পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে শিগগিরই সিদ্ধান্ত: গভর্নর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ জুন ২০২৬, ১৭:১৭আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৭:১৮

দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকে কিছু সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সম্ভব নয় বলে বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, “পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগেই সমস্যায় ছিল। এগুলোর জন্য গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আগের সরকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করে গিয়েছিল। সেই স্কিম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবো।”

তিনি বলেন, “একসঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন গভর্নর। তিনি বলেন, “আমাদের জানা মতে কোনও ব্যাংকে এমন সংকট নেই, যাতে আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন না। জনগণ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারেন।”

নিজের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ নাকচ

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর তার পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তিনি যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটি কখনও উৎপাদন বা রপ্তানি বন্ধ করেনি এবং কোনো সময় ব্যাংকঋণ খেলাপিও হয়নি।

তার ভাষায়, “প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছিল। প্রকল্পের শুরুতে স্বল্প সুদের সুবিধা থাকলেও পরে সুদের হার বেড়ে যায়। কোভিডসহ নানা কারণে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত মুনাফা পেতে দেরি হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কখনও এক টাকাও ঋণখেলাপি হয়নি; বরং ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে।”

তিনি বলেন, “একটি কথা বারবার বলতে বলতে অনেক সময় সেটিকে সত্য বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া ঋণ ছিল না।”

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হবে ‘বাংলা কিউআর’

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় ডিজিটাল লেনদেনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। আগামী মাস থেকে একটি একক কিউআর ব্যবস্থার আওতায় সবাই সবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে।”

ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ এই ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। আমরাও আশা করছি, খুব দ্রুত দেশের ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বিস্তৃত হবে। এর ফলে নগদ অর্থের ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমে আসবে।”

ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার কার্যক্রম আরও জোরদার করবে বলেও জানান গভর্নর।

/জিএম/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্ব পেলেন জহির হোসেন
৪৩ মাসের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ
৬ হাজার ৮৮০ কোটি কীভাবে ২২ হাজার কোটি টাকা হলো
সর্বশেষ খবর
ম্যানহাটনে বাস্কেটবলের জয়োৎসব রূপ নিলো সহিংসতায়, বিশ্বকাপের বাসে আগুন
ম্যানহাটনে বাস্কেটবলের জয়োৎসব রূপ নিলো সহিংসতায়, বিশ্বকাপের বাসে আগুন
টিভিতে আজকের খেলা (১৫ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (১৫ জুন, ২০২৬)
আমাদ দিয়ালোর জাদুকরী ফিনিশ, এগিয়ে গেলো আইভরি কোস্ট
আমাদ দিয়ালোর জাদুকরী ফিনিশ, এগিয়ে গেলো আইভরি কোস্ট
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে কী থাকছে 
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে কী থাকছে 
সর্বাধিক পঠিত
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি
যেভাবে গ্রেফতার হলেন বেনজীর আহমেদ
যেভাবে গ্রেফতার হলেন বেনজীর আহমেদ
অপুর ঘরে গেলো সোনার কলস, শাকিবের হাতে উঠলো সত্তর লাখ টাকার ঘড়ি
অপুর ঘরে গেলো সোনার কলস, শাকিবের হাতে উঠলো সত্তর লাখ টাকার ঘড়ি
পচা সবজি দিয়ে তরুণ উদ্ভাবকের বাজিমাত, উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
পচা সবজি দিয়ে তরুণ উদ্ভাবকের বাজিমাত, উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী