behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে আশ্রাফ আবির‘আমেরিকায় কিছু হলে সেই ঢেউ জাপান, চীন, ভারত হয়ে বাংলাদেশেও আসে’

হিটলার এ. হালিম১৯:১৯, মার্চ ১১, ২০১৬

আশ্রাফ আবির

৮ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে মোবাইল অ্যাপস ও ইন্টারনেট পণ্য নিয়ে কাজ করছে এমসিসি। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন বর্ষকে সামনে রেখে ভ্রমণ ও আতিথেয়তা খাতে দুটি উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা আনছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি লিমিটেড। ‘ঘুরবো’ নামে হোটেল বুকিংয়ের দেশীয় প্ল্যাটফর্ম চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ভোজনপ্রিয় মানুষের জন্য এমসিসি চালু করেছে ‘লেটস ইট’। এছাড়া অ্যাপ্লিকেশনের বাজারে পণ্য তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নে এমসিসি চালু করেছে ‘এম ল্যাব।’ এসব বড় আকারের মোবাইল অ্যাপস পণ্য বাজারে আনার মধ্যে দিয়ে দেশীয় অ্যাপ্লিকেশনের বাজারে নতুন ধারার সূচনা করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এমসিসির নানা পরিকল্পনা ও মোবাইল বাজারের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আশ্রাফ আবিরের সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) –এর অন্যতম পরিচালক। 

 

অ্যাপসের বৈশ্বিক ট্রেন্ড থেকে আমাদের দেশেও তার ঢেউ উঠেছে। আমেরিকায় কোনও কিছু শুরু হলে তা জাপান, চীন, ভারতে শুরু হয়। তারপর আমাদের এখানেও আসে। অ্যাপের মূল কনসেপ্ট শুরু করেছিল অ্যাপল। তবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বাজারে এসে তা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। সদ্য বিলুপ্ত নকিয়া মোবাইলের ছিল ওভি, নকিয়া স্টোর। অ্যাপের জন্য স্টোরটি খুবই জনপ্রিয় হয়। কিন্তু নকিয়া মোবাইল ব্যবসা মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রির কারণে তা উইন্ডোজ স্টোর হিসেবে মাইক্রোসফটের হাতে চলে যায়। স্টার্টআপ কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করা যোগাযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এখন ১৯ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবও এভাবেই তৈরি হয়েছে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের অ্যাপস বিপ্লব নিয়ে জানতে চাই।

আশ্রাফ আবির: মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপস বিপ্লব সবে শুরু হয়েছে। এখনও আমাদের অনেক পথ চলা বাকি। বিশেষ করে সবে বাংলা ভাষায় অ্যাপ বানানো শুরু হয়েছে। এছাড়া থ্রিজি চালুর পর দেশীয় অ্যাপ ও কনটেন্টের বাজার খুব একটা বড় হয়নি। সরকার এ বছরেই ফোরজি চালু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তখন টেলিকমের বাজারও অনেকটা আইসিটি পণ্য নির্ভর হয়ে পড়বে। সেখানে আমাদের দেশীয় অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক কিছু করার আছে। এজন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। তা না হলে বিদেশি কোম্পানি এই বাজার দখল করে নেবে। এজন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অ্যাপ ডেভেলপার কোম্পানিগুলোকে পণ্য তৈরি ও ক্রমাগত বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে নিজেদের সামর্থ বাড়াতে হবে।

আশ্রাফ আবির (২)

অ্যাপসের বৈশ্বিক ট্রেন্ড থেকে আমাদের দেশেও তার ঢেউ উঠেছে। আমেরিকায় কোনও কিছু শুরু হলে তা জাপান, চীন, ভারতে শুরু হয়। তারপর আমাদের এখানেও আসে। অ্যাপের মূল কনসেপ্ট শুরু করেছিল অ্যাপল। তবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বাজারে এসে তা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। সদ্য বিলুপ্ত নকিয়া মোবাইলের ছিল ওভি, নকিয়া স্টোর। অ্যাপের জন্য স্টোরটি খুবই জনপ্রিয় হয়। কিন্তু নকিয়া মোবাইল ব্যবসা মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রির কারণে তা উইন্ডোজ স্টোর হিসেবে মাইক্রোসফটের হাতে চলে যায়। স্টার্টআপ কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করা যোগাযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ এখন ১৯ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবও এভাবেই তৈরি হয়েছে।
অ্যাপ্লিকেশনের বাজার বিলিয়ন থেকে এখন ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তর হয়েছে। মোবাইলভিত্তিক এ প্রযুক্তি ২০১৬ সালে ৪১ বিলিয়ন এবং ২০২০ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে। এ খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানও হবে। আসলে স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার আমাদের অ্যাপ তৈরিতে উৎসাহ যুগিয়েছে। কমদামে ইন্টারনেট প্রাপ্তিও একটা বড় কারণ। ২০১৫ সালে দেশে ২ কোটি ৬০ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ লাখ হলো স্মার্টফোন। ২০১৩ সালে দেশে স্মার্টফোন আমদানি করা হয় ২৫ লাখ, ২০১৪ সালে ৪০ লাখ, ২০১৫ সালে ৬০ লাখ। ২০১৬ সালে তা হতে পারে ৯০ লাখ অর্থাৎ মোট ফোনের ৩০ শতাংশ। প্রতিবছর স্মার্টফোনের বাজারে প্রবৃদ্ধি ৫০ শতাংশ। দেশে বর্তমানে সক্রিয় মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি (অনেকের একাধিক সিম থাকায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি)। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ (দেড় কোটির কিছু বেশি) স্মার্টফোন ব্যবহার করে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের অ্যাপস বিপ্লবে যুক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাই।

আশ্রাফ আবির: আসলে আমরা ভেবেছি এরকম ‘স্মার্টফোন-ইন্টারনেট-অ্যাপস।’ যদিও অ্যাপের কনসেপ্টই হলো গ্লোবাল। আমরা ভেবেছি স্থানীয়ভাবে সফল হলে বৈশ্বিক বাজারেও সফল হতে পারব। তবে দেশীয় কোম্পানিগুলো যে শতভাগ এ খাতে প্রভাব বিস্তার করেছে তা নয়। তবে বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্তত ২৫০টি প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অ্যাপ তৈরির সঙ্গে জড়িত। তার মানে দেশে এই বাজারটা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। আর এমসিসির উদ্দেশ্য ছিল ইন্টারনেটভিত্তিক পণ্য তৈরি করা। স্থানীয় বাজারের জন্য স্থানীয় ভাষায় কনটেন্ট তৈরি করা। বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।

বাংলা ট্রিবিউন:বাংলাদেশের অ্যাপ মার্কেটের আকার কত বড়?

আশ্রাফ আবির: রফতানি আয়ের প্রায় ২০ ভাগ আসে অ্যাপস থেকে। বলা  যেতে পারে ১০০-২০০ মিলিয়ন ডলারের বাজার এখন আমাদের। এটা আমাদের লোকাল মার্কেট। এই অ্যাপের সঙ্গে মোবাইলফোন অপারেটররাও জড়িত। দিন দিন এই মার্কেট বড় হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে দেশের একটি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবসের নাম বলতে পারি। ওদের তৈরি একটি মোবাইলভিত্তিক গেম হলো ট্যাপ ট্যাপ। এটি এখন পর্যন্ত ৫০ মিলিয়ন ডাউনলোড করা হয়েছে। গেমটি দীর্ঘদিন আইওএসের টপচার্টে ছিল। এরকম অনেক কোম্পানি আছে বিশ্ববাজারে খুব ভালো করছে। কিন্তু বিশ্ববাজারের পাশাপাশি আমাদের স্থানীয় বাজারেওি নজর দিতে হবে। 

আশ্রাফ আবির (৩)

বাংলা ট্রিবিউন: অ্যাপসের বিশ্ববাজার ধরতে আপনাদের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই।

আশ্রাফ আবির: আমাদের শুরু হয়েছিল নকিয়ার স্মার্ট ফোনের জন্য সিমবিয়ান ও জেটুএমই অ্যাপ বানিয়ে। এখন আমরা অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্মে অ্যাপ বানাচ্ছি। বৈশ্বিক বাজারের জন্য বিনামূল্যের অ্যাপ বানালেও তার একটি রেভিনিউ মডেল থাকতে হবে। কারণ কোম্পানিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে স্থানীয় ও এবং বৈশ্বিক যে বাজারেই কাজ করি অবশ্যই উদ্ভাবনী পণ্য বানাতে হবে। আমরা শুরু থেকেই উদ্ভাবনে জোর দিয়েছি। আগামীতে উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। এছাড়া একটি অ্যাপ কোম্পানিকে টিকে থাকতে গেলে তার পণ্যের অবশ্যই সফল মার্কেটিং করতে হবে। আমরা সেদিকে আমাদের মনোযোগ বাড়াচ্ছি। কারণ দিন শেষে আমরা যত ভালো পণ্যই বানাই না তা যদি ব্যবহারকারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে না পারি তাহলে তা সফল হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের বাজারে দক্ষতা উন্নয়নে আপনারা কোনও উদ্যোগ নিয়েছেন?

আশরাফ আবীর: বেসিসের সদস্যভূক্ত নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান অ্যাপস তৈরি করছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই অ্যাপস গেমস বা ই-কমার্সভিত্তিক। যেভাবে অ্যাপ ডেভেলপার বেড়েছে সেভাবে দক্ষতা উন্নয়নে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়নি। গত ডিসেম্বরে আমরা এম-ল্যাব চালু করেছি। যারা  মোবাইলভিত্তিক পণ্য তৈরি করতে চায় তাদের এখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্যবসায়ের প্রসারের জন্য অ্যাপ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এখানে। এ ছাড়াও বিজনেস এবং টেক-এই দুটি বিষয়ে নারীরা কোনও আইডিয়া আমাদের কাছে নিয়ে এলে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। আমরা নারী উদ্যোক্তাদের এই শিল্পে নিয়ে আসতে চাই।

 

রফতানি আয়ের প্রায় ২০ ভাগ আসে অ্যাপস থেকে। বলা  যেতে পারে ১০০-২০০ মিলিয়ন ডলারের বাজার এখন আমাদের। এটা আমাদের লোকাল মার্কেট। এই অ্যাপের সঙ্গে মোবাইলফোন অপারেটররাও জড়িত। দিন দিন এই মার্কেট বড় হচ্ছে। 

বাংলা ট্রিবিউন: অ্যাপস দিয়ে কি নাগরিক বা সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ করা সম্ভব?

আশ্রাফ আবির: অবশ্যই। তবে মোবাইল গভর্নমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হলে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আনতে হবে। তা নাহলে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে গেলে ইনফরমেশনবেজড অ্যাপের পাশাপাশি আমাদের এখন ট্রান্সজেকশন অ্যাপ করতে হবে। যাতে মানুষ পূর্ণ সেবাটুকু মোবাইলফোন ব্যবহার করেই নিতে পারে।

 বাংলা ট্রিবিউন: কোন ধরনের অ্যাপসের চাহিদা বেশি?

আশ্রাফ আবির: যেসস অ্যাপস সাধারণত সমস্যার সমাধান করতে পারে তার চাহিদা বেশি। এখন যেমন নিউজপেপার, ইউটিলিটি বিল পরিশোধের অ্যাপগুলোর চাহিদা বেশি। কিছুদিন আগে সিম নিবন্ধনের একটি অ্যাপ খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। ওই অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসে সিম নিবন্ধন করা যেত।

বাংলা ট্রিবিউন: এমসিসির ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

আশরাফ আবীর: ২০১৬ সালে আমাদের তিন ধরনের ইন্টারনেট প্রাডাক্ট (পণ্য) নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা রেস্তোঁরা, ট্রাভেল অ্যান্ড ফুড এবং বাংলায় মেসেজিং অ্যাপ নিয়ে কাজ করছি। আমাদের একটি অ্যাপের (ভ্রমণ বিষয়ক) নাম ঘুরবো। এটি আসবে ২৬ এপ্রিল। আমরা বাংলায় নামের মেসেজিং অ্যাপটি অবমুক্ত করব শিগগিরই। এটি দিয়ে বাংলায় মেসেজিং করা যাবে।

Lets Eat Mobile App Link

Android: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.mcc.letseat

IOS: https://itunes.apple.com/us/app/lets-eat-restaurant-guide/id1022304280?mt=8

App Promo Video Link: https://www.youtube.com/watch?v=PvODZjwaz10

/এইচএএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ