প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় নির্বিঘ্ন যাত্রাসহ গণমুখী ১০টি বিষয় নিশ্চিত করেছে সরকার।
সোমবার (১ জুন) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা, গণপরিবহন ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ ১০টি গণমুখী বিষয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এসব বিষয়ে বড় ধরনের কোনও অভিযোগ আসেনি। সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে এমনটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘এবারের ঈদুল আজহায় দেশের মানুষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছে, তা হলো রাষ্ট্রের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমূখী প্রশাসনিক তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনায়, এই ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।’’
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এ ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সর্বমহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল সর্বোচ্চ। এটি নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা।
মাহদী আমিন জানান প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ। এভাবেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয় কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, অতীতে দিবস উদ্যাপনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হতো। তবে এবার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেনি সরকার। প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় করিয়ে কষ্ট দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সব দেশেই বাড়ানো হয়েছে। যে কয়টি দেশ শেষ পর্যায়ে গিয়ে বাড়িয়েছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে দাম কম। যতটা সম্ভব সীমিত আকারে বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা এবং সুশাসনের এ ধারাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।









