মর্যাদা পুনরুদ্ধারের মিশন এর চেয়ে ভালো হতে পারে না

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০০:২১, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০১, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টির এই সিরিজটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য তাদের প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া মর্যাদার সম্ভ্রমকে ওপরে টেনে তোলার। ব্যাট ও বলে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে একরকম ছেলেখেলা করেছে তারা এই ম্যাচে। চলমান সিরিজের সামগ্রিক ফলাফলের অবস্থান থেকে এর চেয়ে বড় বিজয় হতে পারে না।

খেলা শুরুর আগে এই পিচ থেকে ১৯০ বা ২০০ রান আসতে পারে, এমন মন্তব্য স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি দর্শকদের জানাচ্ছিলেন এক রিপোর্টার। শুনে একটু অবাকই হয়েছি। সন্দেহ ছিল, তার পিচ বিশ্লেষণের মেধার ওপরও। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেট থেকেই এত রান আসা সম্ভব এবং এমন একটি পিচ আমরা তৈরি করলে খেলায় ফেভারিট থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই ভাবছিলাম, মনে হয় না এমন পিচে খেলাটা গড়াতে যাচ্ছে। কিন্তু আসলেই পিচটি ছিল ব্যাটিং উপযোগী। বাউন্সও ছিল ভালো, ধারাবাহিক শটস খেলে ২০০ রান বোর্ডে তোলা অবশ্যই সম্ভব ছিল।

চমৎকার পিচ, মেঘলা আকাশ ও টি-টোয়েন্টির ভয়ঙ্কর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সবকিছুকে বিবেচনায় এনে টস জিতে সাকিবের ব্যাট করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, বাংলাদেশের ১২৯ রান সংগ্রহ দেখে অনেকেই তা ধারণা করতে পারেন। তবে যারা ম্যাচটি দেখেছেন তারা অনুধাবন করতে পেরেছেন ব্যাট হাতে যোগ্য সমর্থন সাকিব তার দলের টপ টু বটম কারও কাছ থেকে পাননি। আকাঙ্ক্ষিত সমর্থন পেলে ১৮০ থেকে ১৯০ রান করা সম্ভব হতো। তবে তা ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট হতো বলে মনে করি না।

খেলাটা ১২০ বলের বলে ভালো ও মন্দ বলের বাছবিচার করে খেলার সুযোগটা ৫০ ওভারের ম্যাচের মতো নেই। তাই পরিণত ও দক্ষ হয়ে ওঠা তামিম-মুশফিকদের জন্য এই ফরম্যাটে তাদের বিচক্ষণতার সেরাটা দেখানোর সুযোগ আনুপাতিক হারে কম এবং সেটা পুষিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে লিটন ও সৌম্য দ্রুত সাজঘরে ফেরায় অসাধারণ একটা শুরু পেয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের শর্ট অফ লেন্থের বলে এই পিচে যতটুকু গতি ও বাউন্স ছিল, তাতে তাদের অসন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয়। শর্ট পিচ বলে আমাদের ব্যাটসম্যানদের মিস টাইমিং বা লিডিং এজ বোলারদের মনে বেশ আনন্দের খোরাক জোগায়। পঞ্চম পেস বোলারের অপশন নিয়ে একাদশ সাজানো দারুণভাবে পুরস্কৃত করেছে তাদের। বিশেষ করে কট্রেল তার কিছুটা শর্ট পিচ বলে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ৪ উইকেট তুলে। আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানরাই তাকে অতি পুরস্কৃত করেছেন।

সব ফরম্যাটেই দ্রুত টিউনিং করে আমরা সফল হবো, সেই পর্যায়ের দল আমরা না। এই ম্যাচে আবু হায়দারের আগে রুবেলের দলে জায়গা পাওয়া উচিত ছিল। ২০ ওভারে ১৪০-১৫০ এর চেয়ে বেশি রান ওঠে এমন পিচ তৈরি করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমাদের জেতার সম্ভাবনা কমে যাবে। ব্যাটসম্যানদের আকাঙ্ক্ষিত অনুমেয় গতি ও বাউন্সে যদি বল আসে, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের ঝড় কেমন হয়, সেই দৃশ্য আজ (সোমবার) আমরা সবাই দেখেছি। তাই ক্যারিবিয়ানদের প্রিয় এই ফরম্যাটে বাংলাদেশকে সফলতা পেতে হলে পিচের চারিত্রিক আচরণ বদলাতে হবে। মন্থর গতি ও স্পিনারদের সামান্য টার্ন ম্যাচে আদর্শ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে, যদি প্রয়োজনীয় সমর্থনটুকু ব্যাটসম্যানরা দিতে কৃপণতা না করে।

এই ম্যাচে পাওয়ার হিটিংয়ের যে নমুনা প্রদর্শন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তা ছিল উপভোগ্য ও বিপদঘণ্টা আমাদের বোলিং ইউনিটের জন্য। এই সিরিজে সমতা আনতে চাইলে দলের একাদশের পরিবর্তনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত পিচের মন্থর আচরণ ফিরিয়ে আনার ওপর।

/কেআর/

লাইভ

টপ