ভয়কে জয় করেছে আবাহনী

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ১৯:৪৭, আগস্ট ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৯, আগস্ট ২২, ২০১৯

আবাহনীর গোল উৎসবফুরফুরে মেজাজে আবাহনীর খেলোয়াড়রা। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজেদের মাঠে হালকা অনুশীলনও করে নিলেন সোহেল রানা-নাবীব নেওয়াজ জীবনরা। এএফসি কাপের নকআউট পর্বে ইন্টার জোন সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ৪-৩ গোলে জিতে একধাপ এগিয়ে আছে মারিও লেমসের শিষ্যরা। উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষ এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের মাঠে ড্র করলেই ইতিহাস লিখবে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

ভয় জয় করেই এসেছে এই সাফল্য। তাতে আত্মবিশ্বাসের পারদ আকাশ ছুঁয়েছে আবাহনী খেলোয়াড়দের। যে আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীদের লক্ষ্য একই পারফরম্যান্স ধরে রেখে ২৮ আগস্ট পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় লেগে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া। অবশ্য অ্যাওয়ে ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার সামনেই পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ক্লাবটি।

ঘরের মাঠের প্রথম লেগেও ঘাম ঝরিয়ে জিততে হয়েছে মারিও লেমসের দলকে। এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভয়ও কাজ করেছিল। ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল জানিয়েছেন তেমনটাই, ‘প্রতিপক্ষ কঠিন হবে, তা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। মাঠে নামার আগে কিছুটা ভয়ও পাচ্ছিলাম। কিন্তু খেলা শুরুর পর সেটা আর থাকেনি। নিজেদের খেলাটা খেলেই জিতেছি। কিছু ভুলের কারণে আসলে আমাদের গোল হজম করতে হয়েছে। তবে ৪ গোল দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাটা আমাদের বড় সাফল্য।’

ঢাকার প্রথম লেগ জিতে দায়িত্ব যে আরও বেড়েছে, সেটাই উচ্চারিত হলো ফরোয়ার্ডের জীবনের কণ্ঠে, ‘দায়িত্ব আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ হারলে চলবে না। জয় না হলেও ড্র করতে হবে, যেন পরের পর্বে যেতে পারি। তাহলেই নতুন ইতিহাস রচিত হবে।’

এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের বিপক্ষে জীবন লক্ষ্যভেদ করেছেন একবার, সঙ্গে আছে একটি অ্যাসিস্টও। ঘরোয়া ফুটবলে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড এখন আরও আত্মবিশ্বাসী, ‘ঘরোয়া ফুটবলে আমি এবার অনেক গোল পেয়েছি। তাতে আত্ববিশ্বাস আগের চেয়ে বেড়েছে। এখন সুযোগ পেলে গোল করার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় নকআউট পর্বে গোল পেয়েছি। এই খেলাটা ধরে রাখতে চাই। নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি, তারই সুফল পাচ্ছি।’

হাইতির ফরোয়ার্ড কেরভেন্স বেলফোর্টের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে একাধিকবার বল নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। সানডের পাওয়া গোলের পেছনেও ছিল তার অবদান। বেলফোর্টও মনে করছেন, ‘আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। দারুণ খেলেই ম্যাচ জিতেছি। এখন দ্বিতীয় লেগেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’

ইনজুরির কারণে প্রথম লেগে খেলতে পারেননি মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম। ফিরতি পর্বে খেলতে পারবেন কিনা, এখনও নিশ্চিত নন তিনি, ‘আমরা হোম ম্যাচ জিতেছি। এখন অ্যাওয়ে ম্যাচেও আমাদের জিততে হবে। প্রথম ম্যাচে দলের সবাই ভালো খেলেছে। গোলগুলো ছিল দেখার মতো। এখন উত্তর কোরিয়ার মাঠে আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ। এখনও আমি পর্যবেক্ষণে আছি। ফিরতি লেগে খেলতে পারব কিনা, বলতে পারছি না। তবে খেলতে পারলে ভালো লাগবে।’

নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকার লেগে খেলতে পারেননি মিশরের ডিফেন্ডার আলা এলদিন নাসের। পিয়ংইয়ংয়ে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি, ‘ঢাকায় খেলতে পারিনি, মাঠের বাইরে থেকে খেলা দেখেছি। তবে দ্বিতীয় লেগে যদি একাদশে থাকতে পারি, তাহলে প্রতিপক্ষের কাউকে সুযোগ দেবো না। তাদের প্রচেষ্টা নষ্ট করাই হবে আমার মূল কাজ। এজন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

/কেআর/

লাইভ

টপ