ফর্মের ধারাবাহিকতা কাজ অনেক সহজ করে দেয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৮:০৮, জুলাই ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, জুলাই ১৩, ২০১৮

ক্রিকেটে যদি ইন ফর্ম খেলোয়াড় থাকে, তারা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে ফেলতে পারে। কারণ ধারাবাহিকভাবে রান করা ব্যাটসম্যানকে বোলারদের পক্ষে চ্যালেঞ্জ জানানো কঠিন। ইন ফর্ম খেলোয়াড় দলের জন্য সবসময়ের সম্পদ। আর শুরুতেই যদি এমন কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে সেটা দলের জন্য আরও আশীর্বাদ। যেটা ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট করে দেখালেন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে। যাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানসিকভাবে অনেক বেশি এগিয়ে যায়।

সাকিব টস জেতায় বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধা পায়। বিপরীতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল চমৎকার সূচনার। সেটা ব্র্যাথওয়েটের কল্যাণে খুব ভালোভাবেই করতে পেরেছে ক্যারিবিয়ানরা।

আমি ভেবেছিলাম আমাদের পেস বোলাররা আরও একটু সুযোগ পাবে। ভেবেছিলাম টস জিতে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়গুলো দেখব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা দেখার সুযোগ হয়নি। সাকিব নিজে স্পিনার হওয়ার কারণে হয়তো স্পিনারদের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন। কিন্তু বল একটু বেশি টার্ন করার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি হয়েছে। ছোট টার্ন হলে হয়তো এইজ আরও বেশি নিতে পারতো। এছাড়া আমাদের স্পিনাররা যদি লাইনটাকে আরও একটু মানিয়ে বলগুলো ভেতরের দিকে টার্ন করানোর চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো তারা এত বল ছেড়ে দিতে পারতেন না।

প্রথম সেশনে ৩৫ ওভারে ৭৫ রান প্রমাণ করে ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের স্পিনের বিপক্ষে পরিকল্পনা করেই ব্যাটিং করেছেন। বিশেষ করে ব্র্যাথওয়েট প্রথম সেশনে অনেক বেশি বল খেলেছেন। তিনি সামনের পায়ের চেয়ে পেছনের পায়ের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করছেন। ব্যাকফুটে অনেক বেশি খেলেন বলে স্পিনারদের খেলতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। যদিও তার ব্যাটিং কৌশল দেখে আমার কাছে কখনোই খুব একটা ইমপ্রেসিভ মনে হয়নি। কিন্তু তার ব্যাটিং মেধা, বল নির্বাচক ও বল টেম্পারমেন্টের প্রশংসা করতে হবে। এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যে কীভাবে খেলতে হয়, এর উদহারণ হতে পারেন ব্র্যাথওয়েট। হয়তো তার যথেষ্ট পরীক্ষা বাংলাদেশের বোলাররা নিতে পারেনি। তবে যতটুকু পরীক্ষার সামনে পড়েছেন, খুব ভালোভাবেই পাস করেছেন তিনি।

উইকেটের কথা যদি বলি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য আরও ভালো হয়েছে। এখানে বোলারদের প্রাধান্য কমেছে, ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে অনেক রান এসেছে। এখানেও আমি বলব ধারাবাহিকতার কথা। শিমরন হেটমায়ার, যিনি অনুশীলন ম্যাচেও একটা সেঞ্চুরি করেছিলেন, এই প্রথম তার খেলা দেখার সুযোগ হলো। তিনি যখন ক্রিজে নামেন, তখন হয়তো বল এতটা টার্ন করছিল না। তারপরও তিনি সামনের পায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছোট খাটো কোনও ভুল তাকে করতে দেখিনি। আমি নিশ্চিত হেটমায়ার অনেক দূর যাবেন।

হেটমায়ার সফল হলেও শাই হোপ সেভাবে পারেননি। আউট হয়ে যান তিনি। তাইজুলের বলে অবশ্য বাড়তি বাউন্স ছিল। স্পিনারদের বিপক্ষে শুরুতেই এমন স্লো উইকেটে ব্যাকফুটে খেললে যে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, সেটা ফ্রন্টফুটে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে গেলে সেখানে স্পিনারদের লম্বা সময় মোকাবিলা করতে হবে, এই বিষয়গুলো খুব ভালো করেই জানা আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ধীরে ধীরে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনের বিপক্ষেও দারুণ দক্ষ হয়ে উঠছে। 

আমাদের পেস বোলারদের কাছ থেকে আমরা প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স পাইনি। যদিও ওদের ব্যবহার করা হয়েছে খুব কম। কামরুল ইসলাম রাব্বিকে কিছু শর্ট বল করতে দেখলাম, এই শর্টবল দিয়ে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভীতি ধরানোর চেষ্টা কিংবা কোনও একটা উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়নি। উইকেট সব সময়ই স্লো ছিল। বল আমরা খুব বেশি মুভ করাতে পারিনি। আমার একটা ধারণা ছিল ৪৫ কিংবা ৫০ ওভারের পর রিভার্স সুইং কার্যকর হবে। তেমনটা উল্লেখ্যযোগ্য হারে চোখে পড়ল না। এটা আমাকে সত্যিই বিস্মিত করেছে। কারণ দলের সঙ্গে কোর্টনি ওয়ালশের মতো একজন কোচ আছেন। তারপরও এই জায়গাগুলোতে কোনও উন্নতি নজরে আসছে না। 

এই টেস্টের আক্রমণে স্পিনাররা যখন সাফল্য পাচ্ছিল, আমার কাছে মনে হচ্ছিল আরও অনেক আগে তাইজুলকে ব্যবহার করা উচিত ছিল। তাহলে হয়তো বর্তমান চিত্রটা আরও একটু ভালো হতে পারতো। তাইজুল যখন বোলিংয়ে আসেন, তখন প্রায় এক ঘণ্টার মতো খেলা শেষ হয়ে গেছে। উইকেটের সুবিধা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দিন শেষে তাইজুল হয়তো বেশি বোলিং করেছেন, কিন্তু যখন উইকেটে টার্ন বেশি ছিল, তখন তাইজুলকে ব্যবহার করা উচিত ছিল।

প্রথম দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরোপুরি চালকের আসনে বসে আছে। দ্বিতীয় দিনে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত তাদের ফেরাতে হবে। আমাদের ম্যাচে ফিরতে হলে প্রথম সেশনেই আঘাত করতে হবে। এই সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি বড় জুটি হয়ে গেলে শক্ত অবস্থানে চলে যাবে স্বাগতিকরা। 

এই কারণেই প্রথম সেশনটা গুরুত্বপূর্ণ। ওরা যদি প্রথম দুটি সেশন আরামেই খেলে ফেলে, খেলার সম্ভাবনাই অনেক, তাহলে বাংলাদেশেই এই টেস্ট জেতা সম্ভব হবে না। ব্যাটিং নেমে বাংলাদেশকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে। যদিও প্রথম টেস্টের মতো ওদের পেসাররা উইকেট থেকে এতটা সুবিধা হয়তো পাবে না। ওই মুহূর্তে উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন হবে না। তারপরও ওরা দুই সেশন খেলে ফেললে এই ম্যাচে বাংলাদেশের ফেরা কঠিন হবে।

আশা করি বাংলাদেশ নতুন বলটাকে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে। প্রথম সেশনে তিন উইকেট নিতে পারলে আমাদের লড়াইয়ের সুযোগ থাকবে, নয়তো টেস্টে ফেরা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ