টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম

আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৪আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৯

অসুস্থ ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম ৩ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন গফরগাঁওয়ের ভাষা সৈনিক সদস্য আবুল হাশেম। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ থেকে ১৯৭০ ও ৭৩ সালে নির্বাচিত এই সাবেক সংসদ সদস্য এখন টাকার অভাবে নিজের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। তার স্ত্রীও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে দু’বছর ধরে বিছানায়। জাতির গর্ব এই ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধার পাশে এখন কেউ নেই। নিঃসন্তান এই দম্পতির সুচিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন আবুল হাশেমের ভাতিজা দুলাল উদ্দিন।

দুলাল উদ্দিন জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আবুল হাশেমের টিবি (যক্ষ্মা)রোগ ধরা পড়ে। তখন থেকেই তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। ওই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সাড়ে ৩ মাস তিনি চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকেই বিছানায়।

দুলাল উদ্দিন আরও বলেন,‘ইতোমধ্যে ডায়াবেটিস,কিডনি ও হার্টের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। আবুল হাশেমের কোনও সন্তান নেই। স্ত্রী আয়েশা খাতুনও প্রায় দুই বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত।’  

অসুস্থ ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম দুলাল উদ্দিন জানান, মাসে ওষুধের জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এত টাকা জোগানোর সামর্থ্য নেই তাদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহকর্মী এবং ১৯৭০ ও ৭৩ সালের সংসদ সদস্য এই ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তার স্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

আবুল হাশেম গফরগাঁও উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ায় ১৯৩০ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।

গফরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম খোকন বলেন,‘ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম শুধু গফরগাঁও নয়, ময়মনসিংহের গর্ব। তিনি বর্তমানে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভাষা সৈনিক হিসেবে যে মর্যাদা পাওয়ার কথা এখনও তিনি তা পাননি।’

গফরগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বাদল বলেন, ‘ভাষা সৈনিক আবুল হাশেমের চিকিৎসার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

ভাষা সৈনিক আবুল হাশেমের পৈত্রিক বাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী মাহবুব উর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাষা সৈনিক আবুল হাশেমের প্রাপ্য মর্যাদা সরকার নিশ্চয়ই দেবে। তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমি জানাবো।’

ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম জানান, তিনি আওয়ামী লীগ থেকে গফরগাঁওয়ে ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু, রাজনৈতিক সহকর্মী কিংবা একাত্তরের রনাঙ্গনের কোনও সহযোদ্ধাও খোঁজ নিতে আসেন না। তার আক্ষেপ, বঙ্গবন্ধু ও তাজ উদ্দিনের মতো নেতারা বেঁচে থাকলে, চিকিৎসার অভাবে তাকে ৩ বছর বিছানায় পড়ে থাকতে হতো না। তার বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই খবর পৌঁছালে তার উন্নত চিকিৎসার একটা ব্যবস্থা হবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী আবুল হাশেমকে ব্যক্তিগতভাবে তাকে চেনেন, জানেন।

 

/এনআই/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ভাঙা সাইকেল আর দিনমজুরির পথ পেরিয়ে ফারিহা আজ ‘দেশসেরা ফুটবলার’  
ভাঙা সাইকেল আর দিনমজুরির পথ পেরিয়ে ফারিহা আজ ‘দেশসেরা ফুটবলার’  
বঙ্গবন্ধু স্মরণে খিচুড়ি রান্নার সময় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই জন গ্রেফতার
বঙ্গবন্ধু স্মরণে খিচুড়ি রান্নার সময় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই জন গ্রেফতার
ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে থানার সামনে বাবার মৃত্যু
ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে থানার সামনে বাবার মৃত্যু
বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে: নুর 
বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে: নুর 
সর্বাধিক পঠিত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য কে এই ফরহাদ হালিম ডোনার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য কে এই ফরহাদ হালিম ডোনার
আবার খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স
আবার খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স
আমার ওপর হামলা হয়েছে, আমি সরকারদলীয় এমপি হয়েও নিরাপদ নই
আমার ওপর হামলা হয়েছে, আমি সরকারদলীয় এমপি হয়েও নিরাপদ নই
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ