রেলিগেশন এড়িয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাস!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫৫, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৪, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

শেষ বাঁশির পর এভাবে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে রহমতগঞ্জ। ছবি-তানজীম আহমেদবাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে টিকে থাকতে শেষ ম্যাচ জিততেই হতো রহমতগঞ্জকে। পুরোনো ঢাকার দলটির ‘মিশন’ সফল। শনিবার সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে রেলিগেশন এড়ানোর পর রহমতগঞ্জের উল্লাস দেখে যে কারও মনে হতে পারে, তারাই এবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন!

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় দলটি। কোচ কামাল বাবু, সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ মালা সহ অনেকের চোখেই তখন জল!

রহমতগঞ্জ বেঁচে যাওয়ায় কপাল পুড়েছে পুরোনো ঢাকার আরেক দল ফরাশগঞ্জের। শুক্রবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে ৩-১ গোলে হারিয়েও তারা রেলিগেশন এড়াতে ব্যর্থ। ১৭ পয়েন্ট নিয়ে ১২ দলের মধ্যে সবার নিচে থেকে লিগ শেষ করেছে ফরাশগঞ্জ। এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে রহমতঞ্জের অবস্থান দশম। রহমতঞ্জের সমান ১৮ পয়েন্ট হলেও গোল গড়ে পিছিয়ে থেকে একাদশ স্থানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। ৪১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে নবাগত সাইফ স্পোর্টিং।

ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে সাইফ স্পোর্টিং পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামেনি। তাদের দলে কোনও বিদেশি ফুটবলার ছিল না। গোল দুটি ঠেকানোরও তেমন চেষ্টা করেনি!

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। বক্সের ভেতর থেকে মিডফিল্ডার নাইমুর রহমান শাহেদের বাঁ পায়ের ভলিতে পরাস্ত হন সাইফ স্পোর্টিংয়ের গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেন।

৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে রহমতগঞ্জ। সাদমান হোসেন অ্যানির থ্রোইন প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার হেড করার পর মোহাম্মদ সোহেলের বাঁ পায়ের ভলিতেই আবার গোল পেয়ে যায় বিজয়ী দল। সোহেলের সামনে থাকা ডিফেন্ডাররা কোনও বাধাই দেননি।

২-০ হওয়ার পর কোনও দল তেমন গোলের চেষ্টা করেনি, বেশিরভাগ সময় বল ঘোরাফেরা করেছে মাঝমাঠে। ম্যাচটা পাতানো এমন গুঞ্জনও তাই শুরু হয়ে যায়। সাইফ স্পোর্টিংয়ের ম্যানেজার ওবায়দুর রহমান অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করলেন, ‘আমরা পাতানো ম্যাচ খেলিনি। ইনজুরি আর কার্ড সমস্যার কারণে বিদেশিরা খেলেনি। আমরা কেন পাতানো ম্যাচ খেলবো? আমার মায়ের কসম, আমরা পাতানো ম্যাচ খেলিনি।’

অন্যদিকে রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবুর দাবি, যোগ্য দল হিসেবেই তার দল জিতেছে, “আমরা সাইফকে বলেছিলাম আমাদের একটু ফেভার করতে। কিন্তু তারা কোনও ফেভার করেনি, একদম ‘না’ করে দিয়েছে। আমাদের জন্য এটা ছিল বাঁচা-মরার লড়াই, আর আমরা লড়াই করে জিতেছি। ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, এই ম্যাচ জিততে না পারলে লিগে আর কোচিং করাবো না। খেলোয়াড়রা আমার সম্মান রেখেছে।”

পরের ম্যাচে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে আরামবাগ। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শেখ রাসেল ষষ্ঠ আর ২১ পয়েন্ট নিয়ে আরামবাগ অষ্টম হয়েছে লিগে। এটাই ছিল এবারের লিগের শেষ ম্যাচ। 

/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ