‘জেন-জি’ বিপ্লবের রেশ: আন্তর্জাতিক করতালি ও ঘরের দায় 

রেজাউর রহমান লেনিন
১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০০ আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০০

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো ভিডিও-বার্তায় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ‘জেন-জি’ প্রজন্মকে অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যুত্থানই উপমহাদেশে তারুণ্যের যৌথ আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে, যা থেকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা গভীর অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা নিয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উভয় দেশের তরুণদের লড়াই অভিন্ন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবশেষে তিনি সংকীর্ণ সীমানা পেরিয়ে দুই দেশের যুবসমাজের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও উন্নত দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলনে নেহা বোরার দেওয়া এই বক্তব্যটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর— তা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিসরে এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া মূলত বহুমাত্রিক এবং একে ঘিরে নানা দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। সবচেয়ে প্রবল প্রতিক্রিয়াটি দেখা গেছে, বাংলাদেশের সাধারণ তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বুকের রক্ত ঢেলে একটি দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো ‘জেন-জি’ প্রজন্ম এই মন্তব্যকে অত্যন্ত গর্ব ও মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন যে, অতীতে যেখানে ভারতকে অনুসরণ করার একটি অলিখিত রেওয়াজ ছিল, সেখানে আজ ভারতের রাজপথের আন্দোলনকারীরা স্বীকার করছে যে, বাংলাদেশ তাদের লড়াইয়ের দিশা দেখিয়েছে। বিশেষ করে দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো প্রতিবাদের কেন্দ্রে বাংলাদেশের প্রতিবাদের স্লোগান, দেয়ালচিত্রের শৈলী এবং ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গানের মতো সাংস্কৃতিক উপাদানের অনুরণন দেখে তরুণরা আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেছে যে তাদের ত্যাগ আন্তর্জাতিকভাবে অন্য দেশের তরুণদেরও সাহসের উৎস হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই বক্তব্য ছিল দক্ষিণ এশীয় আন্তঃসীমান্ত সংহতির একটি বড় প্রতীক। তারা মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই যুবসমাজ একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি,যেমন- ভোটাধিকার হরণ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, শিক্ষাঙ্গনে স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং উগ্র ধর্মীয় মেরুকরণ। প্রগতিশীলদের মতে, শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সীমান্ত ও ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভক্ত রাখতে চায়; কিন্তু তরুণদের এই যৌথ মানসিক ঐক্য একটি মানবিক ও শোষণমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়ার পথ সুগম করবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ছিল, সেই প্রেক্ষাপট থেকেও এই মন্তব্যকে ইতিবাচক চোখে দেখা হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, ভারতের নীতিনির্ধারকেরা হয়তো বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ভিন্ন চোখে বা ষড়যন্ত্রমূলক বয়ানে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভারতের সাধারণ ছাত্র-যুবসমাজ যে বাংলাদেশের সত্য ও অধিকারের লড়াইকে অস্বীকার করতে পারেনি, নেহা বোরার অকপট স্বীকারোক্তি তারই প্রমাণ। তবে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মধ্যে কিছুটা সতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে অভ্যুত্থানে বড় ভূমিকা রাখা দক্ষিণপন্থী বা ইসলামি মনোভাবাপন্ন অনেকের মতে, নেহা বোরার মতো ভারতীয় বামপন্থী ছাত্রনেতারা তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বা মোদি-বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করতে বাংলাদেশের এই নজিরকে হাতিয়ার বানাচ্ছেন।

তাঁদের সংশয় ছিল, বাংলাদেশের সামগ্রিক গণঅভ্যুত্থানের সব কৃতিত্বকে কেবল ধর্মনিরপেক্ষ বা নির্দিষ্ট ঘরানার বলয়ে সীমাবদ্ধ করা এবং দুই দেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে এক কাতারে মেলানো সবসময় প্রাসঙ্গিক না-ও হতে পারে।সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে, বাংলাদেশের জনপরিসরে নেহা বোরার বক্তব্যটি কোনো বিতর্ক তৈরির বদলে সিংহভাগ মানুষের কাছে একটি নৈতিক বিজয় এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার লড়াইয়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেই প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।

বলে রাখা ভালো, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের জেন-জি বিপ্লবই আমাদের পথ দেখিয়েছে’ মন্তব্যটিকে প্রতারণামূলক বা সস্তা রাজনৈতিক বক্তব্য না মনে করার পেছনে গভীর সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক যুক্তি রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের অভিন্ন মনস্তত্ত্ব, প্রতিবাদের নতুন ভাষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার সাহসকেই স্বীকৃতি দিয়েছেন।

প্রথমত, দীর্ঘদিনের ভয় ও জড়তার দেয়াল ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্দোলন সারা বিশ্বের বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের জন্য এক অনন্য ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে। রাষ্ট্র যখন প্রবল শক্তিশালী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন কঠোর এবং প্রথাগত বিরোধী দলগুলো যখন কোণঠাসা, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভয়কে জয় করে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পারে—তা বাংলাদেশ প্রত্যক্ষভাবে দেখিয়ে দিয়েছে। ভারতের তরুণরাও যখন প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব বা নির্বাচনী স্বচ্ছতার প্রশ্নে রাস্তায় নামছেন, তখন বাংলাদেশের তরুণদের এই অভয়বার্তা তাঁদের মনে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আন্দোলন বিজ্ঞানের স্বাভাবিক নিয়মেই এক ভূখণ্ডের সাহসিকতা অন্য ভূখণ্ডের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে; সেই সাহসের ঋণ স্বীকার করা কখনোই প্রতারণা হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, প্রথাগত দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে ‘জেন-জি’ বা আধুনিক প্রজন্মের স্বকীয় নেতৃত্বে প্রতিবাদ গড়ে তোলার যে কৌশল, তা বাংলাদেশ থেকেই সরাসরি ধার করা। বাংলাদেশে যেমন প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্দেশের তোয়াক্কা না করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথের নেতৃত্ব তুলে নিয়েছিল, ভারতেও যন্তর মন্তরের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনগুলোতে তরুণরা একইভাবে কোনো একক দলীয় পরিচয়ের বদলে নিজেদের পেশাগত ও ভবিষ্যৎ সংকটের পরিচয়ে সংগঠিত হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, ব্যঙ্গাত্মক মিম, স্লোগান ও গানের মাধ্যমে ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার যে শৈলী বাংলাদেশে বিস্ফোরক রূপ নিয়েছিল, ভারতের শিক্ষাঙ্গনেও ঠিক সেই সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আন্দোলন পরিচালনার এই আধুনিক কৌশল ও যৌথ ভাষা স্পষ্টতই প্রতিবেশী দেশের অভিজ্ঞতা থেকেই অনুপ্রাণিত।

তৃতীয়ত, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোর যে সংকট, তা দুই দেশের সমাজেই গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। নেহা বোরা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে যেমন দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার হরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনাস্থা থেকে গণবিস্ফোরণ ঘটেছিল, ভারতেও আজ ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তরুণরা মৌলিক প্রশ্ন তুলছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে যখন কোনো জনগোষ্ঠী দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অনুভূতি পায়, তখন তাদের প্রতিবাদের মৌলিক চেতনা অভিন্ন হয়ে ওঠে। তাই গণতন্ত্রের মূল স্পিরিট ও ভোটাধিকারের দাবিতে লড়াইকে এক সুতোয় গাঁথা কোনো কৃত্রিম বয়ান নয়, বরং এক তিক্ত সমসাময়িক বাস্তবতার প্রকাশ।

সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস চিরকালই আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রেরণার ওপর দাঁড়িয়ে থেকেছে। ১৯৬০-এর দশকে আমেরিকার ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন কিংবা প্যারিসের ছাত্র বিদ্রোহ যেভাবে গোটা বিশ্বের যুব আন্দোলনকে পথ দেখিয়েছিল, ঠিক তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রগতিশীল ছাত্রসমাজের কাছে চব্বিশের বাংলাদেশ একটি বাস্তব প্রতিবাদের মডেল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সর্বজনীন যে পাঠ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের রক্ত দিয়ে লিখেছে, ভারতের তরুণ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সেই সত্যকে খোলাখুলি স্বীকার করে সংহতি প্রকাশ করা সম্পূর্ণ মানবিক ও বস্তুনিষ্ঠ একটি অবস্থান।

অন্যদিকে, ভারতের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরার মন্তব্যটিকে একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক সরলীকরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিভ্রান্তিকর বয়ান বলে মনে করার যৌক্তিকভিত্তিও আছে। এই সমালোচনার মূল ভিত্তি কেবল ভারত ও বাংলাদেশের বাস্তবতার ফারাক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যান্য বড় গণঅভ্যুত্থান—বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা বা নেপালকে সুবিধাজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার মনস্তত্ত্বের মধ্যেও নিহিত। শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপালের মতো অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাসঙ্গিক নজিরগুলো বাদ দিয়ে কেবল বাংলাদেশকে সামনে আনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে আমি মনে করি।

শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের ‘আরাগালাইয়া’ আন্দোলন ছিল নিখাদ একটি গণ-আন্দোলন, যেখানে অর্থনৈতিক ধস, তীব্র বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি রাজপথে নেমে দেশটির যুবসমাজ প্রতাপশালী রাজাপাকসে পরিবারের পতন ঘটিয়েছিল। অন্যদিকে নেপালে ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলন কিংবা বিগত বছরগুলোর রাজপথের লড়াই ছিল সরাসরি সাংবিধানিক ও নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, যার সঙ্গে ভারতের বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবির কাঠামোগত মিল অনেক বেশি। তবুও নেহা বোরা বা তাঁর মতো ভারতীয় বিরোধী বামপন্থী প্ল্যাটফর্মগুলো শ্রীলঙ্কা বা নেপালের নাম এড়িয়ে গিয়ে বেছে বেছে বাংলাদেশের উদাহরণ টেনেছেন, কারণ এটি ভারতীয় রাজনীতিতে অনেক বেশি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা, মেরুকরণ ও মিডিয়া মনোযোগ তৈরি করতে সক্ষম।

শ্রীলঙ্কার আন্দোলন ছিল সামগ্রিক অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সব শ্রেণির মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম, যা ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি মেলানো কঠিন। আবার নেপালের রাজতন্ত্রবিরোধী লড়াই বহু পুরোনো এবং ভারতীয় নাগরিক পরিসরে এখন আর তা তীব্র কোনো আলোড়ন তৈরি করে না। বিপরীতে, ভারত সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ বয়ানে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত আলোচিত ও স্পর্শকাতর বিষয়। ফলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর সর্বোচ্চ মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে এবং তরুণদের আবেগ দ্রুত আলোড়িত করতে বাংলাদেশের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা জেন-জি বিপ্লবের হাইপ ব্যবহার করা তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি কার্যকর অস্ত্র ছিল।

এই বক্তব্যটি মূলত এই কারণেই বিভ্রান্তমূলক বলে বিবেচিত হয় যে, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক ‘চেরি-পিকিং’ বা সুবিধাজনক উদাহরণ নির্বাচন। ভারত একটি বহু-দলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র, যেখানে বিরোধী দলগুলো জাতীয় সংসদে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে তাদের নিজস্ব সরকার আছে। সেখানে প্রশ্নফাঁস রোধ বা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার মতো আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিকে একটি প্রতিবেশী দেশের রক্তক্ষয়ী এক দফা সরকার পতনের অভ্যুত্থানের সমান্তরালে দাঁড় করানো বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লড়াইকে পাশ কাটিয়ে কেবল বাংলাদেশকে ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উপস্থাপন করার অর্থ হলো সংস্কার আন্দোলনের নামে সচেতনভাবে একধরনের কৃত্রিম বৈপ্লবিক উন্মাদনা তৈরি করা, যা বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকেই বেশি প্রতিফলিত করে।

সবচেয়ে বড় সরলীকরণটি ধরা পড়ে দুটি দেশের মৌলিক শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির চরম অমিলকে আড়াল করার মধ্যে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানটি ঘটেছিল টানা দেড় দশকের একটি কঠোর কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ কিংবা বিরোধী দলের জন্য সংসদীয় রাজনীতির পরিসর কার্যত রুদ্ধ ছিল। সেখানে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সামনে রাজপথের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সরকার পতন ছাড়া আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না। বিপরীতে, ভারতের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতে একাধিক রাজ্যে বিরোধী দলগুলোর সরকার রয়েছে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী জোট সংসদে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং ভারতের বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তা পুরোপুরি অকার্যকর নয়। একটি কার্যকর সংসদীয় ফেডারেল গণতন্ত্রের কাঠামোর ভেতরে নির্বাচনী ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লড়াইকে একটি রক্তক্ষয়ী সরকার পতনের অভ্যুত্থানের সমান্তরালে দাঁড় করানো কেবল বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং ভারতীয় আন্দোলনকারীদের বাস্তব লড়াইয়ের পথকে ভুল দিশা দেখানোর শামিল।

আন্দোলনের প্রকৃতি এবং লক্ষ্যের ক্ষেত্রেও এই বক্তব্য সত্যকে বিকৃত করে। ভারতে শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলগুলোর বর্তমান বিক্ষোভ মূলত অত্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত—যেমন নিট বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। এগুলো মূলত নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি, যা আলোচনার মাধ্যমে বা আইনি লড়াইয়ে সমাধানযোগ্য। অথচ এই নির্দিষ্ট প্রশাসনিক দাবিগুলোকে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো পাল্টে দেওয়ার বৈপ্লবিক লক্ষ্যের সঙ্গে এক কাতারে ফেলা হয়েছে স্রেফ তরুণদের আবেগকে উসকে দিয়ে একটি বৈপ্লবিক উন্মাদনা তৈরির জন্য। সংস্কারের আন্দোলনকে বিপ্লবের মোড়কে উপস্থাপন করা স্পষ্টতই রাজনৈতিক অসততা।

এছাড়া, নেহা বোরার এই অবস্থান তাঁর নিজস্ব আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গেও চরমভাবে সাংঘর্ষিক। তিনি ভারতের একটি অতি-বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের (এআইএসএ) নেতৃত্ব দেন, যাদের মূল দর্শন ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। অথচ বাংলাদেশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে ডানপন্থী ও ইসলামি শক্তিগুলোর যে ব্যাপক উত্থান ও প্রভাব দেখা যাচ্ছে, তা তাঁর সংগঠনের মৌলিক আদর্শের সরাসরি বিপরীত। এই অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে পুরোপুরি গোপন রেখে কেবল ‘বিপ্লব’ শব্দটির রোমান্টিকতা ব্যবহার করে তরুণদের সংগঠিত করতে চাওয়াকে অনেকেই সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চাল বলে আখ্যা দেন।

সর্বোপরি, ভারতের ছাত্র রাজনীতির রয়েছে শতবর্ষের সুদীর্ঘ নিজস্ব ঐতিহ্য ও লড়াইয়ের ইতিহাস—যা জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন থেকে শুরু করে জেএনইউ বা যাদবপুরের বহু প্রতিরোধে প্রমাণিত। সেই নিজস্ব ঐতিহ্য, বাস্তবতা এবং লড়াইয়ের সক্ষমতাকে খাটো করে হঠাৎ অন্য একটি দেশের রক্তক্ষয়ী পটপরিবর্তনকে ভারতের তরুণদের ‘পথপ্রদর্শক’ বলে দাবি করা মূলত মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ঘরোয়া রাজনীতিতে বাড়তি সুবিধা আদায়ের একটি সস্তা বয়ান। নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা ভারী করতে প্রতিবেশীর জটিল অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে এভাবে সরলীকরণ করে ব্যবহার করাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থানের সংকট, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার দুর্নীতি এবং নির্বাচন কমিশন ও ভোটাধিকারের স্বচ্ছতা ঘিরে গড়ে ওঠা তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতায় একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনীতি প্রথাগত দল, পারিবারিক পরম্পরা এবং ধর্মীয় বা জাতিগত মেরুকরণের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সেই কাঠামোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার গণ-বিক্ষোভ এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে শিক্ষার্থীদের এই রাজপথের প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে পুরো অঞ্চলজুড়ে একটি আন্তঃসীমান্ত ‘মনস্তাত্ত্বিক সংহতি’ গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ সমাজের মূল ক্ষোভের জায়গাগুলো প্রায় অভিন্ন—মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের অভাব, তীব্র বেকারত্ব, স্বজনপ্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ।

ফলে ভারতে তরুণদের এই প্রতিবাদী গতিপথ দক্ষিণ এশীয় পরিসরে ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী সংঘাতের চিরাচরিত বয়ানকে পেছনে ঠেলে দিয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের রাজনীতিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে। এছাড়া ভারতের মতো এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক শক্তির ভেতরের ছাত্র অসন্তোষ আঞ্চলিক কূটনীতিতেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে, যেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল দুই দেশের ক্ষমতাসীন এলিটদের ব্যক্তিগত রসায়নে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার দিকে ঝুঁকতে শুরু করবে।

এই আঞ্চলিক পরিবর্তনের মুখে বাংলাদেশের জন্য আবেগপ্রবণ অবস্থান এড়িয়ে বাস্তববাদী, সুদূরপ্রসারী ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সবার আগে বাংলাদেশকে নিজেদের ঘরে দৃষ্টান্তমূলক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ভারতের আন্দোলনকারীরা যখন বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার সংগ্রাম থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা বলে, তখন সেই সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার একমাত্র উপায় হলো দেশে কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকারের টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। অভ্যন্তরীণ রূপান্তরে ব্যর্থ হলে বা নতুন কোনো কর্তৃত্ববাদী রূপ ধারণ করলে এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের আঞ্চলিক প্রভাব দ্রুত ম্লান হয়ে পড়বে।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশগুলো সরাসরি কোনো একক আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ববাদে পতিত হয়নি, আবার তাদের অভ্যন্তরীণ রূপান্তরকে পুরোপুরি ব্যর্থও বলা যায় না। বরং দেশগুলো দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ক্ষয়, অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল, জটিল ও দোদুল্যমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইএমএফের কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি, করের বোঝা এবং শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আমলাতান্ত্রিক ও সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের দরকষাকষি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ধীর ও অনিশ্চিত করে রেখেছে। পুরোনো দলগুলোর ক্ষমতাকেন্দ্রীক কোন্দল, দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র অনাস্থা তৈরি করেছে। এই শূন্যতার সুযোগে একদিকে যেমন স্বতন্ত্র ও সংস্কারপন্থী নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলো জায়গা করে নিচ্ছে, অন্যদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী বা রাজতন্ত্রপন্থী পুরনো শক্তিগুলোও সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ফলে নেপালের সংকট কোনো দৃশ্যমান কর্তৃত্ববাদ নয়, বরং স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক রূপান্তর দিতে না পারার একধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান,যেমন- পুলিশ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও আর্থিক খাত পুনর্গঠনের কাজ অত্যন্ত দুরূহ। নতুন কোনো কর্তৃত্ববাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের তাগিদ রয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা, অর্থনীতি সচল করা এবং রাজপথের সংস্কারকামী তরুণদের প্রত্যাশার সঙ্গে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর আকাঙ্ক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। রূপান্তরের এই প্রক্রিয়া যদি প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপ না নিয়ে কেবল অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও পারস্পরিক রেষারেষিতে আটকে থাকে, তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো সংকীর্ণ কর্তৃত্ববাদী শক্তির উত্থানের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সমগ্র আলোচনার মূল নির্যাস হলো— দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বর্তমানে এক অভূতপূর্ব রূপান্তরমূলক দোলাচলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং নতুন রাজনৈতিক ভাষা। নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের জেন-জি বিপ্লবই আমাদের পথ দেখিয়েছে’ মন্তব্যটি একদিকে যেমন সীমান্ত পেরিয়ে তারুণ্যের ভয়হীন মানসিক সংহতি, ডিজিটাল প্রতিরোধ সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের সর্বজনীন আকাঙ্ক্ষার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি; অন্যদিকে তা ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশলগত সরলীকরণ এবং প্রতিবেশী দেশের রক্তক্ষয়ী সরকার পতনের আন্দোলনকে একটি ভিন্ন গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যমূলক প্রয়াসও বটে। এখানে শ্রীলঙ্কা বা নেপালের প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের সংগ্রামকে পাশ কাটিয়ে কেবল বাংলাদেশকে সামনে আনার পেছনে যেমন রাজনৈতিক মনোযোগ আকর্ষণের চাতুর্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে পাওয়া খাঁটি মনস্তাত্ত্বিক সাহসও।

তবে আন্দোলনের রোমান্টিকতা, বিদেশের রাজপথে প্রতিবাদের স্লোগান বা গানের অনুরণন দেখে আত্মতৃপ্তিতে ভোগা রূপান্তরের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা বাংলাদেশ— কোনো দেশই রাতারাতি একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পৌঁছে যায়নি; বরং প্রতিটি দেশই শাসনতান্ত্রিক জড়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং নতুন কোনো কর্তৃত্ববাদের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকির ভেতর দিয়ে অত্যন্ত ভঙ্গুর পুনর্গঠন পর্ব পার করছে। তাই প্রতিবেশীর কণ্ঠে নিজেদের প্রশংসা শুনে আত্মপ্রসাদে না ভেসে বাংলাদেশের সামনে এখন একমাত্র ঐতিহাসিক দায় হলো—একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা। নিজের ঘরে যদি আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই আন্তর্জাতিক করতালি ক্ষণস্থায়ী মোহে পর্যবসিত হবে; আর যদি রূপান্তর সফল হয়, তবে তা কোনো সস্তা রাজনৈতিক স্লোগান ছাড়াই সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় প্রকৃত অর্থেই মুক্তির এক অবিসংবাদিত দিশা হিসেবে টিকে থাকবে।

লেখক: গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৪১ বছর: নিহতরা কি মরণসাগরপারে সত্যিই অমর? 
বিশ্ব শিক্ষক দিবস: ৬০ বছরের প্রত্যাশা ও বাংলাদেশের প্রাপ্তি
স্ক্রিনের ওপারে কেমন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে শিশুদের?
সর্বশেষ খবর
আটকের ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশকে ফেরত দিলো বিএসএফ
আটকের ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশকে ফেরত দিলো বিএসএফ
দেবীর আরাধনা বনাম ঘরের নারীর অবহেলা
দেবীর আরাধনা বনাম ঘরের নারীর অবহেলা
ডিজিটাল রূপান্তরে দ্রুত অগ্রগতি সৌদি আরবের
ডিজিটাল রূপান্তরে দ্রুত অগ্রগতি সৌদি আরবের
হাসপাতালে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২, এখনও ফেসবুকে সক্রিয় প্রধান আসামি
হাসপাতালে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২, এখনও ফেসবুকে সক্রিয় প্রধান আসামি
সর্বাধিক পঠিত
জেলেদের কাছ থেকে ১০ মণ ইলিশ মাছ উদ্ধার, এতিমখানায় বিতরণ
জেলেদের কাছ থেকে ১০ মণ ইলিশ মাছ উদ্ধার, এতিমখানায় বিতরণ
অতিরিক্ত খরচ আর ঝুঁকি নিয়ে ভিন্ন রুটে রিয়াদ যাচ্ছেন প্রবাসীরা 
অতিরিক্ত খরচ আর ঝুঁকি নিয়ে ভিন্ন রুটে রিয়াদ যাচ্ছেন প্রবাসীরা 
উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, বড় পরিবর্তন আসবে যোগাযোগে
উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, বড় পরিবর্তন আসবে যোগাযোগে
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা
‘ফিল্মি স্টাইলে’ চলন্ত গাড়ি থেকে যেভাবে ক্রিকেটারদের ৮টি লাগেজ নিয়ে যায় তারা
‘ফিল্মি স্টাইলে’ চলন্ত গাড়ি থেকে যেভাবে ক্রিকেটারদের ৮টি লাগেজ নিয়ে যায় তারা