এক্ষেত্রে বিএনপিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সাংগঠনিকভাবে গোছানো থাকতে হবে।’







আরও পড়ুন...

সাংগঠনিক সংস্কারের পথে বিএনপি

 

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ