কুড়িটি উইকেট তুলে নেওয়াই ছিল একমাত্র প্রাপ্তি

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:৪৬, জুলাই ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৫, জুলাই ১৫, ২০১৮

 

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুতিন দিনেই আবারো টেস্ট ম্যাচ শেষ। জ্যামাইকার স্যাবিনা পার্কের পিচটা দেখে প্রথম দিন শেষে পিচের আচরণ দেখে আমার কখনোই মনে হয়নি বাকি ৩৬টা উইকেট পরবর্তী দুই দিনেই তুলে নেবে। দুই দলের বোলাররাই সমান তালে লড়েছেন শেষ দুইদিন।

তবে টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের সংযত ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে অনেক অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। দেশের বাইরে প্রতিপক্ষের কুড়িটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্ট অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বোলিংয়ের চেয়ে আমাদের ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে এত অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকার পরও তাদের মেধার প্রমাণ রাখতে পারলেন না। তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মুশফিক ও রিয়াদদের ম্যাচ অভিজ্ঞতা বা ব্যাটিং সামর্থ্যের থেকে বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রথম ৬জন ব্যাটসম্যান কিন্তু যে কোন মানদণ্ডেই পিছিয়ে থাকবে।

কিন্তু তাদের এই সীমিত সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ও টেস্ট ম্যাচে লম্বা ইনিংস খেলার দৌড়ে ব্র্যাথওয়েট দলকে দু টেস্টেই দারুণ সূচনা দিলেন। উইকেটের এক প্রান্ত থেকে উইকেটেই পড়লো না এবং এটাই বড় ব্যবধান গড়ে দিলো। তবে এই টেস্ট ম্যাচে প্রথম দিনের প্রথম সেশনে আমাদের স্পিনাররা পিচ থেকে যথার্থ ফায়দাটা আদায় করতে পারলে এই ম্যাচটা হয়তো আরেকটু আকর্ষণীয় হতো। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা যে ব্যাটিং করেছেন তাতে বোলারদের চেষ্টাও বৃথা যেত। আজকাল ম্যাচের পিচ ফ্ল্যাট ও ব্যাটিং সহায়ক হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের স্কিলের পরীক্ষা বোলাররা সচরাচর নিতে পারেন না। এতে অনেক সময় ব্যাটসম্যানরা মনে করেন তাদের স্কিলের কোন ঘাটতি নেই। তারা তাদের ব্যাট থেকে আসা রানের হিসাব নিকাশেই ব্যস্ত থাকেন।

এই টেস্টে কেমার রোচ খেলেননি কিন্তু তার অভাব অন্য পেস বোলাররা বুঝতেই দেয়নি। এই সুযোগে অধিনায়ক হোল্ডার তার সুইংয়ের কারিশমা দেখালেন। আমাদের বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তার সাবলীল সুইং বোলিং, লাইনের নিয়ন্ত্রণ ও বোলিং ক্রিজের ব্যবহার নজর কেড়েছে। তাদের আক্রমণ পেস বোলিং নির্ভর হওয়ায় বলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখার জন্য বৈধ পরিচর্যায় তারা সচেষ্ট ছিলেন। আমাদের ইনিংস দীর্ঘ হলে রিভার্স সুইংয়ে তাদের পারদর্শিতা দেখার আরও সুযোগ হতো। যে জিনিষটি থেকে আমাদের পেসাররা বেশ বঞ্চিত, বলের উজ্জ্বলতা রাখার জন্য স্পিনাররা যথেষ্ট তৎপর মোটেই থাকেন না।

চাপ থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য লিটনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে। মুমিনুলের শেষ ইনিংসের চেষ্টা আলোর দেখা পেল না। সাকিব ও মুশফিক অসাধারণ জুটি খেলাটাকে আরেকটু আকর্ষণীয় করতে পারতো। তবে এটা বলা যায় দলনায়ক হিসেবে সাকিব যদি তার অন্তত দুইজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সহায়তা পেতেন। তবে তার এই অলরাউন্ড নৈপুণ্য হয়তো এতটা ম্লান হয়ে যেত না।

ম্যাচের দুইদিন হাতে রেখে পরাজয় যে কোন অবস্থায় লজ্জাজনক এবং এমন বড় হার ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে আরও অনুপ্রাণিত করবে তাদের মাটিতে আমাদের দলকে না আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে দলের সঙ্গে যারা ছিলেন। পর্যায়ক্রমে ভবিষ্যতের সফরে অনেককেই হয়তো টেস্ট দলে নাও থাকতে পারেন- এটা তারা অনুধাবন করেছেন কিনা জানি না। তাই আমার নজরে নিজের ও দলের জন্য মনে রাখার মতো ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখাতে তারা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং দলের এই ভরাডুবির জন্য ব্যর্থতার দায় তাদের ওপরই বর্তাবে।

/আরআই/এফআইআর/

লাইভ

টপ