আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে মুশফিক-মিরাজকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৪৫, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৫, মার্চ ০৭, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুযে কঠিন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাটসম্যানদের লড়াই করার কথা ছিল নিউজিল্যান্ডে, তার দেখা সেখানে না মিললেও পাওয়া গেল ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় দিনে। উমেশ যাদবের নেতৃত্বে হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতে ভারতীয় বোলাররা একহাত নিয়েছে আমাদের ব্যাটসম্যানদের।

সারাদিনে ভারতের সাফল্য ছিল ওই একটা সেশনই। তাদের চমৎকার রিভার্স সুইং মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবকে বোকা বানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আত্মরক্ষার টেকনিকের ওপর ভারতীয় বোলাররা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমনটি ঘটেছে অনেক। আর সেকারণেই ব্যাট ও বল হাতে শুধু খেলোয়াড়ই তার শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর সুযোগ পান না, এর সঙ্গে দলের হেড কোচ ও তার স্টাফরা তার দলকে প্রকৃত অর্থে কিভাবে প্রস্তুত করেছেন, তারও একটা পরীক্ষা হয়েছে হায়দরাবাদ টেস্টে।

মুমিনুল ও তামিমের রান আউটের দৃশ্যটি হজম করা ছিল খুব কঠিন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহকে ছন্দহীন লেগেছে। ওই কঠিন সময়ে উইকেটে টিকে থাকার লড়াইয়ে বেশ অসহায় মনে হয়েছে ভারতীয় পেসারদের সামনে। এই বিপর্যয়ে সাকিবের স্বভাবগত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও মুশফিকের সঙ্গে জুটিটা যখন ম্যাচে যথেষ্ট ভালোভাবে ফিরে আসার আশা জোগাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভুলটা করছেন সাকিব। তার আরেকটু দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। এতে করে তার ইনিংসটা যেমন আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তেমনি কিছুটা হলেও চাপমুক্তভাবে ব্যাটিং করতে পারতেন মুশফিক। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মুশফিককে সঙ্গ দেওয়ার মতো যথেষ্ট স্বীকৃত খেলোয়াড়ও যে পেছনে নেই, সেটা অবশ্যই বিবেচনায় আনা উচিত ছিল।

মাহমুদউল্লাহর এখনকার ব্যাটিংয়ের অবস্থা বিবেচনা করে মুশফিকের ৪ নম্বরে ব্যাট করা উচিত। আজ (শনিবার) মেহেদী হাসান মিরাজের এই অসাধারণ সঙ্গ না পেলে মুশফিককে এক পাশে সরিয়ে বাকি উইকেটের পতন দেখতে হতো।

বাইরের বল ছাড়ার ব্যাপারে মুশফিক চমৎকার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দিনের শেষ মুহূর্তে আঙুলে ব্যাথা পেলেও এই ইনিংসে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাট হাতে বোলারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন মুশফিক। এই ঐতিহাসিক টেস্টে সাব্বির রহমান অনেকটা চাপমুক্ত পরিস্থিতিতেই ব্যাট করতে এসেছিলেন। তবে মাথা থেকে একদিনের ক্রিকেটটা পুরোপুরি সরাতে না পারার কারণেই ইনিংসটা বড় হলো না।

সামর্থ্যের আলোকে ব্যাট হাতে মিরাজকে এতদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। নেটে কোচ তার পেছনে একটু তদারকি বাড়ালে ও ঘরোয়া ক্রিকেটে আরেকটু উপরে ব্যাট করলে তিনিও হয়ে যেতে পারেন ৭ নম্বরে ব্যাট করার আরেকজন প্রার্থী।

সারাদিনে একটি রানআউট সহ ৫ উইকেটের পতন ভারতীয় পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলারদের বাধার পক্ষে কথা বলে না। বহুল আলোচিত স্পিনারদের ব্যর্থ করে দিয়েছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। উইকেট থেকে নিয়মিত টার্ন ও বাউন্স না পাওয়াতে আজ রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজাও তাদেরকে অন্য কারও চেয়ে আলাদা করে চেনাতে পারলেন না। আসলে অনেক কুশলী ও অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণের মোকাবিলা ও পাহাড় সমান রানের চাপের মধ্যে প্রাথমিক বিপর্যয়ের পরও দারুণভাবে সামাল দিয়েছেন সাকিব, মুশফিক ও মিরাজ। তবে চতুর্থ দিনে মুশফিক-মিরাজের অবিছিন্ন জুটির ওপরই আসলে নির্ভর করবে আমরা কতদূর যেতে পারব। তাদেরকে পাড়ি দিতে হবে আরও অনেকটা পথ।

প্রথম সেশনে দ্রুত উইকেট হারানোর পরও বাকি দুই সেশন জেতার লড়াইটা আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। অভিজ্ঞ সাকিবের পর তরুণ মিরাজ অধিনায়ককে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে প্রশংসনীয় সমর্থন দিলেন দিন শেষে, সেটাই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও টেস্ট ম্যাচটি এখনও পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে।

/কেআর/

লাইভ

টপ