হারানো আস্থা ফিরে পেতে হবে বাংলাদেশকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:০০, অক্টোবর ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১০, অক্টোবর ১৪, ২০১৭

.ভিন্ন ফরম্যাটের খেলা, নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন। প্রথম ওয়ানডে থেকে হারানো আস্থা ফিরে পাবে, সতীর্থদের কাছে এটাই চাইবেন লড়াকু মাশরাফি মুর্তজা। ম্যাচ জেতা বা হারার চেয়ে দলের লড়াকু মনোভাবকে চাঙ্গা করাই হবে তার অন্যতম প্রধান কাজ। একদিনের ম্যাচে দলের কাছ থেকে সবার অনেক প্রত্যাশা, তেমনই মাশরাফিও তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে নিজের ও সতীর্থদের সেরা ফর্মে দেখতে চাইবেন।

ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন সিরিজের সম্মুখীন হতে যাওয়ার বার্তা অনুশীলন ম্যাচেই পেয়েছেন মাশরাফি। টেস্ট ম্যাচের মতো অনুশীলন ম্যাচেও বিশাল রানের উদ্বোধনী জুটি; এটা বলে দিচ্ছে, নতুন বলে আমাদের ব্যর্থতা প্রতিপক্ষকে সবসময়ই দারুণ শুরু করার সুযোগ দিচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে আগে বা পরে যখনই বল করুক না কেন, দ্রুত ব্রেক থ্রু আনতে না পারলে সেই ম্যাচে মাঝারি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কুইন্টন ডি কক টেস্ট সিরিজে মোটেই ভালো ব্যাট করেননি। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সম্ভবত তিনি ওপেনিং করবেন। তাই তিনিই বাংলাদেশের বোলারদের কাছে সহজ লক্ষ্য হতে পারেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পিচ বড় বেশি ভালো। এখানে সমান গতি ও উচ্চতায় বল ব্যাটে আসে, আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য বাউন্সটা একটু বেশি। যে পিচ থেকে কম বেশি ৩৫০ পর্যন্ত রান করা যায়, সেখানে জায়ান্ট দল তাদের অভিজ্ঞতা ও নিজের প্রতি অগাধ আস্থার কারণে সবসময় ছোট দলের চেয়ে মাঠের নৈপুণ্যে ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এমন কঠিন প্রতিপক্ষ, বাউন্সি পিচ ও কৌশলগত দিক থেকে আমাদের মতো দল খেলার আগেই অনেক বিষয় বিবেচনায় এনে পিছিয়ে পড়ে। টেস্ট সিরিজে ঝিমিয়ে পড়া অন্যদের চাঙ্গা করার কঠিন দায়িত্ব নিতে হবে ওয়ানডে সিরিজে নতুন করে দলে ঢোকা মাশরাফি, সাকিব বা নাসিরদের। আমার মতে, আমাদের সেরাটা দেওয়ার পরও ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি হুমকি হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে আসা এবি ডি ভিলিয়ার্স, জেপি দুমিনি ও ইমরান তাহিররা।

দুই ফরম্যাটের ম্যাচে এইডেন মারক্রামের এত রান করাটা নিছক তাকে নির্বাচিত করার বিপরীতে তার ধারাবাহিক দায়িত্ব পালনের এক বিরাট নজির, এটা আমাদের দলের সদস্যদের অনুধাবনের বিষয়। আমাদের অনেকেই ধারাবাহিকতার চেয়ে তাদের সম্ভাবনা ও আকর্ষণীয় স্ট্রোকস খেলার সামর্থ্যের আলোকে একাদশ খেলার অনেক সুযোগের যে অপচয় করছেন বা করেছেন সেটা উপলব্ধি করতে তারা পেরেছেন বলে আমার বিশ্বাস।

এই প্রথম ওয়ানডে লড়াইয়ের জন্য কেমন হবে বাংলাদেশের একাদশ! সম্ভাব্য তথ্যের আলোকে তিন সিমারের সঙ্গে অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে নিয়েই সম্ভবত বোলিং আক্রমণ শাণিত হবে। মোস্তাফিজের পাশাপাশি তাসকিন কিংবা রুবেলকে দেখা যাবে মাশরাফির সঙ্গে। আমার ধারণা, এবার ভাগ্যবলে আগে বল করতে হলে প্রথম পাওয়ার প্লের চেয়ে শেষ ১০ ওভার বল করা হবে এক বিরাট অভিজ্ঞতা। পেস বোলার হিসেবে ১০ ওভারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বল করার স্বপ্ন দেখা ও বাস্তবায়নের জন্য সেরাটা দেওয়া হবে একজন বোলারের জন্য আকাঙ্ক্ষিত অর্জন। তবে একাধিক বোলার ওভার প্রতি গড়ে ৭ বা তার উপর রান দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় সমমান দলের ৪০০ রানের উপরে সফল তাড়া করা ম্যাচও প্রত্যক্ষ করেছি আমরা।

ইমরুল টেস্ট ও অনুশীলন ম্যাচে যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। তাই তামিমের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় লিটন দাসকে ওপেন করতে দেখলে খুশি হবো। তাহলে ডান ও বাঁ হাতের নতুন কম্বিনেশনের একটা জুটির পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিন নম্বরে ব্যাট করার জন্য  সাব্বিরকে হাথুরুসিংহে কীভাবে তৈরি করেছেন, সেই বড় চ্যালেঞ্জ তার জন্য অপেক্ষা করছে। সাব্বির-মুশফিকের পর নাসিরকে অবশ্যই সুযোগ দেওয়া উচিত। দলে টিকে থাকার জন্য কঠিন পরীক্ষায় পাশ করার একটা সুযোগ তার পাওয়া উচিত এবং সাকিবের পাশাপাশি তিনি কঠিন কন্ডিশনে কিছু ওভার বলও করতে পারবেন।

এবার কিন্তু দুই প্রান্ত থেকে নতুন সাদা বল ব্যাটসম্যানদের মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের দেশের স্লো উইকেটে এটি অনেক উপভোগ্য হলেও খেলাটা যখন দক্ষিণ আফ্রিকায়, তখন ব্যাটিংকে উপভোগের মাত্রায় নিয়ে আসাটা হবে নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে পারলে এই পিচই ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার রশদ জোগাবে। চাই দারুণ একটা শুরু এবং সেটা যেন ক্ষণস্থায়ী না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ