পরিকল্পনা ও সামর্থ্যের ঘাটতি এই ম্যাচেও বিদ্যমান ছিল

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১২:৩০, জুন ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩১, জুন ০৬, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুএকই মাঠে সবগুলি ম্যাচ হওয়ার সুবাদে পিচ নিয়ে একটা সুস্পষ্ট ধারণা প্রথম ম্যাচ থেকে পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই আলোকে প্র্রথম কাজটি হওয়া উচিত ছিল মেহেদী মিরাজকে দলে সংযোজন করা। বাদ দিতে পারতেন সাব্বিরকে অথবা সৌম্য সরকারকে এই ম্যাচে ৭ নম্বরে ব্যাট করানোর জন্য দলে নেওয়ার কোনও যুক্তি আমি খুঁজে পাই না। স্পিন বান্ধব এমন পিচে মেহেদী মিরাজ যদি সুযোগ না পান এবং দলের বোলিং আক্রমণে ধার ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর বিবেচনায় বা পরিকল্পনায় তার স্থান না পাওয়াটা টিম ম্যানেজমেন্টের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আবু হায়দার রনি তার দলে অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিতার প্রতিদান অনেক বেশিই দিয়েছেন বল ও ব্যাট হাতে। মূলত তার ও রুবেলের করা প্রাথমিক ৬টি মিতব্যয়ী বোলিং বাংলাদেশকে ম্যাচে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাদের কার্যকর লেন্থের ভেরিয়েশন ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে আমাদের বোলিংয়ে শুরুতেই নাজমুল হোসেন অপুর অসাধারণ প্রথম তিন ওভারের সঙ্গে অন্য প্রান্ত থেকে যদি সাকিব বল হাতে যোগ্য সমর্থন দিতে পারতেন তাহলে ১৩৪ রানকে ডিফেন্ড করার সেরা আবহাওয়া সৃষ্টি হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য সাকিবের বোলিংয়ের বিপক্ষে আফগানদের ব্যাট ছিল অনেক বেশি সোচ্চার। লিটন দাস দলে থাকলে কিপিং গ্লাভসটা তার কাছেই থাকা উচিত। তাহলে প্রথম ওভারেই শাহজাদ সাজঘরের পথ ধরতে হতো।

মেহেদী মিরাজের অনুপস্থিতি মোসাদ্দেক ভালোই সামাল দিয়েছেন তবে মিরাজ দলে থাকলে শেষ দুই ওভারের জন্য দুই পেস বোলারকে নিশ্চয়ই সাকিব রাখতেন না। সিরিজে সমতা আনার শেষ সুযোগটা বাস্তবায়নে সেরা অপশন বেছে নেওয়ার জন্য তার পছন্দ বেশি থাকতো।

এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কুড়ি ওভারের খেলায় ৮জন ব্যাটসম্যানের একাদশে ঠাঁই পাওয়া দেখে যে কারোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়বে যে এত অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যের ওপর কি কোনও ভরসা নেই বা বোলিং করে আফগানদের আউট করার জন্য প্রয়োজনীয় বোলার সংযোজনে ঘাটতি তাদের নজর এড়ায় কীভাবে। একটা সিরিজের কথা মাথায় রেখে তিন নম্বরে কে ব্যাট করবেন তা নির্ধারণ হয় এবং সেই খেলোয়াড়টি যখন সাকিবের মতো কেউ হন তাকে দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ নম্বরে নেমে ব্যাট করার পরিকল্পনাটা ছিল নেতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। দলনায়ক ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে থাকার কারণে ব্যাট হাতে সর্বাধিক বল খেলার সুযোগটি তারই গ্রহণ করা উচিত ছিল।

আফগানরা দ্বিতীয় ম্যাচের পাওয়ার প্লেতে মজিবর কে দিয়ে প্রথম তিন ওভার টানা বল করালো। তাদের পরিকল্পনায় মজিবরের সামর্থ্যের ওপর আস্থা ছিল দলনায়কের। তিন নম্বরে ডানহাতি সাব্বিরের উপস্থিতি তাদের পরিকল্পনায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।

যদি ব্যাট হাতে আমাদের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যের কথা বলি তবে এই মন্থর পিচ ছিল তাদের নৈপুণ্য প্রদর্শনের প্রধান প্রতিপক্ষ। মন্থর পিচে নিজেদের খেলার ধরন পাল্টানোর পর্যাপ্ত অনুশীলন তারা একই ধরনের পিচে দেশে খুব একটা করতে চান না বলে শুনেছি। সেটা স্পষ্টে চোখে ধরা পড়লো আবারো। তবে আফগানদের স্পিন কোয়ালিটি ও বল করার জায়গা ও ভেরিয়েশন ছিল নিঃসন্দেহে অসাধারণ। মন্থর পিচে ব্যাট করার অনুশীলন ও কৌশলের ঘাটতির অনেক বড় মূল্য দিতে হলো দ্বিতীয় ম্যাচেও। এই ম্যাচের শেষ দশ ওভারের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে ১৫৫ রানের আশেপাশে থাকাটা মোটেই অসম্ভব ছিল না।

মানের দিক থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানদের আমি এখনও এগিয়ে রাখবো কিন্তু পিচের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কাজটি আফগানরা ভালো করেছে। রানের চাপের আতঙ্কও তাদের গ্রাস করেনি। বিশেষ করে ব্যাকফুটে শরীরের অনেক কাছ থেকে শটস খেলার কৌশলে তারা অনেক পারদর্শীতা দেখিয়েছে। সিরিজ জেতার পরও তেমন একটা উচ্ছ্বাস আফগানদের মধ্যে দেখলাম না। মনে হলো তারা আগে থেকেই ফলাফলটা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। যোগ্যতর দল হিসেবেই টি-টোয়েন্টি এই সিরিজটি তারা জিতেছেন।

এই ফরম্যাটে আমাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে খেলার মাঠে, দল নির্বাচনে ও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনাতেও। সিরিজের শেষ ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী একটা দল হিসেবে মাঠে বাংলাদেশকে দেখলে এই সিরিজ হারের বেদনা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।    

/এফআইআর/

লাইভ

টপ