‘এবার আমি আরও নির্ভার ও আত্মবিশ্বাসী’

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২১:১১, মে ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৯, মে ২২, ২০১৯

রুবেল হোসেনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে দু ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ ২০১৫ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। পরের ভাগের সূচনা ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে। ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যেতে এই ডানহাতি পেসারের অসীম অবদান। অ্যাডিলেডের সেই ম্যাচে ৪ উইকেট শিকার বদলে দিয়েছে তার জীবন। গত চার বছরের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ রুবেল ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপের আগে দারুণ উজ্জীবিত। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তার কণ্ঠের আত্মবিশ্বাস ধরা পড়লো স্পষ্টভাবে।

দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ইংল্যান্ডে খেলতে নামবেন রুবেলবাংলা ট্রিবিউন: ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার খেলতে নামবেন। ইংল্যান্ডে এই অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগাতে চান?

রুবেল: দুটি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় আমার কাছে অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের অনেক প্রত্যাশা। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপে ভালো খেলতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: গত বিশ্বকাপের আগে আপনার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। তবে চাপ সামলে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে ভালো বল করেছিলেন। চার বছরের ব্যবধানে এবার নিশ্চয়ই আপনি অনেক আত্মবিশ্বাসী?

রুবেল: ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে বিরাট ট্র্যাজেডি এসেছিল আমার জীবনে। সত্যি কথা বলতে কী, ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে তেমন ভালো বল করতে পারিনি। ওই ম্যাচকে আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলতে পারেন। গতবারের তুলনায় এবার অনেক খোলা মন নিয়ে খেলতে পারবো। গত চার বছরে আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। যদিও এবারের বিশ্বকাপ আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: ইংলিশ কন্ডিশনে কী পরিকল্পনা নিয়ে বল করা উচিত?

রুবেল: কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ডে অনেক রান হচ্ছে। ওয়ানডেতে ৩০০ প্লাস রান তো নিয়মিতই হচ্ছে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ডিসিপ্লিনড বোলিং ছাড়া সাফল্য লাভ সম্ভব নয়। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ডিসপ্লিনড বোলিং খুবই জরুরি। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারলে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলগুলোকেও ভালো স্কোরের মধ্যে আটকে রাখতে পারবো। অবশ্য ইংলিশ কন্ডিশনে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমি এখন জানি, ইংল্যান্ডে কীভাবে বল করা উচিত।

গত বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড ম্যাচ ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টবাংলা ট্রিবিউন: এবার একটা অভিজ্ঞ দল নিয়ে বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ। দেশের অনেকে এখনই বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে দেখছে। এ বিষয়ে আপনার কী অভিমত?

রুবেল: গত চার/পাঁচ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে খেলছি। আমাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা তাই অনেক। দীর্ঘদিন ধরে খেলছি বলে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো।  মাশরাফি-সাকিব-মুশফিক-তামিম ভাইয়ের এটা চতুর্থ বিশ্বকাপ। তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে আমাদের কাজে আসবেই।

বাংলা ট্রিবিউন: তার মানে আপনি বলতে চাইছেন বিশ্বকাপে অভিজ্ঞদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে?

রুবেল: দায়িত্ব আসলে দলের প্রত্যেকেরই। তবে সিনিয়ররা ভালো খেললে জুনিয়ররা অনুপ্রেরণা পায়। অবশ্য ম্যাচ জেতার জন্য দলগত পারফরম্যান্স সবচেয়ে জরুরি। দলের সিনিয়র পেস বোলার হিসেবে আমি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত। আর ইংলিশ কন্ডিশনে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলা খুবই জরুরি।

বাংলা ট্রিবিউন: বাড়তি দায়িত্ব বলতে কী বোঝাতে চাইছেন?

রুবেল: কোনও ক্রিকেটারের পক্ষেই প্রত্যেক ম্যাচে ভালো করা সম্ভব নয়। তবে কেউ ভালোভাবে ম্যাচ শুরু করলে তার সেটা কন্টিনিউ করা উচিত। যেমন কেউ ভালো ব্যাটিং করলে ইনিংস শেষ করে আসা তার দায়িত্ব। আবার বোলিং ভালো করলে পুরো ম্যাচেই তা ধরে রাখা দরকার। তা হলেই ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: মাশরাফির শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে আপনাদের বিশেষ কোনও পরিকল্পনা আছে?

রুবেল:  দলের প্রত্যেকে মাশরাফি ভাইকে অসম্ভব সম্মান করে। এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। আমরা চাই তিনি আরও একটা বিশ্বকাপ খেলুন। তবে সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। আমরা অবশ্যই তার শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে চাই। মাশরাফি ভাইকে স্মরণীয় বিশ্বকাপ উপহার দিতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

বেশ কিছু দিন ধরে ডেথ বোলিং নিয়ে কাজ করছেন রুবেলবাংলা ট্রিবিউন: আয়ারল্যান্ড সফরের সাফল্য বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আপনাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে?

রুবেল:  আয়ারল্যান্ড সফরটা আমাদের দারুণ কাজে এসেছে। বিশ্বকাপের আগে এমন একটা সিরিজ প্রয়োজন ছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে আমরা এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। দলের কয়েক জন ক্রিকেটার ফর্মে ছিল না। আয়ারল্যান্ডের সাফল্যে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশেষ কোন পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন?

রুবেল: ইংলিশ কন্ডিশনে জোরে বোলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডে সাফল্য পেতে এর বিকল্প নেই। বিশ্বকাপে জোরে বোলিংয়ের পাশাপাশি ভ্যারিয়েশন ঠিক রাখাই আমার লক্ষ্য। গত কিছু দিন ডেথ বোলিংয়ে কীভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করেছি। কারণ, ইংল্যান্ডে ডেথ ওভারে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে আপনার লক্ষ্য কী?

রুবেল: অন্তত দুই/তিনটি ম্যাচে দলকে জয় এনে দেওয়া আমার লক্ষ্য। এবারের বিশ্বকাপে আমি সেরা পাঁচ বোলারের মধ্যে থাকতে চাই। গত বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড ম্যাচের মতো বিধ্বংসী বোলিং করতে চাই।    

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ কি সেমিফাইনালে খেলতে পারবে?

রুবেল: অবশ্যই, আমাদের প্রথম লক্ষ্য সেমিফাইনাল। শেষ চারে উঠতে হলে দু/তিনটি বড় দলকে হারাতে হবে। সেটা কিছুটা কঠিন, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। প্রত্যেক ম্যাচেই আমরা জেতার লক্ষ্যে মাঠে নামবো। লিগ পর্বে আমরা ৯টি ম্যাচ খেলবো। তাই আমাদের সামনে ভালো রেজাল্ট করার দারুণ সুযোগ। আমরা চাই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে।

/আরআই/এএআর/

লাইভ

টপ