আনিসুল হকের জন্য ভালোবাসা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৩৪আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৫২

 

কর্মব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেনের মেয়র আনিসুল হকের প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন সংস্থার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ উপলক্ষে তারা  রবিবার একঘণ্টা বেশি কাজ করেছেন। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডোর এম এ রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আনিসুল হক ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষ। তিনি আমাদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলেন। সবাই তাকে ভালোবাসতেন। তার মৃত্যুতে অনেকেই কেঁদেছেন। তার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখিয়েই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আজ একঘণ্টা বেশি কাজ করেছেন। এ জন্য তারা বাড়তি কোনও পারিশ্রমিক নেবেন না।’ তিনি জানান, ‘উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়মিত ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। সাধারণত তারা প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাজ করেন।  কিন্তু আজ তারা দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাজ করেছেন।’

জানতে চাইলে সাত রাস্তা এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী মুরশিদা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়র ছিলেন খুব ভালো মানুষ। এক অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের সবার প্রতি সম্মান দিয়ে কথা বলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তার কাছে আমরা সব সময় চলে যেতে পারতাম। তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের কাউকে কাজ করতে দেখলে গাড়ি থেকে নেমে কথা বলতেন। তিনি সব সময় এই শহর ও মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে একঘণ্টা কাজ বেশি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আমাদের সবার হৃদয়ে থাকবেন।’

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক সম্পর্কে জানতে চাইলে করপোরেশনের আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রমজান আলী আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। বলেন, স্যারের মতো আর কোনও স্যার নেই। তিনি সবার প্রিয়। আমরা পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলে কখনো আমাদের নিচু দৃষ্টিতে দেখতেন না। আমাদের সাহস দিতেন। উৎসাহ দিতেন। ভালো কথা বলতেন। দেখা হলে আমাদের বাচ্চাদের খোঁজখবর নিতেন। এমন আন্তরিকতা অন্য কোনও মেয়রের সময় আমরা পাইনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিসুল হকের মৃত্যু হয়। গত ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আশির দশকে উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আনিসুল হক। পরে তৈরি পোশাক খাতের সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাদের সংসারে এসেছে চার সন্তান। ছোট ছেলে মো. শারাফুল হক ২০০২ সালের ৭ এপ্রিল মারা যান। বাকি তিন সন্তানের মধ্যে ছেলে নাভিদুল হক মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক, মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনে কাজ করছেন। তানিশা হক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

 

/এসএস/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রেকর্ডভাঙা দাবদাহে ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, তাপমাত্রা ছাড়াতে পারে ৪৩ ডিগ্রি
রেকর্ডভাঙা দাবদাহে ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, তাপমাত্রা ছাড়াতে পারে ৪৩ ডিগ্রি
উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি
উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি
জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
কেন্দ্রীয় কারাগারের অসুস্থ কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু
কেন্দ্রীয় কারাগারের অসুস্থ কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ