প্রথম ২০-২৫ ওভারেই ঠিক হয়ে যাবে ম্যাচের গতিপথ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:৫৪, জানুয়ারি ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৮, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হওয়ার পর দুই দলের সামনেই সুযোগ ছিল শেষ দিনটাকে রোমাঞ্চিত করার। এই মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শেষ দিনটা নিজেদের করে নেওয়ার। আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি শেষ দিনে অনেক উত্তেজনা ছড়াবে ওয়েলিংটন টেস্ট।

শেষ দিনের সকালে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আতঙ্কিত হলে ব্যাটসম্যানরা তাদের স্বাভাবিক নৈপূণ্য প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হবে। কেবলমাত্র দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার মাধ্যমে বাংলাদেশ টেস্টটাকে বাঁচানোর পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে কিছুটা হলেও চাপ প্রয়োগ করার পরিবেশ তৈরি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বড় একটা জুটি হতে হবে। বাংলাদেশ যদি বড় জুটি গড়তে পারে, খুব স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হবে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর।

তবে নিশ্চিত করেই বলা যায়, কাল সকালে (সোমবার) নিউজিল্যান্ডের বোলাররা বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর। সাকিব-মুশফিকদের এই চাপ জয় করে উল্টো তাদেরকে চাপে ফেলতে হবে। যদিও শেষ দিনে ব্যাটিং করা খুব একটা সহজ হবে না। তারপরও বাংলাদেশের যদি ৫০ ওভার খেলা সম্ভব হয়, তাহলে স্কোর ১৫০-১৬০ এর আশেপাশে থাকবে, যা নিউজিল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হবে।

আমি মনে করি, প্রথম ২০-২৫ ওভার বেসিন রিজার্ভের ২২ গজে আসল লড়াই চলবে। ওই সময়টাতে বাংলাদেশ নিজেদের করে নিতে পারলে, চালকের আসনে থাকা সম্ভব হবে। এর জন্য মমিনুল-সাকিব-মুশফিক-সাব্বিরের মধ্যে কমপক্ষে দুজনকে বড় ইনিংস খেলতে হবে।

ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী ও সফল খেলোয়াড় ছিলেন ইমরুল কায়েস। কিপিং করার কারণে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে তার শরীরের নিচের অংশকে অনেক বাড়তি চাপ নিতে হয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন ছাড়াই ইমরুল ক্যাচিংয়ে অসাধারণ কিছু দক্ষতা দেখিয়েছেন।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ রান নেওয়ার যুক্তিকতা কতটুকু, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। এই কারণে আমরা ইমরুলকে হারালাম। যার প্রভাব ব্যাটিং অর্ডারে পড়েছে। আমাদেরকে যত্নবান হতে হবে, কিভাবে এই ধরনের আউট থেকে নিজেদের বাঁচানো যায়। এই জন্য হয়তো ফিটনেস আরও বাড়াতে হবে।

এই ঘটনাটা না ঘটলে বাংলাদেশ দিনশেষে আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারতো। ইমরুলের এই ইনজুরি পরের ইনিংসে তো দূরের কথা, পরের টেস্টেও হয়তো তাকে ছিটকে দেবে!

অনভিজ্ঞ একজন ব্যাটসম্যানকে নাইটওয়াচম্যানের দায়িত্ব দেওয়াটা আমার পছন্দ হয়নি। আমার মনে হয় এখানে মুশফিক সরাসরি চলে আসলেই ভালো হতো। মিরাজ নিজে জানে না নাইটওয়াচম্যান হিসেবে তার কি দায়িত্ব।  আউট হওয়ার আগের ওভারেই আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছিল। শেষ ওভারে যেভাবে রান আউট হলো, বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো নয়। কেননা সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নয়। এমন অবস্থায় মিরাজকে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামানোটা ভুল ছিল। শেষ ওভারে মিরাজ আউট হয়ে যাওয়ার ফলে সাব্বিরের সঙ্গী হিসেবে একজন ব্যাটসম্যানকে কম পাওয়া যাবে। যা হয়তো লেট অর্ডারে প্রভাব ফেলবে।

ওয়েলিংটন টেস্টে অনেক রং বদল হয়েছে। বাংলাদেশের নবীন খেলোয়াড়রা এই টেস্ট ম্যাচটা থেকে অনেক কিছু দেখেছে। যা হয়তো পরবর্তী টেস্টে তাদের আরও ভালো খেলতে সহায়তা করবে।

কামরুল ইসলাম রাব্বির একটা স্পেল আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। ওই স্পেলে মিচেল স্যান্টনার ও নাইল ওয়াগনারকে যেভাবে বাউন্সারে বিপর্যস্ত করেছে, সেটা ছিল অসাধারণ। আমি এর আগে দেশে ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও পেসারকে এতটা ভয়ঙ্করভাবে সফল হতে দেখিনি।

কামরুলকে আমি তাসকিন ও শুভাশিষের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে রাখব। অন্যপ্রান্ত থেকে যদি তাসকিন কিংবা শুভাশিষ সাপোর্ট দিতে পারতো কামরুলকে, সেটা হতো আরও উপভোগ্য।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ