টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমাদের জ্বলে ওঠা কঠিন

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৮:৪৭, আগস্ট ০১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৭, আগস্ট ০১, ২০১৮

গাজীএকদিনের ক্রিকেটে আমাদের দল নিজেদের মেধার ওপর যতটুকু আস্থা রেখে ক্রিকেট খেলে তার কাছাকাছিও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। কাল আমাদের ব্যাটিংয়ে টার্গেট কত ছিল জানি না। তবে সীমিত ওভারে এ যাবত সেরা ব্যাটিং বান্ধব পিচে কাল খেলা হয়েছে। শুরুতে দুটি উইকেট হারালেও মনে হচ্ছিল যে দুটি মাঝারি মানের পার্টনারশিপ হলেই দলের রান ১৭০-১৮০ হয়ে যাবে। তেমন পার্টনারশিপের দেখা মেলেনি, বরং উইকেট পড়েছে দুই দিক থেকেই। তাই কিছু চোখ জুড়ানো স্ট্রোকস দেখেই ১৪৩ রানে ইনিংস শেষ হয়ে গেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলাররা তাদের ক্ষুরধার বোলিং দিয়ে আমাদের ব্যাটসম্যানদের আউট করেনি, তবে পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট এবং সেই ফাঁদে তামিম ইকবাল এভাবে নিজের ও দলের মূল্যবান উইকেটটি প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়ে দারুণ একটি মোমেন্টাম দিলো। মূলত আমাদের দুই সূচনাকারী ব্যাটসম্যান একটি করে বল খেলেই বিদায় নিলেন। অ্যাশলে নার্স এক ওভারে বাঁহাতি দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে দৃশ্যপট বদলে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন করে।

পরবর্তী সময়ে তাদের সিম বোলাররা শর্ট অব লেন্থে বল করে সামনের দিকে তেমন শটস খেলতে দেননি। মূলত মাহমুদউল্লাহ কিছু শটস খেলেছেন, বাকিরা স্কোয়ার কাট বা উইকেটের পেছনে শটস খেলেছেন। বাউন্ডারি পেয়েছেন এবং একই শটে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস প্যাভিলিয়নে ফেরত গেছেন। এই আউটগুলো দেখার পর আমি দারুণ ব্যাট করতে থাকা মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে আরেকটু দায়িত্বশীল ব্যাটিং আশা করেছিলাম। এমন পিচে ক্রিজে থেকেই শটস খেলা যায় অনায়াসেই। তিনি কেসরিক উইলিয়ামসের বলে ডাউন দ্য উইকেট না এলে শেষ অব্দি ব্যাট করে যেতে পারতেন। বাংলাদেশ দলের নিশ্চয়ই অজানা ছিল না যে বৃষ্টির কারণে কম ওভার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে ব্যাট করতে হবে। তাই আমাদের সব ব্যাটসম্যানদের এত তাড়াহুড়ো করে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ শটস খেলার কারণ বোধগম্য হয়নি। তবে এই ম্যাচে একটা সুবর্ণ সুযোগ ছিল আরিফুল হকের জন্য, সময় নিয়ে এতগুলো বলে ব্যাট করার সুযোগ আবার এমন ভালো পিচে সচরাচর আসবে না।

ব্র্যাথওয়েট দলনায়ক হিসেবে দারুণভাবে তার বোলারদের ব্যবহার করেছেন। শর্ট পিচ বলে তার ফিল্ডম্যান প্লেসিং ছিল দারুণ এবং সাকিবের ক্যাচটি উইলিয়ামস নিলেন চোখ, হাত-পা ও মস্তিষ্কের এক দারুণ সমন্বয়ে। দলের প্রয়োজনে লোয়ার মিডল অর্ডারের নিষ্প্রভ ব্যাটিং দলকে বাড়তি কোনও প্রেরণা দিতে পারেনি।

বৃষ্টির কারণে সংক্ষিপ্ত ১১ ওভারের খেলায় এক প্রান্ত থেকে মোস্তাফিজুর রহমান দুই উইকেট তুলে নিলেও রান আউটের দুটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে কোনও চাপেই বাংলাদেশ ফেলতে পারেনি। পিচে টার্ন বা বল না থেমে এলে আমাদের স্পিন বোলিং কতটুকু কাজ করবে তা এই ম্যাচ থেকে আন্দাজ করা গেছে।

এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে আমাদের রাতারাতি জ্বলে ওঠা কঠিন। বিচ্ছিন্ন কিছু জয় নিশ্চয়ই পাবো আমরা। পাওয়ার ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে ভালো করার মতো যথেষ্ট প্রস্তুত নই আমরা। টি-টোয়েন্টিতে এই ফরম্যাটের স্পেশালিস্ট খেলোয়াড়দের উপস্থিতি আস্তে আস্তে না বাড়াতে পারলে দল হিসেবে আগামীতে উপরের সারিতে আসাটাও কঠিন হবে। 

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ