বড়ই একপেশে হয়ে গেল টেস্ট ম্যাচটা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:৩৭, মার্চ ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, মার্চ ০২, ২০১৯

খেলার দ্বিতীয় দিনের শেষে বোঝা যাচ্ছিল এই টেস্ট ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হতে চলেছে। সামান্য একটু আশা ছিল, যদি তৃতীয় দিনের শুরুতে আমাদের বোলাররা দারুণ একটা কিছু করে চমক দেখাতে পারে। বাস্তবতা হলো, খেলা গড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী। তাদের আকাঙ্ক্ষিত পরিকল্পনায় আমাদের কোনও বোলিংয়ের গোলা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে কেন্দ্র করে অন্যপ্রান্ত থেকে সবাই অবদান রেখে গেছেন। শেষ জুটিতে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম তো আমাদের বোলিং নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন ব্যাট হাতে।

২০০ রানের অসাধারণ একটা ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকেই ইনিংস ঘোষণা করলেন উইলিয়ামসন। একটি ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর সেটিকে কিভাবে যত্ন করে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে হয়, তার সেই শৈল্পিক ক্রিকেট ছিল সত্যিই উপভোগ্য। বাস্তবিক অর্থে নিউজিল্যান্ডের এই ইনিংসে হাতে গোনা কয়েকটি ডেলিভারি ছাড়া তাদের কোনও ব্যাটসম্যানকেই আমাদের বোলাররা গতি, সুইং, বাউন্সার বা স্পিনে মোটেই চাপে ফেলতে পারেনি। এত নির্ভার পিচে বিচরণ করে ৭১৫ রান সংগ্রহ ইতিপূর্বে তারা কখনোই করেনি। এত চমৎকার পিচে যেখানে আউট করাটা খুব কঠিন একজন ব্যাটসম্যানকে, সেখানে আজও (শনিবার) মোহাম্মদ মিঠুনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়াটা চোখে কাঁটার মতো বিঁধেছে।

আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসের জবাবটা অনেক ভালো হবে আশা করেছিলাম। আড়াই দিনের দুই ইনিংসের পর্যবেক্ষণের আলোকে ব্যাট হাতে আমাদের দিনটা আরও সফলভাবে শেষ করতে পারব বলে আশা করেছিলাম। তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলামের চমৎকার সূচনার পর বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম তৃতীয় দিনের শেষ তিন ঘণ্টায় ব্যাট হাতে আমরাই সফল থাকব, বিশেষ করে পিচের চারিত্রিক আচরণে উৎকণ্ঠার কোনও কারণই ছিল না।

কিন্তু ক্রিকেটের রণকৌশলে আমরা শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা করতে পারিনি। নেইল ওয়াগনারের অনবরত বডি লাইনে গতির ধারাবাহিকতা বজার রেখে বাউন্সার করে যাওয়ার সক্ষমতার বিরুদ্ধে বেশ কিছু ভালো পুল শট আমাদের ব্যাটসম্যানরা খেললেও তিনিই প্রথম কার্যকর ব্রেক থ্রু এনে দেন এবং ব্যাটসম্যানদের বরাবরই অস্বস্তিতে রেখেছেন। তামিমের বাউন্সার ছাড়ার কৌশলে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ভুল পরিলক্ষিত হয়, যার জন্য তার মূল্যবান উইকেটটি দলকে হারাতে হয়। একজন ভালো ব্যাটিং কোচ থাকার পরও কেন এই কো-অর্ডিনেশনের পেছনে সময় ব্যয় করে তামিমদের এই জায়গাগুলোতে উন্নতি ঘটাতে পারছেন না ভাবতে অবাক লাগে। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের আসল পরীক্ষা দিতে হয় তার মেধার, বিপক্ষ দল যদি সেই দুর্বলতা নির্ণয় করে সফল ‍আঘাত হানতে পারে, তাহলে তা ঠেকানোর জন্য কৌশলগত দিক নিয়ে আমাদের কোচরা কেন নিখুঁতভাবে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে সফলভাবে কাজ করতে পারছেন না। একটি সিরিজ বা টুর্নামেন্টের পর প্রস্তুতির সময় রাখাটা বড়ই জরুরি, এটা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মাথায় রাখা উচিত। ভারতীয় দলের যে সামর্থ্য আছে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার, দল হিসেবে আমরা তার কাছাকাছিও নেই।

মিঠুন ও মুমিনুল হক জীবনের একটা ‘গোল্ডেন চান্স’ মিস করলেন এমন একটা চমৎকার পিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে না পারার কারণে। নিজের মনের মতো ইনিংস খেলার সুযোগ দেশের বাইরের পিচে সচরাচর পাওয়া যায় না। সাদমানের ব্যাটিং আমার ভালো লেগেছে, আশা করি আগামীতে তার ইনিংসগুলোকে তিনি আরও বড় করতে পারবেন। মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকার তাদের সেরাটা দিয়ে লড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাদের পর থাকা লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ খেলাটি কোন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে হারের ব্যবধানটা।

/কেআর/

লাইভ

টপ