অন্যকে হাসিয়েই হাসেন তুষার

Send
সুরবি প্রত্যয়ী
প্রকাশিত : ১৭:৫০, অক্টোবর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, অক্টোবর ০১, ২০১৯

বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি আর অভিনয়ের মাধ্যমে নিমিষেই মানুষের মন ভালো করে দেন তিনি। হাসতে হাসতে লুটোপুটি খায় একটু আগেও মুখ গোমড়া করে রাখা মানুষটি। অন্যকে হাসিয়েই হাসেন তিনি, খুঁজে পান আনন্দ। বলছিলাম তরুণদের কাছে জনপ্রিয় ইউটিউবার তানভীর হায়দার তুষার ওরফে কিং’ওপলির কথা।

তানভীর হায়দার তুষার
গত বছর অক্টোবরে মিস বাংলাদেশ ২০১৮ ফাইনালের ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ভয়েস রিমেক করে একটি ভিডিও নিজের চ্যানেলে দেয়ার পরই মূলত সকলের নজরে পড়েন তুষার। নিজের চ্যানেল ‘কিংয়োপলি’ (KinGOPoly) অবশ্য খুলেছিলেন তারও অনেক আগে, ২০১৫ সালে। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ছলে নানা মানুষের ভয়েস নকল করে, অঙ্গভঙ্গি করে মজার অভিনয় করতেন। বন্ধুরা দারুণ প্রশংসা করতো। তখন থেকেই শখের বশে ভিডিও করার ইচ্ছেটা তৈরি হয় তুষারের।
সে সময়ে ফেসবুকের ভিডিও বেশ স্লো ছিল বলে তিনি ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। সেই থেকেই এই চ্যানেলের পথচলা শুরু। বর্তমানে তুষারের চ্যানেলে রয়েছে ১৫৫টি ভিডিও, চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। তুষারের স্বনামে ইউটিউবে আরেকটা চ্যানেল আছে। তবে সেটি তার খোলা নয় বলে জানালেন তিনি, অর্থাৎ ফেক চ্যানেল।
কথা হচ্ছিল তুষারের সাথে তার এই চ্যানেল নিয়ে। ‘কিংয়োপলি’ নামকরণের রহস্য জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমি এক সময় খুব ভিডিও গেম খেলতাম। প্রায় সব গেমেই নিজের ইউজারনেম থাকত ‘কিং বিজি মামা’। সেই নাম থেকেই ‘কিং’ শব্দটা নেওয়া আর আমার সবচেয়ে প্রিয় বোর্ড গেম মনোপলির ‘পলি’- এই দুই মিলিয়ে কিংয়োপলি।’

তানভীর হায়দার তুষার
অনেকে বলেন তুষারের মুখ দেখলেই যেন না হেসে পারা যায় না! সে অভিনয় করুক আর না করুক! কেমন লাগে তরুণদের এই উচ্ছ্বাস? তুসার বলেন, ‘রাস্তাঘাটে বের হলে কিছু মানুষ আমাকে চেনে, কথা বলতে আসে, প্রশংসা করে, ভালো লাগে। শখের বশে করা একটা চ্যানেল যে জীবনকে এভাবে বদলে দেবে তা কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি।’ জানালেন এক মজার অভিজ্ঞতার কথাও। এক রাতে বাসায় ফিরছিলেন। বেশ রাত করেই বাসায় ফেরেন তিনি। হঠাত দেখেন রাস্তায় ৩-৪ জন এগিয়ে আসছে। ছিনতাইকারী ভেবে যারপরনাই ভয়ে হয়ে গিয়েছিলেন তটস্থ। সবাই কাছাকাছি এসে ঘিরে ধরলো হঠাৎ। পরে জানা গেল তারা আসলে ফ্যান!
তুষার ২০১৮ সালে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিএসসি শেষ করেছেন। মাইক্রোসফটে বাংলাদেশ থেকে যেই গুটি কয়েক মানুষ ইন্টার্নশিপ করেছেন, তুষার তাদের মধ্যে একজন। ২০১৭ থেকে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজ করছেন। বর্তমানে কাজ করছেন একটি ইউএস বেজড সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে প্রোডাক্ট ম্যানেজার এবং ইউএক্স লিড হিসেবে।

তুষার জানালেন, তার চ্যানেলে ৭০% ভিডিও ভয়েস রিমেক, ২০% রিঅ্যাকশন ভিডিও এবং ১০% মৌলিক মজার ভিডিও। নিজের ভয়েসের ভিডিও কম কেন নিজের চ্যানেলে এই প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ‘সারাদিন অফিস করে, দিনশেষে আমি আমার চ্যানেলের জন্য সময় দেই। বলতে গেলে সেটা রাত ২টা-৩টার দিকে। সেসময়ে জোরে কথা বললে আসলে বাসার মানুষজন আর পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে মার খাওয়ার একটা সমূহ সম্ভাবনা থাকে। আপনি দেখবেন, যেই ভিডিওগুলোতে আমার নিজের ভয়েস থাকে, সেগুলোতেও আমি বেশ আস্তে কথা বলি, একই কারণে। আর এজন্যই আমার চ্যানেলে ভয়েস রিমেক ভিডিওর সংখ্যা বেশি।’
কোন ভিডিও রিমেক করবেন সেটা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন? নাকি যেটা ভাইরাল হয় সেটার ওপরই কাজ করেন? এই প্রশ্নে তুষার বলেন, ‘একদমই না। অনেক ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আমি যেমন কাজ করেছি, তেমনি আমার রিমেক করার পর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, এমনটাও কিন্তু ঘটেছে। আমি আগে ভিডিও দেখে বোঝার চেষ্টা করি যে সেটা দিয়ে আমি আসলে আমার ফলোয়ারদের কতোটা আনন্দ দিতে পারব। সেই অনুযায়ীই ভিডিও বেছে নেই। মাঝে মাঝে ফলোয়াররা নানা ভিডিওর লিংক দিয়ে রিমেক করার অনুরোধ করে, সেটাও মনের মতো হলে করার চেষ্টা করি।’
ইউটিউবাররা এখন নানা ধরনের কোলাবরেশনে যাচ্ছেন। সে ধরনের কিছু তুষার করেছেন কি না সেটা জানতে চেয়েছিলাম তার কাছে। বললেন, ‘সম্প্রতি এ বি পলাশ নামে আরেক জনপ্রিয় এবং আমার পার্সোনাল ফেভারিট ইউটিউবারের সাথে কোলাবরেশনে কাজ করেছি। এছাড়াও একটি মোবাইল কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের জন্য করা ভিডিওতে কাজ করেছি যা শীঘ্রই দেখা যাবে।’ জানালেন মিডিয়াতে বেশকিছু কাজের অফার পেয়েছেন। টিভিসি, নাটক, অ্যাংকরিং- কিন্তু সময়ের অভাবে কোনওটাই করতে পারেননি। আর মিডিয়াতে শুটিং খুবই সময়সাপেক্ষ একটি ব্যাপার, যার জন্য তিনি এখনও প্রস্তুত নন। তবে একেবারে ইচ্ছা যে নেই তাও নয়।
তুষারের ইউটিউব চ্যানেলটি শখের বশে খোলা হলেও তিনি চেষ্টা করেন নিছক কৌতুকের বাইরেও মাঝেমাঝে কিছু সামাজিক বার্তা তার ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছে দিতে। সে ধরনের কনটেন্টও তৈরি করে থাকেন। বললেন, ‘আমি একা এই পৃথিবীটা বদলে দিতে পারব না এটা সত্যি। তবে আমার জায়গা থেকে আমি নুন্যতম চেষ্টা করতেই পারি যেহেতু সেই সুযোগটা আমার আছে।’


বর্তমানে তুষারের প্রিয় ইউটিউবার লংবিচগ্রিফি (Long Beach Griffy)। ভবিষ্যতে নিজের চ্যানেল নিয়ে তার কিভাবনা বা পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এখনও শিখছি। আমি জানি আমি এখনও অনেক কিছুই জানি না এই প্ল্যাটফর্মটা সম্পর্কে, সেগুলো এক্সপ্লোর করতে হবে। ভিডিও এডিটিংয়ে আরও মনোযোগ দিচ্ছি। কনটেন্ট নিয়ে গবেষণা করছি। এমন অনেক চ্যানেল আছে যে এক রকম কনটেন্ট আপলোড করে, বা একরকম কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, বা ফলোয়াররাও আর সেভাবে তাদেরকে সাপোর্ট করে না। চ্যানেলই শেষমেশ বন্ধ হয়ে যায়। আমি সেই জায়গায় কখনওই যেতে চাই না। আর তাই চেষ্টা করে চলেছি প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার, নতুন নতুন জিনিস করার, নিজের জন্য, ফলোয়ারদের জন্য।’

তুষারের ইউটিউব চ্যানেল লিংকঃ https://www.youtube.com/channel/UCtCG3jd127tq_mkxQmjhMeQ

/এনএ/

লাইভ

টপ