করোনায় ব্যবসা বন্ধ ৮০ শতাংশ গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ জুন ২০২০, ০১:৩৮আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ১১:২৬

নারী উদ্যোক্তা (ফাইল  ছবি) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলকালীন সময়ে ৮০ শতাংশ গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তাদের চলমান ব্যবসা বা উদ্যোগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া নানা সংকট মোকাবিলা করে বাকি ২০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী তাদের  ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট (স্টেপস) এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স (গ্যাড অ্যালায়েন্স)-এর যৌথ উদ্যোগে দেশের ১০ জেলায় সম্প্রতি চারশো জন ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তার মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তৈরি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় স্টেপস। দেশের ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল ও চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
স্টেপস জানায়,  মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, করোনা মোকাবিলার জন্য ঘোষিত সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের পর থেকে ৮০ শতাংশ গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তাদের চলমান ব্যবসা বা উদ্যোগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। নানা সংকট মোকাবিলা করে বাকি ২০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী তাদের উদ্যোগ বা ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, লকডাউনকালীন সময়ে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করার জন্য তারা তাদের ব্যবসার মূলধন খরচ করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলেও মূলধনের অভাবে তাদের ব্যবসা বা উদ্যোগগুলো পরিচালনা করা কঠিন হবে।

স্টেপস জানায়,   জুন থেকে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হলেও গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের নানান প্রতিবন্ধকতা ও নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের এতদিনের শ্রমে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ নারী উদ্যোগের এই ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হলে নারীর সামগ্রিক অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়,  সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেছে, এসময়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আয় না থাকার কারণে নারী উদ্যোক্তাদের ওপর পুরো সংসারের দায় এসে পড়েছে। অন্যদিকে করোনাকালে স্থানীয় পর্যায়ের মার্কেট বন্ধ থাকাসহ মানুষের সীমিত চলাচলের কারণে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় তাদের সংকটে পড়তে হয়েছে। এর ফলে একদিকে কমেছে তাদের নিজেদের আয়, অন্যদিকে তাদের উৎপাদন সহযোগী গ্রামীণ অসহায় নারীদের মজুরি প্রদানেও ব্যর্থ হয়েছেন।

স্টেপসের প্রতিবেদনে পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রণোদনার অংশ হিসেবে দেশে গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের সরকারিভাবে সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে। তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে পুনরায় বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং প্রণোদনার অংশ হিসেবে গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের এককালীন সহায়তা প্রদান করতে হবে।

 

/এসও/এমআর/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদফতর গঠনের আশাবাদ মির্জা ফখরুলের
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদফতর গঠনের আশাবাদ মির্জা ফখরুলের
‘কোথায় আমার জন্মভূমি, কোনটা আমার দেশ’
‘কোথায় আমার জন্মভূমি, কোনটা আমার দেশ’
সংকটের মাঝেও ধার-কর্জের মহাবাজেট
সংকটের মাঝেও ধার-কর্জের মহাবাজেট
ট্রাম্পের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে ইরান?
ট্রাম্পের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে ইরান?
সর্বাধিক পঠিত
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
গ্রীষ্মে ২৪ ঘণ্টা দিন, শীতে অন্তহীন রাত!
গ্রীষ্মে ২৪ ঘণ্টা দিন, শীতে অন্তহীন রাত!