দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে সাকিবদের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:৫৪, অক্টোবর ২৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০, অক্টোবর ২৬, ২০১৭

.যখন কোনও বিদেশি দল বাংলাদেশে খেলতে আসে, তারা বড় একটা সুবিধা পায়। সচরাচর তিন ফরম্যাটের সব ম্যাচই দুটি স্টেডিয়ামে খেলে তারা। এতে পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, অনুশীলনের পরিচিত পিচ ও ড্রেসিংরুম তো রয়েছেই। একই সঙ্গে ঘন ঘন তল্পিতল্পা গুটিয়ে হোটেল বদলানোর কোনও ঝামেলাও পোহাতে হয় না। মনোযোগটা ক্রিকেটে দেওয়ার বাড়তি সুযোগ ও সময় তারা পায়।

অন্যদিকে র‌্যাংকিংয়ে উপরের দিকে উঠে আসার লক্ষ্যে ধাবিত বাংলাদেশ দলের জন্য প্রতিটি ম্যাচ ভিন্ন শহরের ভিন্ন মাঠে খেলাটা একটু চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু এই ধরনের ভেন্যুতে খেলে প্রতি ম্যাচে নতুন পিচকে পরখ করে ব্যাট করা এবং পাহাড় বা সমুদ্রের পাড়ে গ্যালারির কংক্রিটের চৌহদ্দিতে আবদ্ধ না থাকায় বোলারদের কখনও ক্রস উইন্ড বা উইন্ড দ্য উইন্ড বল করার একটা চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। শুধু খেলার ফলাফল এবং মাঠে অধিকাংশ খেলোয়াড়দের সময়টা মোটেও ভালো কাটছে না।

এ যাবৎ চারটি মাঠের পিচ থেকে দলগতভাবে অর্জন প্রত্যাশার ছাদ স্পর্শ করতে পারবে না জানা থাকলেও ব্যবধানটা যে এত বেশি হবে ভাবিনি।

আজ খেলা রাতে। কুয়াশার কথা ভেবে রাতের খেলায় কেউ পরে বল করতে চায় না। তবে বর্তমান দলের সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে আমি আগে ব্যাট করার পক্ষপাতী। যেখানে লম্বা স্পেলে আমাদের বোলাররা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না, সেখানে ৪ ওভারের কোটায় দুই বা তিন স্পেলে বোলারদের কুশলতার পরিচয় দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা আজ থাকবেন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক এবং এই ফরম্যাটে লো ফুলটস বা ভালো ইয়র্কার বলে ব্যাটসম্যানরা বাউন্ডারি তুলে নেয়। তাই সর্বোচ্চ চাপে ম্যাচের শুরু ও ডেথ ওভারে বোলারদের বল করতে হবে।

কোনও টুর্নামেন্টে সচরাচর কোনও দলের লিগ পর্যায়ে একবারই দেখা হয়। তাই একে অন্যের শক্তিশালী ও দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ পায় না। তবে দ্বিপাক্ষিক লম্বা সিরিজে প্রতিটি খেলোয়াড় তার মেধার আলোকে নিজের দুর্বল অংশটুকুকে আড়াল করে ম্যাচে নিজেকে আলোকিত করে রাখতে চায়।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তিনদিনের বিরতিতে শেষ ফরম্যাটে লড়াইয়ের জন্য বিশ্রাম ও মানসিক শক্তি আবার সঞ্চয় করার সুযোগও পেয়েছে। ফিল্ডিং ছাড়া বল ও ব্যাট হাতে একসঙ্গে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে না, তাই নিজের দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালনে নিবেদিত হতে দেখলেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আনন্দিত হবেন। সেটাই তখন দলগত নৈপুণ্যের সফল আকার ধারণ করবে। এই বদলে যাওয়া মানসিকতাটুকুই আপাতত দলের কাছ থেকে আশা করছি।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ