X
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

ছবি বিনিময়ে জট কাটছে দুই বাংলায়

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৩:৫৯
image

আবেগ এবং বাস্তবতার কাঁটাতারে পেঁচিয়ে গেছে দুই বাংলার ছবি। একে অপরকে (টালিগঞ্জ-ঢালিউড) ছাড়া ঠিক যেন এগুতে পারছে না আর। আয়োজন-উদ্যোগের ঘাটতি নেই, তবুও কেবল পা জড়িয়ে যাচ্ছে পায়ে। এগুচ্ছে না ভাতৃত্বের পথ, ধুলো জমছে ছবির ক্যানভাসে, হলমুখি শ্রোতারা বৈচিত্রের অভাবে ক্লান্ত। দুই বাংলাতেই সমান চিত্র। তাইতো বাংলা ছবির বাজার ভাগাভাগি করতে তৎপরতা বেড়েছে, দুই দিকেই। কলকাতার শীর্ষ শিল্পী-প্রযোজক আর ঢাকার মন্ত্রী-পরিবেশকদের এ বিষয়ে আন্তরিকতার অভাব নেই এক চুলও। ঢাকার টিভি চ্যানেল কলকাতায় অলিখিত নিষিদ্ধ ইস্তেহারে বন্দি, তাতে কী! বোকাবাক্সের চিৎকার এখনও গ্রাহ্য নয়, কোনও পাড়ায়। তবে ছবি বিনিময়ের জন্য গত ক’বছর ভালোই হট্টোগোল চলছে দু’পাড়ায়। পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই। ফের এটাও চিরন্তন- কাঁটাতার গলে পুরোটাই তো বাংলা। ফলে দুই বাংলার ছবিওয়ালাদের মুক্ত বিকাশের স্বার্থে, দর্শক মনে বৈচিত্র্য আনাটা আবশ্যক। হচ্ছেও তাই।

ঋজুবসুর লেখায় সে নিশ্চয়তাই মিলেছে। কলকাতা-বাংলাদেশের সীমান্ত কাঁটাতার টানা নো ম্যান্স ল্যান্ডে দাঁড়িয়েই লেখাটি লিখেছেন বলে মনে হবে পাঠক চোখে। ‘বাংলা ছবি বিনিময়ে জট কাটছে দুই বাংলায়’ শিরোনামের লেখাটি সোমবার ছেপেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। যার হুবহু তুলে ধরা হলো বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য। অপুর সংসার, ছুঁয়ে দিলে মন এবং বেলাশেষে  
সেই ‘ভাগের মা’য়ের গল্প। ভাঙন ধরা পরিবারে ভাগের মাকে নিয়ে ছেলেমেয়েদের টানাপড়েনের করুণ চিত্রনাট্য সেলুলয়েডে আকছার বক্স-অফিস মাত করেছে।

ভাগ হওয়া বাঙালি দর্শককে নিয়ে কিন্তু ছবির প্রযোজক-পরিচালকদের হতাশার অন্ত নেই। এ-পার বাংলার (কলকাতা) ছবি সচরাচর রাজ্যের বাইরে দেখার সুযোগ মেলে না। ও-পারের (বাংলাদেশ) ছবিরও এ-পারে ঢোকা কার্যত নিষেধ। ভাল বাংলা ছবি দেখার পথে রাজনীতি-কূটনীতির অদৃশ্য দেওয়ালটাই যেন সব থেকে বড় ট্র্যাজেডি। টালিগঞ্জের তা-বড় তারকা থেকে পরিচালক-প্রযোজককুল, কথায়-কথায় এই নিয়ে আক্ষেপ করে থাকেন।

ও-পার বাংলার প্রভাবশালী মহল থেকে সিনেমারসিক আমনাগরিকের আক্ষেপটাও কম নয়। বছরে অন্তত এক-দু’বার কলকাতায় বেড়াতে এলে চট্টগ্রামের ফারহানা-রকিবুলদের মেনুতে একটি কি দু’টি বাংলা ছবি থাকবেই। ‘ব্যোমকেশ-ফেলুদা’ থেকে অপর্ণা সেন, কৌশিক-সৃজিত-শিবপ্রসাদদের ছবি যখন যেটা মেলে, কলকাতায় এলেই গোগ্রাসে গেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন তারা। বছর তিনেক আগে এ শহরে বণিকসভা ফিকি-র অনু্ষ্ঠানে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পাশে বসে বাংলাদেশের তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু পর্যন্ত উদ্বেল হয়েছিলেন। কৈশোরে ঢাকার ‘বলাকা’ প্রেক্ষাগৃহে ‘অপুর সংসার’ দেখার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল তার।

গত শতকের ষাটের দশকের মাঝপর্ব অবধি ও-পার বাংলায় কলকাতা বা মুম্বইয়ের ছবি দেখা যেত অবাধেই। ’৬৫-র ভারত-পাক যুদ্ধের পরে পরিস্থিতি পাল্টায়। ক্রমশ ঢের জল গড়িয়েছে পদ্মায়-গঙ্গায়। ‘অপুর সংসার’-এর ‘অপু’ সৌমিত্র এখন পক্ককেশ পোড়খাওয়া অভিনেতা। কিন্তু দু’দেশের সিনেমাহলে পরস্পরের মুখ দেখাদেখি এখনও কার্যত বন্ধ। ইলিশ-জামদানি বা চা নিয়ে দুই বাংলার কূটনীতি বা কুটুম্বিতা তা-ও নরমে-গরমে ওঠানামা করে। সিনেমার ক্ষেত্রটিতে খড়ির দাগের বিভাজনটাই শেষ কথা। কলকাতার ছবি এ-দেশে, আর ঢাকার ছবি ও-দেশে সীমিত গন্ডিতে আটকে থাকাই দস্তুর। আসন্ন ভাষা-দিবসের প্রাক্কালে সেই ছবিটাই পাল্টাতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘বেলাশেষে’ ঢাকা-চট্টগ্রাম-রাজশাহি-খুলনা-বরিশালে বাণিজ্যিক ভাবে মুক্তি পেতে চলেছে। একই সময়ে কলকাতা ও আশপাশের হলে আসবে ও-পার বাংলার শিহাব শাহীন পরিচালিত সাম্প্রতিক জনপ্রিয় ছবি আরিফিন শুভ-জাকিয়া বারি মম জুটির ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। ছুঁয়ে দিলে মন, শুভ-মম
বাংলাদেশের তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী ইনু সাহেব এই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তার কথায়, ‘‘দু’দেশে ছবি রিলিজের ক্ষেত্রে আইনি জট এখনও আছে। কিন্তু আইনের ভিতরে কিছু জানলাও খোলা। সেগুলিকে দু’দেশের চলচ্চিত্র স্রষ্টাদেরই কাজে লাগানো উচিত।’’ এ যাত্রা, ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত আইন কাজে লাগিয়ে বিনিময়ের ভিত্তিতে দুই বাংলার দু’টি ছবিকে দু’দেশে দেখানোর বন্দোবস্ত হয়েছে। এর জন্য দু’দেশ থেকেই আলাদা করে ছবি দু’টির সেন্সরের ছাড়পত্র জোগাড় করা হয়েছে।
‘‘আমার কাছে এটা স্বপ্ন সফল হওয়া! এতে আমাদের দু’দেশের ছবিই অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’’— বলছেন টালিগঞ্জের অভিভাবকপ্রতিম তারকা প্রসেনজিৎ। বছর দুয়েক আগে এই বাংলার ছবির জন্য দরবার করতে পরিচালক গৌতম ঘোষ, প্রযোজক মণি, বিজয় খেমকা প্রমুখের সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। গৌতম ঘোষও দুই বাংলার যৌথ উদ্যোগে ছবি নির্মাণের সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে জড়িত। ‘পদ্মানদীর মাঝি’ ‘মনের মানুষ’-এর পরিচালকের পরের ছবি ‘শঙ্খচিল’ও দু’দেশের ‘কো-প্রোডাকশন’। গৌতমের কথায়, ‘‘দু’দেশের যৌথ ছবি-র ক্ষেত্রে একসঙ্গে দুই বাংলায় রিলিজ এখন মসৃণ হয়েছে। কিন্তু যে কোনও ভাল বাংলা ছবি দুই বাংলায় দেখানো না-গেলে ছবির বাণিজ্য থমকে যাবে।’’
বাস্তবিক, বাজারের যা হাল, টালিগঞ্জের ছবির বাজেট এক কোটি, সওয়া কোটি ছাড়ালেও দুশ্চিন্তায় প্রযোজকের রাতের ঘুম মাটি হয়। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর, এ-পারে ছবির বাজেট দেড়-দু’কোটির বেশি হলে প্রযোজকের পক্ষে টাকা তোলাটাই কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। প্রযোজক কৌস্তুভ রায় থেকে পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী সকলেই এক মত, বাজারের পরিধি না-বাড়লে এর বেশি কিছু করা যাবে না। এই বাংলায় মেরে-কেটে ২০-২৫টি মাল্টিপ্লেক্স। মহারাষ্ট্র বা অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন শহর মিলিয়ে এর সংখ্যা ১০০-র কাছাকাছি। এ রাজ্যে হলের সংখ্যা কমতে কমতে ৩৫০-য় এসে ঠেকেছে। অন্ধ্রে হলের সংখ্যা, এর দশগুণ। তা ছাড়া, মহারাষ্ট্রে মরাঠি ছবির মতো বিপুল করছাড় বা হলে ‘প্রাইম টাইমে’ দেখানোর সুবিধাও এ রাজ্যে সুলভ নয়। ফলে, হিট তেলুগু বা মরাঠি ছবি যেখানে অনায়াসে ২৫ কোটির শৃঙ্গ ছোঁওয়ার কথা ভাবতে পারে, বাংলা ছবির ব্যবসা তিন-চার কোটি ছুঁলেই তা প্রায় লটারি জেতার সামিল।

ও-পার বাংলার ছবিটাও খুব আলাদা নয়। ঢাকার ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর, বাংলাদেশেও ভাল হল হাতে গোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় ছবির বাজেট ৮০ লক্ষ ছাড়ালেই সেখানেও প্রযোজকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর সহ-প্রযোজক তাহসিন সঈদ কবুল করছেন, ‘‘সুপারস্টার শাকিব খানের ছবি ছাড়া বাংলাদেশের সিনেমা দু’-আড়াই কোটির বেশি ব্যবসা করছে, তা প্রায় অভাবনীয়।’’

অথচ, সংখ্যার নিরীখে বাংলাভাষাভাষীরা বিশ্বের ছ’নম্বর জনগোষ্ঠী। এ-পার বাংলায় ১০ কোটি, বাংলাদেশে ১৬ কোটি বাঙালি রয়েছেন। অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে শুরু করে বিলেত-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ ধরলে আরও পাঁচ-ছ’কোটি বাংলাভাষী রয়েছেন। বলিউডি ছবির নামজাদা আন্তর্জাতিক পরিবেশক ইরোজ ফিল্মসের কর্তা নন্দু আহুজা আবার বলছেন, ‘‘ভাল ছবির ক্ষেত্রে ভাষাটাও বাধা নয়। ‘বেলাশেষে’ বা কয়েক বছর আগের ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর মতো কিছু বাংলা ছবি প্রমাণ করেছে ঠিকঠাক প্রচার পেলে অবাঙালিরাও তা দেখতে যাবেন।’’ বেলাশেষে’তে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
এমনিতেও টালিগঞ্জের ছবির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ছবি বিদেশে রিলিজ না-করা গেলেও বিলেত-আমেরিকা কি বাংলাদেশে চোরা প্রিন্ট ঠিক পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাতে বেশি লোকে ছবি দেখলেও, ব্যবসার সুফল প্রযোজকের ঘরে ঢুকছে না। বলিউডের ছবির ঢঙে বাংলা ছবির ক্ষেত্রেও একযোগে ‘অল ইন্ডিয়া’ বা ‘ওয়র্ল্ড রিলিজ’টাও তা-ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখনই সেটা করা যাচ্ছে না! তবে পণ্য আমদানি-রফতানির নিয়মে দু’দেশের দু’টি হিট ছবি দুই বাংলায় পৌঁছে দেওয়াও কম কথা নয়, মানছেন দু’দেশের ইন্ডাস্ট্রির লোকজনই। টালিগঞ্জের অভিজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, যা হোক, তা হোক করে বিদেশে ছবি রিলিজের মানে হয় না। এর আগে বিগবাজেট ছবি ‘চাঁদের পাহাড়’-আমেরিকায় কয়েকটি হলে রিলিজ করলেও দারুণ কিছু সাড়া মেলেনি। ঢাকায় বলিউডের কয়েকটি ছবি মুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশের একটি ছবিও কলকাতার অকিঞ্চিৎকর একটি হলে রিলিজ করা হয়েছিল। তাতেও লাভ হয়নি। এ যাত্রা ছবি বিনিময়ের উদ্যোগটির সঙ্গে জড়িত জিরোনা এন্টারমেন্ট সংস্থার কর্ণধার শুভজিৎ রায় কিন্তু আটঘাট বেঁধে এগোচ্ছেন। টালিগঞ্জে গত বছরের সব থেকে হিট ছবি ‘বেলাশেষে’ বাংলাদেশে গোটা দশেক শহুরে হলে দেখানোর ছক কষা হয়েছে। মাথায় রাখা হয়েছে, মধ্যবিত্ত পারিবারিক পরিমণ্ডলে ছবিটি ভাল সাড়া ফেলেছিল। আর বাংলাদেশের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর জন্যও এই বাংলার অভিজ্ঞ পরিবেশক পিয়ালি ফিল্মসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা হয়েছে। ছবিটির জন্য কলকাতা ও আশপাশের ১০-১৫টি হল বেছে নেওয়া হয়েছে। একই তারিখে ঢাকা-কলকাতায় দু’টি ছবির মুক্তির চেষ্টা চলছে।
এখানেই শেষ নয়। শুভজিৎদের উদ্যোগে এর পরে দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘নাটকের মতো’ ছবিটিরও বাংলাদেশে ‘রিলিজ’ প্রায় পাকা হতে চলেছে। বিনিময়ে শাকিব খানের কোনও হিট ছবি দেখার সুযোগ পাবেন, এই বাংলার মানুষ। টালিগঞ্জের তরুণ প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসানের মতে, ‘‘দুই বাংলারই যাতে ভাল হয়, সেটা দেখতে হবে। আর টলিউডের কম বাজেটের ভাল ছবির বাজারটা আর একটু বাড়িয়ে তুলতে পারলে তো খুবই ভাল হবে।’’

ছবি নিয়ে দুই বাংলার এই বেরাদরির সবটাই অবশ্য নিখাদ সম্প্রীতির হাওয়া নয়। এই বাংলার ছবি ঢুকে ও-পার বাংলার ছবির ব্যবসার ক্ষতি করবে, এমন আশঙ্কাও ঢাকার ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে রয়েছে। তবে মন্ত্রী ইনুসাহেব মনে করেন, ‘‘টালিগঞ্জের ছবির দরজা খুললে তা আখেরে বাংলাদেশের ছবির মান বাড়াতেও সাহায্য করবে।’’ পরিচালক গৌতম ঘোষও বলছেন, ‘‘বাংলাদেশের ছবি এই বাংলায় চেনাতেও টালিগঞ্জকে নিজেদের স্বার্থেই বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।’’

সকলেই সার বুঝেছেন, দর্শক ভাগাভাগি ঠেকানো না-গেলে বাংলা ছবির গঙ্গাপ্রাপ্তি ঠেকানো যাবে না! ছুঁয়ে দিলে মন

/এমএম/

সম্পর্কিত

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২১:৩১

দেশ বরেণ্য গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সংগীতের বড় মোর্চা ‘সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ’।

আজ (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে সংগঠনটি তাকে সশ্রদ্ধ বিদায় জানায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন গীতিকবি সংঘ, মিউজিক কমপোজার্স সোসাইটি, কণ্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশ নিয়ে গঠিত নতুন এ সংগঠনটির নেতা ও নির্বাহী সদস্যরা।

ছিলেন সংগীতশিল্পী মানাম আহমেদ, গীতিকবি আসিফ ইকবাল, সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, গীতিকবি জুলফিকার রাসেল ও সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ার। 

শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে মানাম আহমেদ বলেন, ‌‘ভিড় থাকায় করোনার মধ্যে আমরা শহীদ মিনারে যাইনি। যখন একেবারে ভিড় কম হয় সেসময়টা বেছে নিয়েছি। মাগরিবের নামাজের পর আমরা কবরস্থানে গিয়েছিলাম। শ্রদ্ধা নিবেদন ও উনার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেছি।’

মোনাজাতটি পরিচালনা করেন আসিফ ইকবাল।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, এর আগে ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। 

তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

/এম/

সম্পর্কিত

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১৭:৫২

যুগের হাওয়ায় এবার যুক্ত হচ্ছে অভিযুক্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। দীর্ঘদিন কার্যক্রম স্থবির থাকার পর আবারও তারা সরব হয়েছে। তবে সেটি প্রেক্ষাগৃহের বাইরে! 

জানা যায়, দ্রুতই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সঙ্গে সিনেমা আর না বানানোর ঘোষণাও দিলেন আলোচিত প্রযোজক আজিজ।

এরমধ্যে নতুন চারটি ওয়েব সিরিজ নির্মাণে হাত দিয়েছে তারা। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষা থাকা ও নির্মিতব্য আরও তিনটি চলচ্চিত্র আসবে ওটিটিতে।

ওয়েব সিরিজ ও ফিল্ম নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রযোজক আবদুল আজিজ নিজেই।

ওয়েব সিরিজগুলোর নাম ‘অনুতাপ’, ‘পাপ’, ‘বারুদ’ ও ‘খোঁজ’। এরমধ্যে ‘অনুতাপ’ পরিচালনা করছেন সঞ্জয় সমদ্দার। ছবিগুলোর মধ্যে আছে ‘জ্বীন’, ‘এম.আর ৯’ ও ‘মাসুদ রানা’।

জাজ জানায়, জাজের ৩টি সিনেমা করোনার কারণে মুক্তি দিতে পারছে না। এগুলো বিগ বাজেটের। ২-৩ কোটি টাকার ওপর এগুলোর বাজেট। এত টাকা কোনোমতেই ৫০ হল থেকে উঠে আসবে না। তাই, জাজ এখন থেকে ওটিটির জন্য ওয়েব সিরিজ ও ওয়েব ফিল্ম বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি জুলাই থেকেই নতুন করে অফিস সাজিয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ফিরিয়ে আনা হয়েছে অনেক পুরনো কর্মীকে।

এমনকি ওয়েব সিরিজগুলোর জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে জাজের পুরনো শিল্পীদের। তালিকায় আছেন নুসরাত ফারিয়া, পূজা চেরি, সিয়াম, রোশানের মতো তরুণ তারকারা।

দেশ ও বিদেশে আত্মগোপনে থেকে পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আবদুল আজিজ। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘জাজ আর নতুন কোনও সিনেমা বানাচ্ছে না। কারণ তিনটি ছবি এরমধ্যে আটকে আছে। এখন থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ওয়েব সিরিজ ও ওয়েব ফিল্ম বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। ওয়েবের ক্ষেত্রেও জাজ তার পুরনো সুনামের সাথে কাজ করার চেষ্টা করবে।’  

জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলায় লম্বা সময় ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন এই প্রযোজক।

/এম/এমএম/

সম্পর্কিত

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

তালতলায় চিরনিন্দ্রায় শায়িত ফকির আলমগীর

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২১:২৮

হাসপাতালের মর্গ থেকে নির্ধারিত কবরস্থানের দূরত্ব যতোই হোক, সেটা অবধারিত। পরিকল্পনায় মাঝে ছিলো, খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে প্রথম জানাজার বিরতি। কারণ, সেখানেই এই কিংবদন্তির নাগরিক তথা সংগীত জীবনের শুরু ও শেষ।

তবে শুক্রবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই সূচিতে খানিক পরিবর্তন এনেছেন পরিবারের সদস্যরা। কারণ, সরকার তথা শীর্ষরা চাইছিলেন সবার প্রিয় ফকির আলমগীরকে শেষ শ্রদ্ধা কিংবা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা যথাযথ করতে। সিদ্ধান্ত হলো, শনিবার বেলা ১২টায় এই সূর্যসন্তানকে বিদায় জানানো হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে।

শনিবার ঠিক সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হলো ঝিরঝির বৃষ্টি। যথাসময়ে এলেন জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে, নিথর ফকির আলমগীর। গাড়ি থেকে বেদিতে আসার আর পথে ভিজলেন তিনিও। ভিজলো তার জন্য আগত শতাধিক বন্ধু-স্বজন-ভক্ত-মিডিয়া ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। বিস্ময়, এতো এতো মুখের ভিড়ে উল্লেখ কিংবা অনুল্লেখযোগ্য কোনও সংগীতশিল্পীকে চোখে পড়েনি! হতে পারে প্রতিবেদকের বিভ্রম! তবে অন্যদের কাছেও খোঁজ মিলেছে, না সংগীতের কেউ আসেনি এদিন!

তবে এসেছেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই। এরমধ্যে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. আখতারুজ্জামান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্যরা।

সরাসরি না এলেও গভীর শোক ও ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ অনেক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। শুধু দেখা যায়নি সংগীতাঙ্গনের তেমন কোনও ব্যক্তিকে!  

ফকির আলমগীরের সহধর্মিণী সুরাইয়া আলমগীরের অবশ্য এসব নিয়ে আক্ষেপ বা ক্ষোভ নেই। বরং তিনি নাম ধরে ধরেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বৃষ্টিতে ভিজে যারা এসেছেন। বলেছেন কিছু কষ্ট আর প্রত্যাশার কথাও। 

বললেন, ‘এই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আর ফকির আলমগীরের কণ্ঠে মুখরিত হবে না। তার মতো বিপ্লবী কণ্ঠে উদ্ভাসিত হবে না এই প্রান্তর। তিনি চলে গেছেন সব বন্ধন ছিন্ন করে। যে গণসংগীতের মশাল এতোদিন বয়ে চলেছেন ফকির আলমগীর, সেটি যেন এই প্রজন্ম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সেই প্রত্যাশা করছি। যেন এই ধারার সংগীতের মাধ্যমে মেহনতি মানুষের কথা বার বার উচ্চারিত হয়।’

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে সুরাইয়া আলমগীর বলেন, ‘ফকির আলমগীর ছিলেন গণমানুষের শিল্পী। তিনি যেমন সাধারণ লোকের জন্য শত শত গান করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তার গান বীর যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। শোষণ, অন্যায়-অবিচারের কথা তিনি গানে গানে বলেছেন, তার মতো এমন বলিষ্ঠ কণ্ঠযোদ্ধাকে যেন পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেন নতুন প্রজন্ম তার মতো একজন আদর্শ শিল্পীকে চিনতে পারে।’

জানান, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তির জন্য ফকির আলমগীরের ভেতর একটা আফসোস ছিলো। মরণোত্তর হলেও সেটা যেন তাকে দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সেই অনুরোধ জানালেন ফকির পত্নী সুরাইয়া। 

বেলা ১টা বাজার আগেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় খিলগাঁও মাটির মসজিদে। সেখানে জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। 

এর আগে সকাল ১১টায় খিলগাঁও পল্লীমা সংসদের মাঠে ফকির আলমগীরকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রাণ হারান নন্দিত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। 

তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এমএম/

সম্পর্কিত

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১৩:৫৩

স্বামী রাজ কুন্দ্রের ঘটনায় কদিন আগেই স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ অভিমানী স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন শিল্পা শেঠি। বলেছিলেন পেছন ফিরে তাকানো বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পাওয়ার পাত্রী নন তিনি। 

আজ শনিবার (২৪ জুলাই) আবার হঠাৎ সুর বদলে পক্ষ নিলেন স্বামীর। পর্নোগ্রাফির মামলায় আটক রাজ কুন্দ্রের বানানো ছবিগুলোকে পর্নোগ্রাফিক বলতে নারাজ তিনি। বললেন, ‘ওগুলো ইরোটিকা, পর্নো ছবি নয়। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আরও ভুরি অশ্লীল কনটেন্ট আছে।’

শুক্রবার বিকালে শিল্পা ও রাজের বাড়িতে টানা ৬ ঘণ্টা তল্লাশি চালায় মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তল্লাশির সময় কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ। এরপরই শিল্পার বক্তব্য নেয় তারা। তখনই শিল্পা বলেন এসব কথা।

যদিও রাজের ভিডিওচিত্র বানানোর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন শিল্পা, তথাপি তিনি এগুলোকে মোটেও পর্নোগ্রাফিক বলছেন না। তার মতে এগুলো হলো ইরোটিকা তথা যৌন উদ্দীপক শিল্প।

অন্যদিকে, রাজ কুন্দ্রও তার ‍বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন। এমনকি তিনি তার গ্রেফতারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন ভারতের হাইকোর্টে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তারা এবার রাজের ভিডিও বাণিজ্যের সঙ্গে শিল্পা শেঠির ব্যাংক হিসাবের সম্পর্ক আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এফএ/এমএম/

সম্পর্কিত

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১৫:০৭

ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে পূর্বনির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গেলেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। একইভাবে তাকে শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে কিংবা একনজর দেখার আশায় ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত-স্বজন।

শনিবার (২৪ জুলাই) বেলা ঠিক ১২টায় ফকির আলমগীরের নিথর দেহ বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি এসে থামে শহীদ মিনারের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে। তারও আগেই উপস্থিত অনেকেই। কারও হাতে ফুলের তোড়া, কারও মাথায় ছাতা। শহীদ মিনারের বেদিতে ফকির আলমগীরের জন্য সব গুছিয়ে রেখেছিল সম্মিলত সাংস্কৃতিক জোট।

ছবি: সাজ্জাদ হোসাইন ফকির আলমগীর শহীদ মিনারে পৌঁছানোর পর চলমান বৃষ্টির গতি যেন আরও বাড়লো। বললেন সেখানে আগত ফকির ভক্ত হক ফারুক।

ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব বলেন, ‘বাবাকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ১টা পর্যন্ত এখানে রাখা হবে। এরপর বাদ জোহর তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হবে।’ 

এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রাণ হারান নন্দিত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। 

ছবি: সাজ্জাদ হোসাইন তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।


 

 

/এমএম/

সম্পর্কিত

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

সর্বশেষ

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিকার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লকডাউনেও জমজমাট পশুর হাট

লকডাউনেও জমজমাট পশুর হাট

এক কোটি ১৬ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

এক কোটি ১৬ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

পোশাক কারখানার বাইরে তালা ভেতরে চালু

পোশাক কারখানার বাইরে তালা ভেতরে চালু

ঢাকায় এলো উপহারের ২৫০টি ভেন্টিলেটর

ঢাকায় এলো উপহারের ২৫০টি ভেন্টিলেটর

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষিকার

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষিকার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে সোনালী ব্যাংকে হিসাব খোলার নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে সোনালী ব্যাংকে হিসাব খোলার নির্দেশ

মুখ চেনা হলেই খুলে বসেন ‘রাজনীতির দোকান’

‘লীগ’ যুক্ত সংগঠন আছে তিন শতাধিকমুখ চেনা হলেই খুলে বসেন ‘রাজনীতির দোকান’

রাতেই দেশে আসছে ২০০ টন অক্সিজেন

রাতেই দেশে আসছে ২০০ টন অক্সিজেন

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ‍উদ্যোগ থামাতে চায় লোয়াব, বিইআরসির না

গৃহযুদ্ধ থেকে অলিম্পিক, সিরিয়ার এক কিশোরীর বিস্ময়কর যাত্রা

গৃহযুদ্ধ থেকে অলিম্পিক, সিরিয়ার এক কিশোরীর বিস্ময়কর যাত্রা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

ফকির আলমগীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো সংগীত ঐক্য বাংলাদেশ

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

আর ‘সিনেমা’ বানাবে না জাজ, নতুন লক্ষ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

বৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

তালতলায় চিরনিন্দ্রায় শায়িত ফকির আলমগীরবৃষ্টিতে ভিজে এলেন তিনি, ছাতা নিয়েও আসেনি কেউ...

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

স্বামীর পর্নোগ্রাফি নিয়ে সাফাই গাইলেন শিল্পা!

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

টিভিতে উল্লেখযোগ্য যত নাটক-টেলিছবি-স্বল্পদৈর্ঘ্য...

ঈদের চতুর্থ দিনটিভিতে উল্লেখযোগ্য যত নাটক-টেলিছবি-স্বল্পদৈর্ঘ্য...

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শহীদ মিনারে ফকির আলমগীরকে জানানো হবে শেষ শ্রদ্ধা 

শেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

স্মরণে ফকির আলমগীরশেষ জন্মদিনে যে কথা দিয়েছিলেন অসহায়দের...

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

শনিবার তালতলা কবরস্থানে সমাহিত হবেন ফকির আলমগীর

আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

স্মরণে ফকির আলমগীরআজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হলো: ফেরদৌস ওয়াহিদ

© 2021 Bangla Tribune