চমৎকার শুরু হোক বাংলাদেশের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৩৩, অক্টোবর ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৪, অক্টোবর ০৬, ২০১৭

.টেস্ট ম্যাচ বরাবরই কঠিন এবং বিদেশে সফরের সময়ে সেটা আরও অনেক বেশি কঠিন। প্রতিপক্ষ তার সফলতার জন্য সফরকারী দলকে সামান্যতম হুমকি মনে করলে দলগত শক্তির আলোকে পিচ নিজেদের জন্য সহায়ক করায় মনোযোগী হয়। আর চারিত্রক বৈশিষ্ট্যের আলোকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পিচের গতি ও বাড়তি বাউন্স এশিয়ার সব দলের ব্যাটসম্যানদের দক্ষতার পরীক্ষা নিতে উন্মুখ হয়ে থাকে। বহু বছর পর সেখানে সফর করে তার স্বাদ ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের আগে হারানো মনোবল ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় ছিল পুরো দল, কিন্তু এমন সময় তামিমের ইনজুরির খবর দলের জন্য বড় এক দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে। প্রতিপক্ষ যখন দক্ষিণ আফ্রিকা, তখন সাকিব ও তামিমকে ছাড়া দলে ভারসাম্য রক্ষা করে মনমতো প্রথম একাদশ গড়ার চেয়ে মাঠে লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে এভাবে ভেঙে পড়াটা নিয়ে মুশফিকের বিচলিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিংয়ে নতুন বলে সফলতার সঙ্গে পুরানো করে দেওয়ার কৌশল এখন আর তেমন কার্যকর নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলাররা পুরানো বলে রিভার্স সুইংয়ে কতটা কার্যকর, সেই সামর্থ্য তারা করে দেখিয়েছে। মর্নে মরকেলের দ্বিতীয় টেস্টে অনুপস্থিতি কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সাম্প্রতিককালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে উচু মানের স্পিনারদের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ করে এশিয়ান প্রতিপক্ষকে নতুন, অর্ধেক পুরানো ও পুরানো বলে যথেষ্ট চাপের মুখে রেখেছে।
সেই কারণেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও যথেষ্ট উৎকণ্ঠিত, কারণ তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের বিপক্ষে তাদের সামর্থ্যের উচু দরের পরীক্ষায় এই টেস্টে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন। দ্রুত নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটা বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের বরাবরই অনেক চরম মূল্য দিয়ে শিখতে হয়। ব্লুমফন্টেইনের সবুজ ঘাসের উইকেট থেকে আমাদের বড় প্রাপ্তি হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে বল ছাড়ার কৌশল, ডিফেন্স ও প্রয়োজনে শর্টপিচ বলে স্টোকস খেলতে আমাদের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য এই প্রতিকূল অবস্থায় কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা বোঝা যাবে।

এই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা বুঝতে পারবে আগামী দিনের বোলাররা দলের পেস বোলিংকে কতটা সাবলীল রাখতে পারবে। প্রথম সারির অভিজ্ঞ ও বয়স্ক চারজন বোলারই আহত এবং আজ হয়তো প্যাটারসনের বল হাতে অভিষেক হতে যাচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতার স্বল্পতাকে কাজে লাগানোর একটা বড় সুযোগ সৌম্য-ইমরুলসহ দলের সকল ব্যাটসম্যানদের। তবে টেস্ট ম্যাচে সব ব্যাটসম্যান সফল হয় না এবং যে দুই তিন বল ব্যাটসম্যান দীর্ঘ সময় পিচে অবস্থানের সুযোগ পাবেন, তাদের অন্তত একজন যদি সেঞ্চুরিসহ বড় মাপের রান সংগ্রহ করতে না পারেন তবে এই টেস্টও একপেশে হয়ে যাবে।

যতটুকু তথ্য পেয়েছি সেই আলোকে বলা যায় আজ টস জিতে বা হেরে আগে বল করতে পারলেই ভালো হবে। ঘাস ছেচানো পিচ ও প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের অগোছালো ব্যাটিংয়ের কথা মনে করে দু প্লেসিস আগে বল করতে চাইবেন বলে আমার বিশ্বাস। যদিও প্রথম টেস্টে আমাদের ছন্নছাড়া বোলিং ও তাদের ব্যাটিং গভীরতা তাকে আগে ব্যাট করতে উদ্ভুত করতে পারে।

আহত তামিমের জায়গায় সৌম্য, মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় তাইজুল খেলবেন এটা অনুমেয়। পেস বোলিংয়ে তাসকিনের জায়গায় রিভার্স বল করার ক্ষমতা সম্পন্ন রুবেলকে দেখা যাবে আশা করছি। শফিউল নেহাত মন্দ বল করেননি, তবে প্রতিশ্রুতিশীল শুভাশীষকে পরখ করে দেখে নেওয়ার জন্য শফিউলের জায়গায় তিনি দলে এলে প্রথম টেস্টে ব্যর্থ পেস বোলিং বিভাগ নতুন একটা উদ্যোমেই টেস্ট উজ্জীবিত করবে আমার বিশ্বাস। পেস বোলারদের সহায়তা করার মতো গতি, বাউন্স ও সুইংয়ের ২২ গজের সেরা মঞ্চ এই টেস্ট পেতে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা।

‘সকলের তরে সকলে মোরা’ এই প্রত্যয় নিয়ে প্রথম দিন একটা চমৎকার শুরু পাক বাংলাদেশ, এই প্রত্যাশা রইল। 

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ