behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Led ad on bangla Tribune

আলোকচিত্র নিয়ে ছুটছেন রানা

ফাতেমা আবেদীন১৮:৪৬, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫

পুরো নাম মাহফুজুল হাসান রানা। পেশা ছবি তোলা, ছবি দেখা, ছবি এডিট করা, ছবি বিষয়ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিচারক হওয়া এবং ছবি সংশ্লীষ্ট আরও অনেক কাজ। এক কথায় ফটোগ্রাফার বললে হয়তো হয়ে যায় রানার পরিচয় বলা কিন্তু ছবি তুলে যিনি বাংলাদেশকে

প্রতিনিয়ত বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন তাকে শুধু ফটোগ্রাফার বললে চলে না। বলা যায় ছবির কারিগর রানা।1918531_351374352262_5158379_n

বন্ধুরা অবশ্য রানার এই পরিচয় শুনলে একটু হইহই করে উঠবে। বুয়েট থেকে স্থাপত্য কৌশলে পাস করা রানা ওরফে ফটিক একজন স্থপতি। তার নিজস্ব একটি স্থাপত্য কৌশল বিষয়ক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তবে কেনও এই পরিচয়? রানা নিজেই বলেন তিনি একজন তরুণ ছবির কারিগর।ক্যামেরা হাতে ছুটে বেড়ান দেশ থেকে দেশে।

11025151_10152719939957263_3266788258341678397_n

নিজেকে তরুণ বলতে একটু অস্বস্তি আছে রানার। বলেন বুড়ো হয়ে যাচ্ছি কিন্তু বড় হতে পারছি না। একটি জীবন আটকে গেছে তারুণ্যদীপ্ত ছবির ফ্রেমে। ছবি তোলার ক্ষেত্রে এখন তাকে সিনিয়র মানা হয়, কিন্তু সেই তকমা নিতে একদম রাজী নন রানা। 

ছবি তোলার শুরুর গল্প ...

৯২ সালে এইচএসসির পর পাস করে বাবার সঙ্গে ঘুরে ফিরে ছবি তোলার শুরু। তবে ভিত্তিটা শক্ত হয় বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর। নানা এসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। নানা বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ছবি তোলার নেশা চেপে ধরে রানাকে।

1503389_10152719940592263_6867225904973731505_n

বুয়েটে পড়ুয়া ছেলে সারাদিন ছবি তোলা নিয়ে মেতে আছে এমন বিষয় দেখে বাড়ির সবার মাথায় হাত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রানার পরিবারে তেমনটি হয়নি। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বাবা ছেলের আগ্রহ  দেখে বিদেশ ট্যুরগুলোতে ক্যামেরা আনতেন। বাবার স্নেহ ও উৎসাহ ভীষণরকম কাজ করেছে রানাকে ছবিয়াল করে গড়ে তুলতে।

ফটোগ্রাফি বিষয়ক প্রথম সংগঠন ছিল আলোক গ্রুপ অব ফটোগ্রাফারস। বুয়েট ও বুয়েটের বাইরের সমমনা ও সমসাময়িক বন্ধুদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল এই সংগঠন। এরপর ধীরে ধীরে বিপিএসসহ নানা দেশি-বিদেশি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন রানা।

10434243_10152163130002263_4881889173990765232_n

প্রথম স্বীকৃতি...

৯৯ সালে পাকিস্তান থেকে প্রথম পুরস্কার আসে রানার।  পাকিস্তান স্যালন গ্রুপ আয়োজন করেছিল ফটোগ্রাফার ওয়ার্ল্ডকাপ। সেখানে জমা দিয়েছিলেন ‘পানাম নগরে নারীর মুখ’ শীর্ষক একটি ছবি।  এরপরের গল্প টা শুধুই অর্জনের ৫০০ এর বেশি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। সম্প্রতই রানার হাত ধরে এসেছে, চায়নার হিউম্যানিটি ফটো অ্যাওয়ার্ড, এরিওনো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ প্রথম পুরস্কার। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর আর্ট ক্যাম্পের সেরাদের একজনও হয়েছেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তুরস্কে যাওয়ার জন্য। এর পরেই যাবেন চীনে। কারণ একটাই ছবি বিষয়ক আয়োজনে অংশ গ্রহণ। তুরস্কে যাচ্ছেন বিচারক হয়ে।

এর আগে কনিয়ার আমন্ত্রণে তুরস্কে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বিচারক হয়ে ঘুরে এলেন রানা। ভারত ও আমেরিকাতেও ঘুরে এসেছেন বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতার জুরি হয়ে।

7883_10151669836187263_1711703541_n

আলোকচিত্রীদের দরকার সততা...

ছবি তোলার জন্য কোন জিনিসটি আপনার দরকার সেটি জানতে চাইলে রানা বললেন, সততা। ভালো লেন্স, ক্যামেরা বা অন্যান্য জিনিসের চেয়েও বেশি আপনার প্রয়োজন সততা। শুধুমাত্র সততাই আপনাকে ভালো আলোকচিত্রী করে তুলবে। 

রানা মনে করেন এই প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে যে পরিমাণ সততা প্রয়োজন সেটির অভাব আছে। কাজের ক্ষেত্রে সবার থেকেই শেখার আছে। এই প্রজন্মের সবাই ফলো করা নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু নিজের পটেনশিয়ালিটি না খুঁজে এভাবে নিজেদের নষ্ট করছে এই প্রজন্ম। তাই সততাই মূল মন্ত্র ছবি তোলার ক্ষেত্রে। এটি মিস করা যাবে না।

সাম্প্রতিক কাজ…

যা চোখে পড়ে তারই ছবি তুলে নেন তিনি। তাই আলাদা করে কাজ নিয়ে বলবার কিছু নেই। এমনিতে কিছু ফটো ডকুমেন্টারি করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কারদের নিয়ে ‘ফুট সোলজার’। এটির কাজ চলছে।

নিজেকে নিয়ে কিছু কথা...

রানা বিশ্বাস করেন, নিজেকে প্রকাশ করার একটি জায়গা ছবি তোলা। আমার মধ্যের আমিটাই প্রকাশিত হয় এই ছবি তোলার মাধ্যমে। প্যাশন বা প্রফেশন কোনওটাই বলবেন না। নিজেকে প্রকাশের একটা মাধ্যমই বলবেন ছবি তোলা।

আর সবচেয়ে দূরে থাকেন গণমাধ্যম থেকে তাই তার ৫০০ এর বেশি আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গল্পগুলো গণমাধ্যমে আসেই না বললে চলে। একা একা শুধু ছবি তোলা নিয়ে থাকতে চান তিনি।

/এফএএন/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ