ব্যাটসম্যানদের আরও শিখতে হবে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২৩:৫৬, অক্টোবর ০২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৬, অক্টোবর ০২, ২০১৭

সিরিজের আগে প্রায় সবারই একটা ধারণা ছিল টেস্ট সিরিজে একতরফাভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভাব বিস্তার করবে। তবে তাদের দল ঘোষণার পর প্রথম সরির পাঁচ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, না একটু লড়াই করার মতো সুযোগ অন্তত আছে বাংলাদেশের।

পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের দেশের মতো উইকেটের আচরণ দেখে মনে হয়েছে আমাদের ব্যাটসম্যান ও স্পিনাররা দরুণ একটা সূচনার মঞ্চ পেল। তবে টস জেতার পর সিদ্ধান্ত, প্রথম একাদশ নির্বাচনে তাইজুল ইসলামকে না রাখায় যত আক্ষেপই থাকুক না কেন, এমন স্লো উইকেটেও দক্ষিণ আফ্রিকা পেসারদের দাপটে ৩৩ ওভারে অলআউট ও ৩৩৩ রানের ব্যবধানের হার বলে দেয় গতিময় জাত পেসারদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি রিভার্স সুইং ও কার্যকর বাউন্সার মোকাবিলায় রক্ষণাত্মক কৌশলের উন্নয়নে অনেক অনুশীলন ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করা প্রয়োজন। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্সের বিপক্ষে কিছুটা অনুশীলনের সুযোগ পেলেও তার সুযোগ কমে যায় যখন হ্যাজেলউড আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন। ভালোমানের রিভার্স সুইং দেখেছি এবার মিরপুর স্টেডিয়ামে, তবে অতিরিক্ত গরমের কারণে স্পেনও ছিল ছোট। দুটি টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেললেও পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ভালো অনুশীলন করতে পারেনি আমাদের ব্যাটসম্যানরা।

টসের সিদ্ধান্তের চেয়ে তাইজুলকে একাদশে না নেওয়াটা একটা বড় ভুল ছিল। মিরাজের জায়গায় তিনি খেলতে পারতেন। তবে এই ভুলগুলো থেকে দলকে টেনে তোলার সুযোগ প্রথম ইনিংসে আমাদের সব ব্যাটসম্যানই পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত রানের সংগ্রহ বা বড় জুটি করে ৪২৫ রানের কম-বেশি করতে না পারার দায়টা তাদেরেই। এমন ব্যাটিং সহায়ক পিচের দেখা দক্ষিণ আফ্রিকাতে দ্বিতীয়বার পাওয়া যাবে না।

বোলিং ক্রিজের কোণা থেকে ডেলিভারি দিয়ে বা রিভার্স সুইংয়ে আমাদের গতিরোধের রণকৌশলের তালিম যদি কোচ আগাম বুঝতে পেরে দিয়েও থাকেন তবে তার প্রয়োগ যথার্থ হয়নি। একইভাবে মাহমুদউল্লাহ অনেক টেস্ট ম্যাচে আউট হয়েছেন যেভাবে, সেই জায়গাটি মেরামত ঠিকমতো করতে হবে কোচকে। তামিম দ্রুত আউট হয়ে গেলে দলের অবস্থা কী দাঁড়ায়, তা দ্বিতীয় ইনিংসে দেখতে পেলাম। ইমরুল কায়েসের দলে নড়বড়ে অবস্থান, মাহমুদউল্লাহ ও মুমিনুলেরর প্রতি পূর্ণ আস্থা নির্বাচকদের না থাকা, অনভিজ্ঞ লিটনের সংযোজন, টেস্ট ক্যারিয়ারে মুশফিকের দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাট করার অভিজ্ঞতা না থাকা- এই সব বিষয় ভেবে কিছুটা আস্থার সংকট থেকেই টস জিতে ব্যাট করার ঝুঁকি নেয়নি বাংলাদেশ। উইকেট যতই শুষ্ক থাকুক না কেন, টেস্ট ম্যাচের প্রথম দুই ঘণ্টা বোলারদের জন্য ভালো করার জায়গা। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের উইকেটেও দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের সাফল্য বলে দেয় প্রথম দিনে সুযোগ পেলে তারা আমাদের বোলারদের চেয়ে অনেক ভালো বল করতো।

দ্বিতীয় ইনিংসে এভাবে ভেঙে পড়াটা মোটেও সুখকর না হলেও ইতিপূর্বে অনেক দলের ক্ষেত্রেই ঘটেছে এমনটা। কিন্তু যখন খেলোয়াড়রা বুঝতে পারে সামর্থ্যের সেরাটা কেউ দিতে পারলো না, তখন শারীরিক ক্লান্তির চেয়ে নিজের মনের সঙ্গেই লড়াই চলে বেশি।

দ্বিতীয় টেস্টের আগে এই অলস সময়ে নিজেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের জন্য। কারণ খেলোয়াড়কে নিজের খেলাটা যে তাকেই খেলতে হবে ২২ গজের মঞ্চে।

/কেআর/

লাইভ

টপ