৫০০ রানও এই পিচে টপকে যাওয়া সম্ভব

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২০:৫৫, মার্চ ০৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৮, মার্চ ০৭, ২০১৭

বাংলাদেশ দলের প্রথম একাদশে তিনজন পেস বোলার সংযোজন দেখে ভেবেছিলাম উইকেট নিশ্চয় কিছুটা সবুজ। কিন্তু টেলিভিশনে উইকেটের চেহারা দেখে খুব একটা অনুপ্রাণিত হতে পারিনি। এই কারণে তিন পেসার সংযোজনের যথার্থটাও ছিল যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ।

টেস্ট ম্যাচের প্রথম সেশন থাকে পেস বোলারদের এবং উইকেটে কিছুটা প্রাণও ছিল তাদের জন্য। মুস্তাফিজ লাইন লেন্থে যত্নশীল থাকলেও প্রয়োজনীয় উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারেননি। নতুন বলে নিয়ন্ত্রণের অভাবে তাসকিনকে দুই ওভারের বেশি বল করাতে পারেননি মুশফিক। এই একটি জায়গায় তৃতীয় পেসারের বিকল্প হিসেবে শুভাশিষ রায়কে কাজে লাগাতে পেরেছেন মুশফিক, নইলে হয়তো কোনও স্পিনারের দারস্থ হতে হতো।

নতুন বলে সফল হতে হলে ব্যাটসম্যানকে বল খেলতে বাধ্য করাটাই পেস বোলারদের অন্যতম প্রধান কাজ। ঠিক একই সঙ্গে উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও জুটি গড়ার জন্য উইকেটের বাইরের বল ছেড়ে যথাসম্ভব না খেলাটাই ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য থাকে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ব্যাটসম্যানদের খেলতে বাধ্য করে এই সুযোগ তৈরি করার জন্য যথার্থ লাইনে বল করার সক্ষমতার উন্নতি যথেষ্ট ছিল না বাংলাদেশের বোলারদের। মুস্তাফিজ ও শুভাশিষ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিলেন এবং দ্বিতীয় স্পেলে তাসকিন মন্দ ছিলেন না। আজ (মঙ্গলবার) দিন শেষ দ্বিতীয় নতুন বলে উইকেট পেলেও তাসকিনের কাছে আরও অনেক ভালো লাইনে বল করাটা সবাই প্রত্যাশা করেন। দ্বিতীয় টেস্টে যদি দুজন সিমার নিয়ে খেলতে হয়, তাহলে প্রথম দিন শেষে শুভাশিষকে এগিয়ে রাখব।

ক্রিকেটে ভাগ্য খেলোয়াড় ও দলকে সাহায্য করে, বিষয়টা সবাই জানে। ‘নো’ বলে শুভাশিষের উইকেট হাতছাড়া হয়েছে। তার হতাশায় মুখের হাসিটা চওড়া হওয়া কুশল মেন্ডিস কী চমৎকারভাবেই না কাজে লাগিয়েছেন সুযোগটা। নতুন ‘জীবন’ পেয়ে সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নয়ন জুড়ানো লম্বা শতক করে অপরাজিত আছেন তিনি। তার টেম্বারমেন্ট, শটের প্লেসমেন্ট ও ঝুঁকিবিহীন ক্রিকেট ছিল প্রকৃত টেস্ট ম্যাচ দেখার চমৎকার উপহার। তার সঙ্গে পার্শ্ব চরিত্রে গুনারত্নের সমর্থন ছিল টিম ওয়ার্কের দৃষ্টান্ত। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় দলের পাশাপাশি যে তরুণ খেলোয়াড়ের গড়ে তোলার কাজে যথেষ্ট যত্নশীল ছিল, আজ এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং থেকে সহজে তা অনুধাবন করা যাচ্ছে।

তৃতীয় কোনও স্পিনার না থাকাতে আজ সাকিবের ওপর মুশফিক যথেষ্ট নির্ভরশীল ছিলেন ব্রেক থ্রু পাওয়ার জন্য, কিন্তু সেটা হয়নি। আজ কোনও ক্যাচ মিস করেনি না বলে বলতে পারি ব্যাটসম্যানরা সেই সুযোগই দেননি। দিনের শেষ সেশনে ফিল্ডারদের একটা গা ছাড়া ভাব চোখে লেগেছে। তবে লিটন দাস কিপিং গ্ল্যাভসে যথেষ্ট তৎপর ছিলেন এবং আউটফিল্ডে মুশফিককে খানিকটা কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।

২০১৩ সালে গলের এই মাঠে আমাদের টেস্ট ম্যাচটি দেখেছিলাম। এই পিচে যথেষ্ট রান আছে। কাল (বুধবার) যদি দ্রুত এই জুটি ভেঙে দেওয়া যায় বা ৫০০ রানের মধ্যেও ওদের আটকে রাখা যায়, তাহলেও সেই রানকে টপকে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের ব্যাটসম্যানদের আছে। এই উইকেটে বাউন্স না থাকায় শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের স্লো টার্ন ভালোভাবেই মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। তার আগে ওদের দ্রুত অলআউটের মিশনে তৎপর হওয়াটাই এখন আসল কাজ।

/কেআর/

লাইভ

টপ