X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ধানমন্ডি-৩২ এর সেই বাড়িটি যেভাবে হয়ে উঠলো ‘বঙ্গবন্ধু জাদুঘর’

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ১৬:৩১

বঙ্গবন্ধু জাদুঘর এক সময়ের ধানমন্ডি-৩২ নম্বর রোডের ৬৭৭ নম্বর বাড়ি। যার পরিবর্তিত বর্তমান ঠিকানা ১০ নম্বর বাড়ি, রোড নম্বর-১১, ধানমন্ডি-ঢাকা। এর ব্যাপ্তি ছড়িয়েছে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’ নামে। ১৯৬১ সাল থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে এখানেই থাকতেন। এ বাড়ি থেকেই পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ধাপ। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ছয় বছর পর তার বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাকে এ বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি হাউজ বিল্ডিংয়ের ঋণ শোধ করে বাড়িটি বুঝে পান। এরপর বঙ্গবন্ধুর জীবিত দুই সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট থেকে বাড়িটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

দখল হয়ে যায় বাড়িটি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১০ জুন পর্যন্ত এই বাড়িটি সামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে ছিল। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনও সদস্যকেই এ বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে ১৭ মে দেশে ফিরলেও সেদিন তাকে এই বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যে কারণে বাড়ির বাইরের সামনের চত্বরে বসে পরিবারের সদস্যসের জন্য দোয়া ও মিলাদ পড়েন তিনি।

ভবনের নিচতলা

এর কিছুদিন পর হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ঋণে নির্মিত ভবনটি নিলামে ওঠানো হয়। তৎকালীন প্রায় ১২ হাজার টাকার কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় নিলামে চড়ানো হয় বাড়িটি। সে টাকা পরিশোধ করে বাড়ি বুঝে পান শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের জুন মাসের ১০ তারিখে বাড়িটি বুঝে নেওয়ার পর দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঘোষণা করেছিলেন ঐতিহাসিক এই বাড়িটি হবে জনগণের। ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট ৩২ নম্বরের এই বাড়িটি ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। এর আগে ৩২ নম্বরের বাড়ি ও টুঙ্গিপাড়ার বাড়ি দেখাশোনা করার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। ট্রাস্টিই বাড়িটিকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা দেয়।

দেয়ালে রক্তের ছাপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বিশেষ সহকারী এবং তার স্বামী প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ভাগ্নি সেলিমা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে যখন বাড়িটি বুঝে পান তখনও এ বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ছিল রক্তের ছাপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতায় নিজে এবং তার সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে বাড়িটি পরিষ্কার করেন।

বঙ্গবন্ধু জাদুঘর

সেলিমা খাতুন জানান, রাজধানীতে নিজেদের থাকার কোনও জায়গা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোনের ইচ্ছানুযায়ী এ বাড়ি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাড়িটিকে ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ট্রাস্ট বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর ঘাতকচক্র এই বাড়িটি সিল করে রাখে এবং বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। 

সবকিছুর কেন্দ্রস্থল ছিল এই বাড়ি

১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১-এর শুরুতে অসহযোগ আন্দোলন—নানা চড়াই-উৎরাইয়ের সাক্ষী এই বাড়ি। এসব আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৩২ নম্বরের এই বাড়ি।

বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ (১৯ আগস্ট, ২০১৬ সালের ছবি)

এখান থেকেই ট্রাঙ্ক কলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড ও লাল সবুজের পতাকা। এই বাড়িতেই শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতায় রূপান্তরিত হয়েছেন। এই বাড়িতেই বঙ্গবন্ধু সপরিবারে জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এই বাড়িতেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।

ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের এই বাড়ি জাদুঘরে রূপান্তরিত করার কাজে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বাড়িটি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজে যারা শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছিলেন তাদের অনেকেই বেঁচে নেই। প্রয়াত কবি সুফিয়া কামাল, সাংবাদিক বেবী মওদুদ, ভাষা সৈনিক গাজীউল হক, ফটো সাংবাদিক পাভেল রহমান প্রমুখ নানা সময়ে জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত ছিলেন। বিশ্বের বহু খ্যাতনামা ব্যক্তি ঘুরে গেছেন এই বাড়ি

এখানে সেখানে থাকছিলেন শেখ হাসিনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শেখ হাসিনা এখানে-ওখানে থাকছিলেন। তাকে কেউ বাসা ভাড়া দিচ্ছিলেন না। এমনকি অনেক নিকট আত্মীয়ও তাকে থাকতে দিতে চাননি। এক পর্যায়ে তার স্বামী মহাখালীতে সরকারি কোয়ার্টার পান। এরপরই তিনি থিতু হন। তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ধানমন্ডি-৩২ থেকেই পরিচালিত হতো। প্রায় প্রতিদিন সকালে পারিবারিক কাজকর্ম সেরে তিনি এখানে আসতেন। বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে ফেরত যেতেন। এমনি একদিন (স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়) একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হয়ে পড়েন গৃহবন্দি। এরপর থেকেই তিনি বাড়িকে কীভাবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যায় সে ভাবনা ভাবতে থাকেন। তার ধারাবাহিকতায় এটি আজ জাদুঘর।

সে সময় পরিস্থিতি বৈরী থাকায় এর কাজ এগোয় খুব ধীরগতিতে। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে এ নিয়ে দুই বোন আলাপ-আলোচনা করেন। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আর এ ট্রাস্টের মাধ্যমেই বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান জানান, এখন বাড়িটিতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ দর্শনার্থী আসেন। জাতীয় দিবসগুলোয় এ পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। বাড়িটিতে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের ব্যবহার্য জিনিস সংরক্ষণের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর পড়ার ঘরসহ অন্যান্য ঘরও যথাসম্ভব একইরকম রাখা হয়েছে।

যেভাবে শুরু হয় বাড়িটি

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করার সময় বঙ্গবন্ধু চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সপরিবারে সেগুনবাগিচার ১১৫ নম্বর সরকারি বাড়িতে বসবাস করতেন। ১৯৫৮ সালের ১২ অক্টোবর ওই বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিন দিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়। অবশেষে বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় মাসিক ২০০ টাকায় বয়েজ স্কুলের মাঠের পাশে পুলিশ কর্মকর্তার মালিকাধীন বাড়ি ভাড়া নেন। সরকারি এজেন্সির হুমকি ধমকির মুখে এ বাড়িটিও ছাড়তে বাধ্য হন তারা। পরে কবি সুফিয়া কামালের প্রচেষ্টায় সেগুনবাগিচার ৭৬ নম্বর বাড়িতে মাসিক ৩০০ টাকা ভাড়ায় ওঠেন।

বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের বর্ণিত তথ্য ও অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রী থাকাকালীন তার একান্ত সচিব নূরুজ্জামান বেগম মুজিবের অনুরোধে ধানমন্ডি এলাকার জমির জন্য গণপূর্ত বিভাগে আবেদনপত্র জমা দেন। ১৯৫৭ সালে ছয় হাজার টাকায় ধানমন্ডিতে এক বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে প্রথমে এখানে দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা বাড়ি ও পরে দোতলা করা হয়।

১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্মাণাধীন এই বাড়িতে ওঠেন। তখন একতলা বাড়িটিতে মাত্র দু’টি শয়নকক্ষ ছিল, যার একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধু দম্পতি থাকতেন। ১৯৬৬ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিচতলার এই কক্ষেই বঙ্গবন্ধু দম্পতি থাকতেন। দ্বিতীয় তলায় বসবাস শুরু হলে এই কক্ষটি তিনি গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহার করতেন। উত্তর পাশের লাগোয়া কক্ষে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা থাকতেন। এই কক্ষেরই একপাশে থাকতেন শেখ কামাল ও শেখ জামাল। বাড়িতে ঢুকতেই ছিল ছোট একটি কক্ষ, যা ড্রয়িং রুম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সফল নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সিদ্ধান্ত এই বাড়ি থেকেই দেওয়া হতো। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর এই বাড়ি থেকেই বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে যে দিক-নির্দেশনা দিতেন সেই মোতাবেক দেশ পরিচালিত হতো।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অপারেশন ‘সার্চ লাইট’ নামে নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে হত্যা ও গণহত্যা চালায়। এ খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু এই বাড়ির নিচ তলায় তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার থেকে টেলিফোনে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণার খবর ওয়্যারলেস ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই বাড়ি থেকেই ২৫ মার্চ রাত ১টা ৩০ মিনিট তথা ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালি জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা সেনানিবাস ও পরে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মিওয়ানওয়ালি কারাগারে বন্দি করে রাখে। বাংলাদেশ বিজয় লাভ করার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাড়িটি দখল করে রাখে। অপরদিকে ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কের ২৬ নম্বর বাড়িতে মুজিব পরিবারকে বন্দি করে রাখা হয়।

সরকারি বাড়িতে না উঠে নিজের বাড়িতে থাকছিলেন বঙ্গবন্ধু

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়েছিল এই বাড়িটি। তাই তিনি নিজ বাড়িতে উঠতে পারেননি। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বাড়ির মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর পরিবার নিয়ে সরকারি বাসায় না উঠে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন।

কিন্তু এই বাড়ি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের ভোররাতে জাতির জনকের রক্তে ভেসে যায়। একে একে ঘাতকরা হত্যা করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব (বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী), শেখ কামাল (বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র), শেখ জামাল (বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র), শেখ রাসেল (বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র), শেখ আবু নাসের (বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ছোট ভাই), সুলতানা কামাল খুকু (শেখ কামালের স্ত্রী), পারভীন জামাল রোজী (শেখ জামালের স্ত্রী)। বঙ্গবন্ধু পরিবারের মোট আট জনকে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এ ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর পরিবারসহ সর্বমোট ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২০ আগস্ট  মূল ভবনের উত্তরে এর সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন করা হয়। এই ষষ্ঠ তলা ভবনে ২৬টি পর্বে বঙ্গবন্ধুর তথ্য ও সচিত্র ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে।

ইতিহাসের সাক্ষী
ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনকে জাদুঘরে পরিণত করা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, ‘এই বাড়িকে ঘিরে সবসময় একটা চিন্তা ছিল যে, এমন একটা কিছু করবো যা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। আমাদের দুই বোনের থাকার মতো জায়গাও ছিল না, তারপরও বাড়িটি জাদুঘরের জন্য দিয়েছি। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর কেউ বাড়ি ভাড়া দিতো না। আমাদের ধানমন্ডির বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একরাত ছোট ফুপুর বাড়িতে, একদিন মেজো ফুপুর বাড়িতে এইভাবে আমাকে থাকতে হতো। তারপরও আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল আমরা এটাকে স্মৃতি জাদুঘর করবো।’

আরও পড়ুন-

মোশতাকের কেবিনেট সদস্যদের পরিণতি

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় যেভাবে

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কে কোথায়

/এফএস/এমএমজে/

সম্পর্কিত

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৫৯

দেশে আবারও স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। সপ্তাহের নির্ধারিত একদিন এ সুযোগ থাকবে।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ফেসবুক লাইভে এসে এ কথা জানান।

এ সময়ে তিনি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। জানান, প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত একদিনের ভিত্তিতে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত এবং ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা নিতে বলা হবে।

তিনি বলেন, ‘টিকা দেওয়ার সময় যারা বয়স্ক, তারা যেন পান—এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’

‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমিত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা মাথায় রেখে টিকাদান কার্যক্রমে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় টিকা পাওয়ার উৎস নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি মাসে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এক কোটিসহ প্রায় দুই কোটির মতো টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আর এ জন্য মাঠ পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি আরও কীভাবে বাড়ানো যায় বা সম্প্রসারণ করানো যায়, সে বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছি।’

মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে, আর তাই সেসব স্কুল কলেজে আগে যেখানে টিকাদান কর্মসূচি চলতো, বিশেষত স্কুল, সেই জায়গাগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হয়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি উপজেলা অডিটোরিয়ামে এবং উপজেলার যেকোনও বড় হলরুমে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। সপ্তাহের যে দুদিন নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকবে না, এমন দুই দিন করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তারা কোভিড-১৯-এর টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে একটি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করবেন। টিকা প্রত্যাশীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকার জন্য নিবন্ধন করবেন এবং এসএমএস পাওয়া সাপেক্ষে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে টিকা নেবেন বলে জানান তিনি।

/জেএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

মৃত্যু বাড়লেও কমেছে শনাক্তের হার

মৃত্যু বাড়লেও কমেছে শনাক্তের হার

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৫৬

কক্সবাজারে বন বিভাগের ৭০০ একর বনভূমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করেছে সংসদীয় কমিটি। ওই জায়গায় যাতে প্রকল্পটি গ্রহণ না করা হয়, কমিটি সেই ব্যবস্থা করতে বলেছে।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটি বলেছে, সংরক্ষিত ওই বিপুল বনভূমি কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বন অধিদফতর বলছে, বনভূমির মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  

সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করছি। সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা যদি জমি নিয়ে নেয়, এটা তো ঠিক নয়।’

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আরেকটি প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নির্মাণ করতে সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নির্মাণের জন্য ওই জমি এক টাকা প্রতীকী মূল্যে  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ঝিলংজা বনভূমির ওই এলাকা প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।

এর আগে ২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্টেশন’ নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদফতরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়। সংস্থাটি ওই বছরই বিভিন্ন শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়।

ওই এলাকাকে ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে এটাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়।

২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে উল্লেখ আছে।

সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই জমিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ১০০ একর সৃজিত বাগান রয়েছে। ২০-২০০ ফুট পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গর্জন, চাপালিশ, তেলসুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ওই এলাকা হাতি, বানর, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির আবাসস্থল।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই এলাকায় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই জমি বরাদ্দ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এ বনভূমিতে কোনও ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা নিষেধ।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বোঝার চেষ্টা করছি— এটা কীভাবে হলো। যদি কেবল জমির দাগ ও খতিয়ান দেওয়া হয় এবং ভূমির আকার ও প্রকৃত বর্ণনা না করে, সেটা হতে পারে কিনা। আমরা মনে করি, সেটাই হয়েছে। এটা আমরা দেখবো। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে যে অনুমতি এসেছে, সেই দফতরও হয়তো এই বিষয়টি পুরোপুরি জানে না।’

তিনি বলেন, ‘এই জমির বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সংরক্ষিত বন হিসেবে এই জমির মালিক জেলা প্রশাসন। আর এ জমি কোনও অবস্থাতেই বন্দোবস্তযোগ্য নয় বলে রিমার্ক থাকে। অর্থাৎ, এই জমি কোনও অবস্থাতেই বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না। কাজেই এই জমি বন্দোবস্তো দেওয়ার কোনওি সুযোগ নেই।’

সভাপতি আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করি। তবে ওই জায়গায় এটা হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ, আমাদের বিধি-নিয়ম এমনকি এটা সংবিধান পরিপন্থী। এটা অন্য জায়গায় হোক।’

ওই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি এসেছে জানিয়ে করে সভাপতি বলেন, ‘আমরা সেই চূড়ান্ত অনুমতি দিতে না করেছি। পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলেছি। আমরা চাই, বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়।’

বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে বলেও তিনি জানান।

বনভূমির ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া ‘বিধিসম্মত’ হয়নি উল্লেখ করে সাবের হোসেন বলেন, ‘যেহেতু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন তারা প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র চেয়েছে। আমরা এটা না দিতে বলেছি। পরিবেশমন্ত্রীও আমাদের সঙ্গে একমত।’

বনবিভাগ থেকে আগেই আপত্তি দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে আগেই বলেছিল— এটা দেওয়া যাবে না। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর থেকে একটা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা জানতো না জমির ধরন কী। তাদের কাছে হয়তো দাগ ও খতিয়ান নম্বর দেওয়া হয়েছে।’

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারে ওই বনাঞ্চলের ৭০০ একর জায়গায় জনপ্রশাসন অ্যাকাডেমি নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পর্যালোচনা করার সুপারিশ করা হয়।

এছড়া কমিটি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করে।

সাবের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার বৈঠকে অংশ নেন।

/ইএইচএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

৫৯টি আইপি টিভি বন্ধ করলো বিটিআরসি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪২

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ৫৯টি অবৈধ ও অনিবন্ধিত আইপি (ইন্টারনেট প্রোটোকল) টিভি বন্ধ করেছে। রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিটিআরসি।

আইপিটিভি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করতে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে প্রচারিত কনটেন্ট ইন্টারনেট প্রটোকল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সম্প্রচার করার প্রক্রিয়া হলো আইপিটিভি। বিটিআরসি কেবল লাইসেন্সধারী আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইপিভিত্তিক ডাটা সার্ভিসের (স্ট্রিমিং সেবা, আইপিটিভি, ভিডিও অন ডিমান্ড) অনুমোদন দিয়ে থাকে।

বিটিআরসির কাছ থেকে আইপিটিভি সেবার অনুমোদনপ্রাপ্ত আইএসপি অপারেটররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার শুধু তাদের গ্রাহকদেরই দেখাতে পারবে। তবে প্রতিটি চ্যানেলকে প্রোগ্রাম বা কন্টেন্ট প্রচারে প্রয়োজনীয় চুক্তি, অনুমোদন বা ছাড়পত্র সংশ্লিষ্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিককালে লক্ষ করা যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ডোমেইন কিনে বা ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে জনগণকে আইপিটিভি প্রদর্শন করছে, যার কোনও বৈধ অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া উক্ত সম্প্রচার অনৈতিক এবং টেলিযোগাযোগ আইনের লঙ্ঘন। যেসব আইপিটিভি বন্ধ করা হয়েছে সেসবের কার্যক্রমের সঙ্গে বিটিআরসির আইপিভিত্তিক ডাটা সার্ভিসের জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

/এইচএএইচ/এমআর/এমওএফ/

মৃত্যু বাড়লেও কমেছে শনাক্তের হার

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১৭

করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। তবে কমেছে দৈনিক শনাক্তের হার। এ সময় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৮৩ জন, যা গতকাল (শনিবার) ছিল এক হাজার ১৯০ জন। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৩ জন, যা গতকাল ছিল ৩৫ জন। 

তবে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়লেও গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় শনাক্তের হার তার আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে কম। এ সময়ে করোনায় রোগী শনাক্তের হার পাঁচ দশমিক ৬২ শতাংশ, আর গতকাল ছিল ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। 

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন এক হাজার ৩৮৩ জনকে নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৮৩ জন। এই সময়ে মারা যাওয়া ৪৩ জনকে নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট ২৭ হাজার ২২৫ জন মারা গেলেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৮৮৭ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ এক হাজার ৫৪১ জন।

একদিনে করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৪ হাজার ১২৮টি আর পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ৬২৩টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৪টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়  ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৫২টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার পাঁচ দশমিক ৬২ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার ৯৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৬ শতাংশ।

একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৪৩ জনের মধ্যে পুরুষ ২২ জন আর নারী ২১ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৫১২ জন আর নারী নয় হাজার ৭১৩ জন। এদের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে চার জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে নয় জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আট জন, রাজশাহী বিভাগের চার জন, খুলনা বিভাগের ছয় জন, সিলেট বিভাগের দুই জন, রংপুর বিভাগের তিন জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন একজন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন আট জন।

/জেএ/এনএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

সাড়ে তিন মাস পর সর্বনিম্ন শনাক্ত

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৭

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৫

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু করেছে সরকার। তাদের দেখভালের বিষয়ে সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে আলোচনা চলছে। একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করবে জাতিসংঘ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো। তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে ডিক্যাব আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ তিনি বলেন, ‘ভাসানচর নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত মার্চে জাতিসংঘের টেকনিক্যাল মিশন তাদের কাজ শেষ করেছে।’

মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘ভাসানচর নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর আমরা সেখানে দ্রুত সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ শুরু করবো।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে জাতিসংঘের যে ভূমিকা, তা থেকে ভাসানচরে ভূমিকা ভিন্ন হবে। কারণ, দু’টি জায়গার পরিস্থিতি ভিন্ন।’

রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়ে মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে কীভাবে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে, সেটি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ আছে।’ এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও মানবিক সমস্যা। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অনেক লোকের মানবিক সহায়তার দরকার আছে বলে তিনি জানান।

 

/এসএসজেড/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

‘ভাসানচর নিয়ে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে’

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

না জানিয়ে পরিদর্শনে যাবো: শিক্ষামন্ত্রী

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

পণ্য পরিবহনে ধর্মঘটের কর্মসূচি, জানে না মন্ত্রণালয়

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

‘পর্যটনে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সৌদি আরব গুরুত্ব দিয়ে আসছে: সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

‘ই-কমার্সের জন্য নতুন আইন দরকার’

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিলে যা ছিল

সর্বশেষ

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৪ জনকে বদলি

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৪ জনকে বদলি

ইস্যু আফগানিস্তান: ৩ দিনের ভারত সফরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইস্যু আফগানিস্তান: ৩ দিনের ভারত সফরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতির শহীদ মিনা‌রে ছবি তোলা নি‌য়ে বিতর্ক

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতির শহীদ মিনা‌রে ছবি তোলা নি‌য়ে বিতর্ক

গুগলও আনছে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন

গুগলও আনছে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

© 2021 Bangla Tribune