বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও অসাধারণ ধারাবাহিকতাই সিরিজ জয়ের মূল চাবিকাঠি

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৮:৩৪, জুলাই ২৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৪, জুলাই ২৯, ২০১৮

885158772b2296f511bf2c544ef23430-5b59cf29302f9যখন ব্যাট ও বল হাতে ধারাবাহিকভাবে খেলোয়াড়রা সফল হন, তখন দলনায়কের জন্য রণকৌশলের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তবে বিচক্ষণ অধিনায়ক দক্ষ হাতে মাঠ পরিচালনার কাজই কেবল করেননি, প্রত্যেকবার টস জিতে পিচের সম্ভাব্য আচরণ আমলে এনে প্রয়োজনে আগে ব্যাট বা বল করার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

শেষ ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে মাশরাফি মুর্তজা নিজেকে উপরে এনে দুর্দান্ত কার্যকর এক ইনিংস খেলেন এবং বল হাতে পুরো সিরিজ জুড়েই ছিলেন দারুণ ছন্দে। বাংলাদেশ যে দুই ম্যাচ জিতেছে, তার প্রত্যেকটিতে পরে বল করে তাদের করা রানকে ডিফেন্ড করতে হয়েছে। কালকের ম্যাচের মতো এত নিখুঁত লাইনে সব বোলারকে সম্মিলিতভাবে বল করতে দেখিনি। তারা যেমন উইকেট বরাবর একই লাইনে বল করতে সফল হয়েছিলেন, তেমনি লেন্থের ক্ষেত্রে একটু টেনে থ্রি কোয়ার্টার লেন্থে বল করে প্রতিপক্ষকে রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলতে বাধ্য করেছেন। ওভার পিচ বল, ফুলটস ও শর্টপিচ বলেই শুধুমাত্র ব্যাটসম্যানরা আক্রমণাত্মক শটস খেলতে পেরেছেন।

এই মন্থর পিচে পেস বলের গতি প্রায়শই কমিয়ে ও অফকাটার বলে প্রতিপক্ষের বোলারদের চেয়ে আমাদের বোলাররা অনেক কার্যকর ছিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলাররা গতিকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য শটস খেলার কাজটি সহজ করে দেয়। তবে তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ যদি মাশরাফির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্য প্রান্ত থেকে নতুন বলে প্রতিটি ম্যাচে রানের গতিকে তার দুর্দান্ত স্পিনের মাধ্যমে আটকে রাখতে না পারতেন তবে এই সিরিজ জেতার কাজটি এত সহজ হতো না। ক্রিজে ক্রিস গেইলের উপস্থিতি যে কোনও বোলারের ওপর অনেক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, সেটা উতরে তরুণ মিরাজ নিখুঁত লেন্থে বল করে তাকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

দ্বিতীয় ম্যাচে রুবেলের এক ওভারে ২২ রানের ঘটনাটি এক পাশে রেখে বিশ্লেষণ করলে এই সিরিজে অন্যতম স্ট্রাইক বোলার ছিলেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচে প্রয়োজনের সময় ব্রেক থ্রু দিয়েছেন এবং কালকের ম্যাচে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা গেইলকে ফেরত পাঠিয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

একই ভাবে মিরাজ দারুণ ফর্মে থাকা শিমরন হেটমায়ারকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের ম্যাচ জেতার স্বপ্নের দর্পণ ভেঙে গুড়িয়ে দেন। সাকিব আল হাসান উইকেট না পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট চাপে রাখেন। মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম স্পেলটি মিতব্যয়ী হলেও সেখানে শাই হোপের টেস্ট ইনিংসের মতো রক্ষণাত্মক ব্যাটিং কিছুটা সাহায্য করবে। খেলার ডেথ ওভারে যে কোনও বোলারের জন্যই বল করা কঠিন, তবে এই জায়গায় আরও উন্নতি না করতে পারলে অনেক ম্যাচই ভবিষ্যতে আমাদের হাত ফসকে বেরিয়ে যাবে।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ৩০১ রানের যে পুঁজি লড়াইয়ের জন্য অধিনায়ক মাশরাফির বোলিং বিভাগকে উপহার দিয়েছিল সেটা ছিল এক কথায় অনন্য। তামিম ইকবাল ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতায় তাকেসহ বিশ্বের অনেক টপ খেলোয়াড়কে ছাড়িয়ে এক ঈর্ষণীয় রেকর্ড স্থাপন করেছেন। তার সঙ্গে সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর নৈপুণ্য ছিল প্রশংসনীয়। সম্মিলিতভাবে দলের প্রথম ৫ জন ব্যাটসম্যান নিয়মিতভাবে এক সঙ্গে জ্বলে উঠলে আগামীতে অনেক ওয়ানডে সিরিজ জেতা যে সম্ভব তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো এই সিরিজ।

সিরিজ জয়ের শেষে তামিমের বক্তব্য ভালো লেগেছে। পরিস্থিতির আলোকে নিজের ধৈর্য্যশীলতাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এই ব্যাপারটি যদি কয়েক বছর আগে থেকে গুরুত্ব পেতো তবে আরও কিছু সেঞ্চুরি তার নামের পাশে থাকতো, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে বয়স মানুষকে পরিণত করে, তার এই অর্জনকে তিনি নিজে বা তার সহযোগী খেলোয়াড়কে টপকে যাওয়ার সুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলে দল উপকৃত হবে।

দলনায়ক মাশরাফি বলেছেন, তিনি আনন্দিত। তবে ভবিষ্যতে উন্নতি করতে হলে দলকে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। দারুণ একটা বার্তা দল ও আগামী দিনের ক্রিকেটারদের জন্য দিলেন তিনি। নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত কোচ স্টিভ রোডসকে অভিনন্দন। অনেক আক্ষেপ থাকলেও কোর্টনি ওয়ালশকেও অভিনন্দন এই সিরিজে তার পেস বোলিং ইউনিটের বলের ধার দেখে। পরদেশে সফল হওয়া বাংলাদেশ দলের সব খেলোয়াড়কে জানাই অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ