নাটকীয় জয়ে সেমিতে ঢাকা আবাহনী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫২, নভেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০১, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

জয়ের পর ঢাকা আবাহনীর উল্লাস। ম্যাচের স্কোর লাইন তখন ২-২। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষা। আর সেই ইনজুরি সময়েই ঢাকা আবাহনীর ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন হাইতির ফরোয়ার্ড কেরভেন্স বেলফোর্ট। তার করা স্কোরে ৩-২ গোলে আরামবাগের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পেয়েছে আকাশী-নীলরা। তাতে সেমিফাইনালও নিশ্চিত হয়েছে ঢাকা আবাহনীর।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ছিলো ভরপুর। তাতে প্রথমার্ধেই হয়েছে চার গোল! দুবার এগিয়ে গিয়েও আরামবাগ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। বরং আবাহনী শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল।

অথচ শুরুটা দারুণ ছিলো আরামবাগের। ৭ মিনিটেই জাল কাঁপায় আবাহনীর। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চিনেডু ম্যাথিউয়ের বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে সতীর্থকে গোল করার সুযোগ করে দেন ক্যামেরুনের পল এমিল। সেখান থেকে শাহরিয়ার বাপ্পী বক্সের প্রান্ত থেকে জোরালো শটে পরাস্ত করেন গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেলকে।

১৮ মিনিটে ডিফেন্ডার রকির জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেনি মারুফুল হকের শিষ্যরা। তবে ৩০ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনে আবাহনী। বক্সে ঢুকে বেলফোর্টের শট গোলকিপার পা দিয়ে রুখে দেন। ফিরতি বলে সানডের হেডটিও রুখে দেন এক ডিফেন্ডার। আবারো বল পেয়ে গেলে এবার আর ব্যর্থ হননি সানডে। চলতি বলে পা চালিয়ে দেন।

দু’মিনিট পর পেনাল্টি থেকে আবার এগিয়ে যায় আরামবাগ। গোলকিপার সোহেল ফেলে দিয়েছিলেন শাহরিয়ার বাপ্পীকে। পেনাল্টি থেকে উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার বোবোজনোভ ইকবালজন নরমাতোভিচ স্পট কিক থেকে গোল করতে আর ভুল করলেন না।

এই এগিয়ে যাওয়াও স্থায়ী ছিলো না আরামবাগের। ৪৪ মিনিটে আবারো সমতা ফেরায় আবাহনী। দক্ষিণ কোরিয়ার মিডফিল্ডার মিনহিয়োক কোর পাসে সোহেল রানা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জালে বল পাঠিয়ে দেন।

বিরতির পরও আবাহনীর সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছে আরামবাগ। কিন্তু আক্রমণে এগিয়ে ছিলো আকাশী-নীল জার্সির আবাহনী। তবে গোলমুখ উন্মুক্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে তাদের।

৬৩ মিনিটে রায়হানের থ্রো ইন থেকে হাইতির বেলফোর্টের হেড গোলমুখের সামনে পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি সানডে।৭৭ মিনিটে সানডের কাটব্যাক থেকে রুবেল মিয়ার জোরালো শটটি বারের ওপর দিয়ে গেলে হতাশা বাড়ে আবাহনীর।

অবশেষে ইনজুরি সময়ে হাইতির বেলফোর্ট দলকে জয় এনে দেন। নাবীব নেওয়াজ জীবনের ফ্রি কিকের পর তপু বর্মনের ডাইভিং হেড। আর সেখান থেকে আলতো টোকায় গোল করে উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন বেলফোর্ট।

এমন জয়ের পর আবাহনী যখন গোল উৎসবে মত্ত তখন উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দেয় আরামবাগ। আরামবাগের ডাগ আউট থেকে রেফারির দিকে তেড়ে যান কয়েকজন। সহকারী রেফারির ওপর চড়াও হন কয়েকজন। আইসবক্স দিয়ে মাথায় আঘাত করতেও দেখা গেছে উত্তেজিতদের। একপর্যায়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

/টিএ/এফআইআর/

লাইভ

টপ