সাদের চেনা অন্ধকারে ‘হেট ভাইরাস’ ও রহস্যের থমথমে খেলা, ‘অ্যানি’র ট্রেলারে নতুন চমক

রুদ্র হক
০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৫আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৫:২৮

‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ বা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নিয়ে আসছেন তাঁর নতুন প্রজেক্ট ‘অ্যানি’। সোমবার প্রকাশ পেয়েছে সিরিজটির প্রথম ট্রেলার, যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছে।

ট্রেলার থেকে আভাস পাওয়া যায়, এটি একটি ডিস্টোপিয়ান অর্থাৎ ধ্বংসোন্মুখ ও অন্ধকার এক ভবিষ্যতের গল্প, যেখানে ‘রেড ডিজিজ’ নামের একটি রহস্যময় ভাইরাসের থাবায় অবরুদ্ধ পুরো সমাজ। তবে এটি কোনো সাধারণ মহামারি নয়, ট্রেলারের ভাষায় এটি একটি ‘হেট ভাইরাস’ বা ঘৃণার ভাইরাস, যা মানুষের ভেতরে এক ধরনের মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে।

এই চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘লাকি সিক্স’ নামের এক পরিবার—যাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যানি, বেনি, জেনি, এপ্রিল, মে এবং তাদের একমাত্র ছোট ভাই জুন। এই অদ্ভুত ও বৈরী পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকার লড়াই এবং ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরই যেন গল্পটির মূল চালিকাশক্তি।

লুক বদলে অন্য ইয়াশ রোহান
ভিজ্যুয়াল বা নির্মাণশৈলীর দিক থেকে সাদ তাঁর নিজস্ব সিগনেচার স্টাইল বজায় রেখেছেন। পুরো ট্রেলার জুড়েই ব্লু অ্যান্ড ডার্ক প্যালেট অর্থাৎ নীলচে ও অন্ধকার রঙের আবহ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক ধরনের ঠান্ডা অস্বস্তি ও বদ্ধ পরিবেশের ভয় তৈরি করে।

প্রতিটি ফ্রেম, লন্ঠনের আলো কিংবা ইমার্জেন্সি লাইটের ব্যবহার রহস্যের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে আবহ সংগীতে বড় কোনো বাদ্যযন্ত্রের বদলে মানুষের দীর্ঘশ্বাস, দরজায় আঘাত, বাচ্চার কান্না আর সংলাপের মধ্যবর্তী নীরবতাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা পুরো আবহকে দারুণ রিয়েলিস্টিক করে তুলেছে।

প্রধান চরিত্রে নাজিফা তুষির উপস্থিতি ছিল বেশ জোরালো ও ইনটেন্স। তবে ট্রেলারটির সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢালিউডের জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ধারার নায়ক সাইমন সাদিক। চিরাচরিত বাণিজ্যিক ধারার নায়কের খোলস ভেঙে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের মতো একজন ভিন্নধারার নির্মাতার ডার্ক, মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাসে সাইমনকে এভাবে আবিষ্কার করা যাবে—তা হয়তো দর্শক ও সমালোচকদের কল্পনারও বাইরে ছিল।
অ্যানির একটি দৃশ্য
ট্রেলারে তাঁর অন্যরকম লুক ও উপস্থিতি পুরো প্রজেক্টে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাইমন ছাড়াও এই সিরিজে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও সারিকা সাবরিন।

ট্রেলারের সংলাপে জেন্ডার পলিটিক্স এবং মানুষের জন্মগত মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার মতো কিছু গভীর ও দার্শনিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা দর্শককে ভাবিয়ে তোলে। চিরাচরিত মেলোড্রামার বাইরে গিয়ে মানুষের ভেতরের অন্ধকারকে পর্দায় আনার যে নিজস্ব কায়দা সাদের রয়েছে, ‘অ্যানি’র ট্রেলার তারই প্রমাণ দেয়।
সাইমন সাদিক ও সারিকার চমকপ্রদ উপস্থিতি
ট্রেলারের শেষ সংলাপ—‘এখন তুমি কী করবে অ্যানি?’—দর্শকদের মনে তীব্র কৌতূহল ও উন্মাদনা জিইয়ে রেখে শেষ হয়, যা সিরিজটির প্রতি প্রত্যাশা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওটিটির জন্য তৈরি সাদের প্রথম এই মিনি সিরিজটি মুক্তির আগেই দেশের বাইরে সম্মানজনক আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে। জার্মানির কোলন শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প’-এর ‘স্পটলাইট: উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’।

বাংলাদেশের কোনো সিরিজের জন্য এই ধরনের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটিই প্রথম।

অ্যানির ট্রেলার

/আরএইচ/
সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ অ্যালবাম: ইলেকট্রো-পপ আর পানসে হিপ-হপ টিউনসের এক জগাখিচুড়ি
রিভিউফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ অ্যালবাম: ইলেকট্রো-পপ আর পানসে হিপ-হপ টিউনসের এক জগাখিচুড়ি
ধানমন্ডিতে শুরু হচ্ছে ‘থিয়েটারের গান’: উদ্বোধনী পরিবেশনায় আরণ্যক
ধানমন্ডিতে শুরু হচ্ছে ‘থিয়েটারের গান’: উদ্বোধনী পরিবেশনায় আরণ্যক
বাংলাদেশ-নেপালের ৪৬ বিশিষ্টজন পেলেন গ্লোবাল এক্সিলেন্স অনার
বাংলাদেশ-নেপালের ৪৬ বিশিষ্টজন পেলেন গ্লোবাল এক্সিলেন্স অনার
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নক্ষত্রপতন, প্রয়াত ভারতিরাজা
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নক্ষত্রপতন, প্রয়াত ভারতিরাজা
বিশ্বকাপের আমেজে নোরা-সানজয়ের ‘সির সির’ ঝড়, একদিনেই তিন কোটি ভিউ পার
বিশ্বকাপের আমেজে নোরা-সানজয়ের ‘সির সির’ ঝড়, একদিনেই তিন কোটি ভিউ পার