তামিমের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং ছিল বিরাট পাওয়া

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৬:০১, জুন ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৫, আগস্ট ২৯, ২০১৭

.গতকাল ম্যাচে দলগত শক্তি ও সফলতার আলোকে আমাদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াই ছিল ফেভারিট। দিনশেষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আমরা শেষ ম্যাচেও সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই করার সুযোগ পেতে পারি, যদি ইংল্যান্ড আজ (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে) ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতে যায়।

তবে দলগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন না ঘটালে পরবর্তী ম্যাচেও আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মনে করি।

চমৎকার একটি ব্যাটিং উপযোগী পিচে ব্যাট হাতে কোনও কিছু করে দেখানোর মতো সুযোগ পেয়েছিল আমাদের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, একদিক থেকে তামিমের ধারাবাহিক অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর অন্য প্রান্ত থেকে সাকিবের ছোট্ট একটি জুটি ছাড়া প্রত্যাশিত কিছু না ঘটেনি। তাই বাজে একটি দিন গেছে দলের। তবে তামিমের আত্মবিশ্বাসী, দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংই ছিল দর্শক সমর্থকদের এক বিরাট পাওয়া। যদিও সেখানে সেঞ্চুরি না হওয়ায় ব্যাথার একটা মিশ্রস্রোত ছিল।

ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান মুশফিকের এলবিডব্লিউর ভুল সিদ্ধান্তটা ম্যাচে ছিল আমাদের জন্য একটা বড় ধাক্কা। অনেক সময় ব্যাটসম্যান নিজে বল ব্যাটে স্পর্শ করার বিষয়টি শুনতে বা অনুভব করতে পারে না, তবে অপর প্রান্তে থাকা তামিমের জন্য বিষয়টি মুশফিকের নজরে আনার অনেক বেশি সুযোগ ছিল।

কাল সাকিব অনেক মনোযোগী হয়ে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছেন এবং ফর্মে ফেরার জন্য বড় একটা রান করার চেষ্টা ছিল তার ব্যাটে। সেটা হয়নি, তার সঙ্গে দায়িত্ব না নিয়ে উচ্চাভিলাষী শটস খেলে সাব্বির ও মাহমুদউল্লাহকে দ্রুত ফেরত যেতে হয়। এটা অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা তামিমের জন্য চেয়ে চেয়ে দেখাটা ছিল দুঃখজনক।

তামিমকে সঙ্গ না দেওয়া বা আরেকটা জুটি তৈরি করার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কেউই অবদান রাখতে পারতে পারল না। অ্যাডাম জাম্পাকে সামলানোটা আগে প্রয়োজন ছিল, সেক্ষেত্রে তাকে দ্রুত চার্জ করে যথার্থ পরিশ্রমের আগেই সফল করে দিলেন সাব্বির ও মাহমুদউল্লাহ। স্টার্কের বলে যেভাবে আমরা ভেঙে পড়লাম তার চিত্র ছিল খুবই করুণ, এক কথায় অসহায় আত্মসমর্পণ।

কাল ম্যাচে আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল মোসাদ্দেকের বাদ পড়া। প্রতিশ্রুতিশীল এ তরুণ ব্যাট হাতে যথেষ্ট আস্থাশীল। প্রয়োজনে বোলিংয়ে সহায়তা করেছেন ও দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার। ভবিষ্যতে মিডল অর্ডার ব্যাটিংকে আরও সমৃদ্ধ করার মতো ক্ষমতা রাখেন তিনি। তার বাদ পড়া ছিল সত্যিই দুঃখজনক।

তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনী পার্টনারের জায়গাটি তার মতো অপরিহার্য করে নিতে পারেনি অন্য কেউই। তাই ইমরুলকে চেষ্টা করতে চাইলে সেই জায়গায় করাটা শ্রেয়তর। ইতিপূর্বে বা ত্রিদেশীয় সিরিজের সাব্বিরকে নিয়ে যে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল এই টুর্নামেন্টে তাকে সেভাবে খেলালে তার নৈপুণ্য বা ব্যর্থতার আলোকে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করা সহজ হতো।

এই ম্যাচে ১৬ ওভার বল করার মাধ্যমে পেস বোলাররা তাদের নিজেদের লাইন-লেন্থ নিয়ে কাজ করার কিছুটা সময় পেয়েছে। যার সর্বোচ্চ প্রয়োগের ফলে সুযোগ থাকছে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে। এই টুর্নামেন্টে আমাদের ব্যাটিং দিয়ে পরবর্তী ম্যাচে অবস্থান পুনরুদ্ধারের যতটুকু সম্ভাবনা আছে, তার সমপরিমাণ সম্ভাবনা বোলিং বিভাগের কাছ থেকে না পাওয়াটা মাশরাফিকে যথেষ্ট ভাবাবে। দলনায়ক মাশরাফির নিজেকে মেলে ধরার অন্যতম সেরা বা শেষ সুযোগ হবে- খেলায় নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো দ্রুত মেরামত করে ও সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে লড়াই করার জন্য দলকে উদ্বুদ্ধ করা।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ