behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গিয়ে সাফল্য পেয়েছে বিএনপি!

সালমান তারেক শাকিল১১:৪৪, মার্চ ১২, ২০১৬

বিএনপিস্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাফল্যই বেশি পেয়েছে বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ফল প্রত্যাখ্যান করলেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই সাফল্য দলটিকে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করেন দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। বিএনপি নেতারা জানান, তারা অন্তত কয়েকটি কারণে সংশয়ে থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। এসবই হচ্ছে আন্দোলনের কৌশল হিসেবে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, বিগত ২০১৫ সালের নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তিনমাসব্যাপী অবরোধ-আন্দোলন অনেকটাই বিফল হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারের চাপ, লাখ-লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলার কারণে নেতাকর্মীরা ছিলেন আত্মগোপনে। দলের নেতাকর্মীদের শীর্ষস্থানীয়রা বেশিরভাগ ছিলেন কারাগারে। এতে করে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে যেকোনও উপায়ে রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসাই ছিল বিএনপির চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে আগামী দিনের আন্দোলন আরও সক্রিয় করতেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন নেতারা।
বিএনপির চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গিয়ে বিএনপির লাভই হয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেইে আমরা নির্বচনগুলোয় অংশ নিয়েছি। আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও যাব।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকার তো রাজনীতিই নিষিদ্ধ করেছিল। ঘরে-বাইরে কোথাও কথা বলা যেত না। প্রচার-প্রচারণা বন্ধ ছিল। ওই অবস্থায় জরুরি ছিল রাজনীতিতে ফিরে আসা। সরকার সেটি বন্ধ করেছিল। এ কারণে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের নেতাকর্মীরা বাইরে বেরুতে সক্ষম হয়েছেন। নিজেদের সঙ্গে বোঝাপড়ার সুযোগ হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি উপকৃত হয়েছে। দলে সাড়া পড়েছে। নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়েছেন।

জানা গেছে, গত বছরের শুরুর তিন মাসে অবরোধ কেন্দ্র করে নৈরাজ্য, নাশকতা, পেট্রোলবোমার ব্যবহারসহ নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বিএনপির আন্দোলন। অন্যদিকে সরকারের চাপে নেতাকর্মীরা ছিলেন কোণঠাসা। ওই পরিস্থিতিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই তিনটি নির্বাচনে কারচুপিসহ নানা অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে এলেও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অটল থাকে বিএনপি। যদিও ৩০ ডিসেম্বর রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত হয়। পরেরদিন সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। ওই নির্বাচনের আগে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল দলটি। ওই সময় বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা কূটনীতিকদের বলেছি, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে মাঠে থাকব আমরা। মূলত, দেখাতে চাই, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচনই সুষ্ঠু সম্পন্ন হবে না।

এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, মূলত এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন কেন, ছোটখাটো কোনও নির্বাচনই সুষ্ঠু হয় না এবং হবেও না, এটিই আমরা দেশে-বিদেশে প্রমাণ করেছি।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। এতে জাতীয় নির্বাচন যে আরও হবে না, এ বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে গেছে। তার দাবি, এই সরকার নির্বাচনি ব্যবস্থাকেই নষ্ট করেছে ফেলেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির ৮৩ জন প্রার্থী প্রথম দফায় মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেননি, দ্বিতীয় দফায় ৫৮ জন বিএনপি প্রার্থী সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের বাধায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ৩৭ জন বিএনপি’র প্রার্থী জমা দেওয়ার পরও জোরপূর্বক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ঠুনকো’ অভিযোগে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দুই দফা মিলে মোট ১৭৮ জন বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণ নির্বাচন কমিশনকে জাতির অভিশাপ হিসেবেই বিবেচনা করছে। তারা রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নন বরং একটি প্রক্সি গভর্নমেন্টের প্রক্সি কমিশন হিসেবেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, তৃণমূলের নির্বাচন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে আগ্রহীদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দিলেও হিতে বিপরীত হওয়ার শঙ্কা ছিল। আর সরকারের নির্বাচনি চেহারার প্রকৃত রূপ গ্রাম পর্যায়ের মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতেই দলীয় মনোনয়ন দিতে সম্মত হয়েছে। যদিও দলটি সরকারের এই সিদ্ধান্তে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া ঠিক নয়। তারপরও সরকারের সিদ্ধান্তে বিএনপি সাড়া দিয়েছে গণতান্ত্রিক চর্চাকে অব্যাহত রাখার জন্য। এছাড়া সরকারের প্রকৃত অবয়বও প্রকাশ পাবে এতে। আমরা দেখাতে চাই, আমরা নির্বাচনি দল, কিন্তু সরকার জোর-জুলুম করছে। এখানে আর কোনও শঙ্কা নেই।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র সারা দেশে নিপীড়ন চালাচ্ছেন সরকারের লোকেরা। বিএনপির প্রার্থীদের ঘরবাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। এসব তো সবাই দেখছে। এতে করে পরিষ্কার হচ্ছে; এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনই হবে না।

/এসটিএস/এমএনএইচ/আপ-এফএস/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ