আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর লাশ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০২ জুন ২০২৬, ০২:২২আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০২:২৪

চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং স্ত্রীর খাটে পড়ে থাকা লাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আত্মহত্যা করেছেন তারা। তবে যে কক্ষটি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়, সেটির দরজা খোলা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে ফয়’স লেক এলাকার ‘রয়েল পার্ক’ হোটেলের চারতলার ৪০৯ নম্বর কক্ষ থেকে মো. রিপন ও তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে আকবর শাহ থানা পুলিশ। 

রিপনের মরদেহ পাওয়া যায় কক্ষটির ভেতর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। অন্যদিকে সোনিয়ার মরদেহ খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন হোটেল সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় সোনিয়ার ভাই বাদী হয়ে বিকালে নগরের আকবর শাহ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। 

রিপন ও সোনিয়া নগরের লালখান বাজার ঢেবার পাড়ের বাসিন্দা; রিপন ভ্যানে ফল বিক্রি করেন ও সোনিয়া গৃহকর্মী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, রবিবার বিকাল ৪টার দিকে হোটেলের চারতলার ৪০৯ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন ওই দম্পতি। গতকাল রাত ৯টার দিকেও হোটেলের এক কর্মী ওই কক্ষে পানি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। ওই সময় ওই দম্পতি তাকে বলেন, সকাল ৭টায় যাতে তাদের ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া হয়। সোমবার সকালে তাদের ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে হোটেলের ওই কর্মী দেখতে পান কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে একজনের লাশ ফ্যানে ঝুলছে এবং অন্যজনের লাশ খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খাটে পড়ে থাকা সোনিয়ার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, রিপন ও সোনিয়ার দাম্পত্য জীবনে ছিল নানা টানাপোড়েন। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা মানসিক চাপে ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মানসিক চাপ থেকে তারা আত্মহত্যার করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই কক্ষে একসঙ্গে দুজনের মৃত্যু এবং তাদের মৃত্যুর ধরন ভিন্ন হওয়ায় ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সোনিয়ার মুখে ফেনা পাওয়া যাওয়ায় বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে রিপন সত্যিই আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে— এমন প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। 

ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। হোটেলের প্রবেশপথ ও অন্যান্য স্থানের সিসিটিভি ফুটেজও জব্দ করা হয়েছে। তবে যে তলায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

নগরের আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'

/এএম/
সম্পর্কিত
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
সর্বশেষ খবর
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি