ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত সার্চ কমিটির নেতারা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৪:৩০, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৫, জুলাই ১৭, ২০১৯

ছাত্রদলের আগামী কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সংগঠনটির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতাদের (বর্তমানে বহিষ্কৃত) সঙ্গে বৈঠক করেও সমাধানে আসতে পারেনি বিএনপির নেতাদের নিয়ে গঠিত সার্চ কমিটি। বরং ক্ষুব্ধ নেতাদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েছেন সার্চ কমিটির নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের নিচতলায় ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সার্চ কমিটির নেতারা। বেলা সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। সংকটের কোনও সমাধান না করেই বৈঠক শেষ করে সার্চ কমিটি।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতৃত্ব ঠিক করতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে সার্চ কমিটি করেন তারেক রহমান। সার্চ কমিটির প্রত্যেক নেতাই আগে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
সূত্র জানায়, সার্চ কমিটির নেতারা ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেও কোনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। উল্টো বৈঠকে ঈদের একদিন আগে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা, নতুন কমিটি গঠনে শর্তারোপ এবং নতুন তফসিল ঘোষণার বিষয়ে ক্ষুব্ধ নেতারা নানা প্রশ্ন তোলেন। এ সময় সার্চ কমিটির নেতারা ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতাদের বক্তব্যের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।
বৈঠকে সার্চ কমিটির নেতারা বলেন, দলের এখন দুর্দিন চলছে। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন। এ অবস্থায় দলকে ভালোবেসে দলের নির্দেশ মানতে হবে। জবাবে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতারা বলেন, দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু উল্টো দলের সিন্ডিকেট তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের বহিষ্কার করানো হয়েছে। সিন্ডিকেট ছাত্রদলকে তাদের কব্জায় নিতে চাইছেন। এটা আমরা হতে দেবো না।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) গোলাম আজম সৈকত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি সার্চ কমিটির নেতাদের সামনে। বলেছি, বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। এবং আগামী ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পর্যন্ত আহ্বায়ক কমিটি করতে হবে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে সার্চ কমিটির নেতা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে উদ্দেশ করে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির এক নেতা বলেন, ‘আপনি তো কৃষক দলে ২৬ বছর ধরে নেতৃত্বে রয়েছেন। এখন আবার সেই সংগঠনেরই আহ্বায়ক আপনি। এটা কীভাবে সম্ভব? এখানে আপনার কোনও বয়সের সীমাবদ্ধতা নেই? আপনার কারণে এই সংগঠনে নতুন কোনও নেতৃত্ব তৈরি হতে পারেনি।’এ সময় দুদু কোনও কথা বলেননি।
বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির একাধিক নেতা জানান, ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতারা সার্চ কমিটির উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল। খালেদা জিয়া বন্দি রয়েছেন। তার মুক্তির জন্য এখন কী ভূমিকা রাখছেন। আপনারা কত বছর বয়সে ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছেন? তখন কেন সেটা অন্যায় মনে হয়নি। আবারও রমজানের ঈদের এক দিন আগে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে সমস্যা তৈরি করেছেন আপনারা। সেই সমস্যা সমাধান না করে কেন তফসিল ঘোষণা করেছেন।’ এসব প্রশ্নের কোনও সমাধান বা উত্তর ছাড়াই সার্চ কমিটির নেতারা গুলশান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় উঠে যান। পরে সেখানে রাত ১১টা পর্যন্ত তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন।
সূত্র জানান, সার্চ কমিটিতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারাও রয়েছেন। তাদের উদ্দেশ করে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা বলেন, ‘যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। সুপার ফাইভ দিয়ে আপনারা মেয়াদ শেষ করেছেন। এখন আপনাদের মতো বুড়োরাই আবার ছাত্রদলের কমিটি করতে এসেছেন। ন্যূনতম লজ্জাবোধ থাকলে এটা করতেন না। পুরো দলটাকে দখল করে এখন ছাত্রদলকেও দখল করতে এটা করছেন।’
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘আমরা তাদের দাবি-দাওয়া শুনেছি। এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এসব তুলে ধরে সমাধান করবো।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্ষুব্ধ নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, আগামী দিনে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও মূল দলে যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। তারা আমাদের ছোট ভাই। তাদের দলে অনেক ত্যাগ রয়েছে, মামলা-হামলায় তারা জর্জরিত, জেল খেটেছেন। তাদের বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’
বৈঠকে সার্চ কমিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল।
ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহ-সভাপতি ( বর্তমানে বহিষ্কৃত) ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন, কাজী মোক্তার হোসেন, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। এরপর থেকেই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। ২২ জুন আন্দোলনকারী ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে ছাত্রদলের সংকট সমাধানে দুই স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। স্থগিত করা হয় কাউন্সিলের কার্যক্রম। তফসিল অনুযায়ী গত ১৫ জুলাই কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন: ছাত্রদলে সংকটের নেপথ্যে বিএনপির দুই গ্রুপ

               সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির ‘বয়স্ক’ নেতারা

 

/এএইচআর/ওআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ