ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রত্যেক দল কমবেশি ভুগবে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০০:০১, জানুয়ারি ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুপ্রায় এক দশক পর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যদিও খেলেছে। কিন্তু সেটার আমেজ একরকম, আর তিন জাতির সিরিজের অন্যরকম। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে টানা একই দলের বিপক্ষে খেলতে হয়। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হয়, টানা কোনও দলকে পাওয়া যায় না। এখানে ছন্দপতন হলে শুধরানোর সুযোগ থাকে।

এই সিরিজে বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে খেলছে। তাই তারা এগিয়ে থাকছে। টিম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে কিছুটা ফাঁক রয়ে গেছে হয়তো। কারণ আগের টিম ম্যানেজমেন্টে তারা পোক্ত ছিল। বাংলাদেশের সফলতায় আগের কোচের অবদান অস্বীকার করা যায় না। এবার এই জায়গাটা মিস করবে খেলোয়াড়রা। তাছাড়া সদ্য বিদায় নেওয়া কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে প্রতিপক্ষ দলে দেখা যাবে, এটা এই সিরিজকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।

এই সিরিজ প্রতিটা দলকেই কমবেশি ভোগাবে। বাংলাদেশ নিজ মাঠে খেললেও ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে। আবহাওয়ায় শীতের আধিক্য থাকার কারণে খেলা এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। শেষ ইনিংসে যারা ব্যাট করবে, বল করবে তাদের দুই পক্ষই সমস্যায় ভুগতে পারে। বিশেষ করে যারা শেষ ইনিংসে ব্যাট করবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে শীত, ফ্লাড লাইট ও কুয়াশার সঙ্গে। বোলারদের জন্যও খুব একটা সুবিধার হবে না ওই সময়টা। কুয়াশা ভেজা পিচে বল করতে হবে তাদের। বলা যায়, দুই দলেরই জয়ের সম্ভাবনা সমান থাকবে।

অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে উইকেট কেমন আচরণ করবে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। এটা জিম্বাবুয়ের জন্য শুরুতেই চ্যালেঞ্জ। তারা টানা প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে, এজন্য উইকেট বোঝাটা তাদের জন্য কঠিন হবে। এই হিসেবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কাই ফেভারিট। তবে হোমে খেলায় বাংলাদেশই বেশি এগিয়ে। শ্রীলঙ্কা দলে অভিজ্ঞরা আছে, তাছাড়া চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যোগ দিয়েছে। এজন্য তারাও সিরিজ জয়ের দাবিদার।

জিম্বাবুয়ের জন্য একটা ভালো ব্যাপার হলো তাদের দলে ফিরেছেন ব্রেন্ডন টেলর। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বিপিএলের পঞ্চম আসরে খেলা সিকান্দার রাজা, ম্যালক ওয়ালার ও গ্রায়েম ক্রেমারও আছেন এই দলে। কন্ডিশনের সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত থাকায় তারা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। র‌্যাংকিংয়ে দশ নম্বরে থাকলেও ৭ ও ৮ নম্বর দলের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ানরা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশের সাবেক বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক এখন তাদের প্রধান কোচ। এটা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা।

প্রতিটা দলের সিম বোলাররা উইকেট থেকে সহায়তা পাবে। বিপিএল ও তার আগে কয়েকবার উইকেট নিয়ে তীর্যক মন্তব্য শোনা গেছে। তাই উইকেটের ওপরও নির্ভর করছে এই সিরিজ কতটা আকর্ষণীয় হবে। এটা খানিকটা ব্যাটসম্যান ও সিমারদের সহায়ক হবে। তবে স্পিনাররা ততটা সুবিধা পাবে বলে মনে হয় না। শেষ ভাগে তাদের জন্য বল করা কঠিন হবে, প্রথম ভাগেও অসুবিধা হতে পারে কিছুটা। উইকেট নিয়ে সমালোচনার কারণে কিউরেটরের মাথায় উইকেটের উন্নতির যে চাপ তাতে স্পিনাররা আধিপত্য দেখাতে পারবে না। কুয়াশা তাদের জন্য বড় বাধা। এই সুযোগে সিমাররা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সফরের আলোকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন এসেছে। ফর্মহীন ব্যাটসম্যানের জায়গায় সঠিক খেলোয়াড়ের কম্বিনেশন হয়েছে। এনামুল হক বিজয়ের অন্তর্ভুক্তি দলে নতুন মাত্রা দিতে পারে। এবার তাসকিন আহমেদ নেই। তাই ধারাবাহিক পেস আক্রমণ এবার পাচ্ছি না আমরা। মাশরাফি মুর্তজার সঙ্গে যে দুইজন সিমার থাকতো, এবার সেখানে পরিবর্তন আসছে। মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন। তিনি দেবেন ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা। তবে সবাই নিজেদের প্রমাণ করার অবস্থায় আছে। সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনও এই কাতারে।

প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ। এজন্য আমাদের প্রত্যাশা থাকবে ভালো শুরু করার। তাছাড়া জিম্বাবুয়ের সামনে বড় হুমকি হবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। কারণ তারা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি, এটা তাদের দুর্ভাগ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে অনুশীলনের মধ্যে আছে। তাই প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশই ফেভারিট।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ