ছাত্রদলের কাউন্সিল: বৈধ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে বিতর্ক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:২০, আগস্ট ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১০, আগস্ট ৩১, ২০১৯

ছাত্রদলছাত্রদলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতি পদে মামুন খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে জুয়েল হাওলাদারের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কমিটি বৈধ বলে ঘোষণা করলেও আপিল কমিটি তা বাতিল করেছে।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাতে আপিল কমিটির পক্ষে শামসুজ্জামান দুদু ও আসাদুজ্জামান রিপন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ দুই প্রার্থীর প্রার্থিতার আপিল কমিটি অনুমোদন করেনি। যার কারণে তাদের প্রার্থিতা আর বহাল নেই। তবে কী কারণে তাদের পার্থিতা বাতিল করা হয়েছে তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই কমিটি মামুন খান ও জুয়েল হাওলাদারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল। ২৭ আগস্ট ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৪৫ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে যাচাই-বাছাই কমিটি। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১৫ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ৩০ জন প্রার্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাচাই-বাছাই কমিটির এক সদস্য বলেন, আপিল কমিটি তাদের কাজের পরিসীমার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। কারণ যাচাই-বাছাই কমিটি যাকে বৈধ বলেছে, তাকে আপিল কমিটি অবৈধ বলতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, আপিল কমিটির কাজ হচ্ছে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তারা যদি আপিল করেন তা খতিয়ে দেখা। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তারা যদি যৌক্তিক তথ্য প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে পারে তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা, তাহলে আপিল কিমিটি তাদের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেবেন। তারপরও কোন যুক্তিতে এবং কী অভিযোগে তারা মামুন ও জুয়েলের প্রার্থিতা বাতিল করেছে তার হয়তো ব্যাখ্যা দেবে আপিল কমিটি।

মামুন খান ও জুয়েল হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা হয়তো ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা জানি না কী কারণে আমাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হলো। তারেক রহমানের কাছে আবেদন, তিনি যেন আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ করে দেন।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে প্রার্থিতার শর্ত পূরণে যাচাই-বাছাই কমিটি যাদের প্রার্থিতা বাতিল করেছিল, যার প্রেক্ষিতে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য আপিল কমিটির কাছে যারা আবেদন করেছিলেন, আপিল কমিটি শুক্রবার বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করেন। সভাপতি পদে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল- আল মেহেদী তালুকদার, আরাফাত বিল্লাহ খান, মো. আসাদুল আলম, মো. আজিম উদ্দিন মেরাজ, এস এ এম আমিরুল ইসলাম, জুয়েল মৃধা এবং ফজলুল হক নীরবের।
যাচাই-বাছাই কমিটির করা বাতিল ঘোষিত সাত জন সভাপতি প্রার্থিতার আপিল আবেদন চূড়ান্ত বিশ্লেষণে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি, তাই তাদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে যারা যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে বিবেচিত হয়নি, তারা হলেন-সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইমদাদুল হক মজুমদার ও মোহাম্মদ জামিল হোসেন। কিন্তু আপিল কমিটির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পাঁচ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
শুক্রবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল কিন্তু তা একদিন বাড়িয়ে শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত. ছাত্রদলের কাউন্সিলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটে অংশ নেবেন সংগঠনটির সারাদেশের ১১৭টি ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলর।

/এএইচআর /এআর/

লাইভ

টপ