X
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

যে ছয় কারণে নির্মিত হলো এক্সিবিশন সেন্টার

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:০০

রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ করেছে সরকার। ২০ একর জমির ওপর নির্মিত এক্সিবিশন সেন্টারটি রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাইনিজ স্টেট কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। এক্সিবিশন সেন্টারটির নাম রাখা হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। এ বিষয়ে চীনের সম্মতিও পাওয়া গেছে।

সেন্টারটি নির্মাণের একটি বড় অংশ চীন সরকার অর্থায়ন করেছে। সব ঠিক থাকলে এখানেই প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে- মোট ছয়টি উদ্দেশ্যে সরকার নির্মাণ করেছে চায়না- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে- ১। বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি পণ্য উৎপাদনকারী ও ক্রেতাদের বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমন প্লাটফর্মে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। ২। প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করে পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য নিয়ে আসা। ৩। দেশি-বিদেশি প্রতিযোগী উৎপাদকের পণ্যের মান ও মূল্য সম্পর্কে সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। ৪। একই প্লাটফর্মে সারাবছর পণ্যভিত্তিক মেলা ও সাধারণ বাণিজ্য মেলাসহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রকার আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি করা। ৫। স্থানীয় পণ্যের গুণগত মান ও কম্পিটিটিভনেস বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি করা ও ৬। আধুনিক কারিগরি সুযোগ সুবিধা বিশিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ সেন্টার তৈরি করে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা। 

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি লি জিমিংয়ের কাছ থেকে চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।  

সেন্টার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চীন বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশিদার। বাংলাদেশ রফতানি পণ্য তৈরি করতে যন্ত্রপাতি এবং পণ্যের কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করে বিভিন্ন দেশে রফতানি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৮ হাজার ২৫৬টি রফতানি পণ্যের ওপর ডিউটি ফ্রি মার্কেট সুবিধা দিচ্ছে চীন। চীনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, পাট পণ্য, চামড়াজাত পণ্য রফতানিও বাড়ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ সেন্টার নির্মাণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা সহজ হবে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পাশাপাশি বছরব্যাপী এখানে অন্য মেলারও আয়োজন করা সম্ভব হবে। 

উল্লেখ্য, পূর্বাচল নতুন শহরে ২০ একর জমির ওপর বাস্তবায়িত ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীনের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ৩৩ হাজার বর্গমিটারে ফ্লোর স্পেসের মধ্যে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার। এতে ৮০০টি স্টল সাজানো যাবে। দোতলায় পার্কিং বিল্ডিংয়ের আয়তন ৭ হাজার ৯১২ বর্গমিটার। রাখা যাবে ৫০০টি গাড়ি। এ ছাড়া এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের সামনে খোলা জায়গায় আরও এক হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ রয়েছে।

এক্সিবিশন সেন্টারে ৪৭৩ আসন বিশিষ্ট একটি মাল্টি ফাংশনাল হল, ৫০ আসন বিশিষ্ট একটি কনফারেন্স রুম, ৬টি নেগোশিয়েশন মিটিং রুম, ৫০০ আসনের রেস্তোরাঁ, শিশুদের খেলার স্পেস, নামাজের রুম, ২টি অফিস রুম, মেডিক্যাল বুথ, ডরমেটরি/গেস্ট রুম, ১৩৯টি টয়লেট, বিল্ট-ইন পাবলিক এড্রেস সিস্টিম, নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইনবিল্ট ইন্টারনেট, ওয়াইফাই, আলাদা রেজিস্ট্রেশন হল, আধুনিক ফোয়ারা ও ইলেক্ট্রনিক প্রবেশপথ রয়েছে।

চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেডশিপ এক্সিবেশন সেন্টার হস্তান্তরপত্রে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং চীনের পক্ষে করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের অ্যাম্বাসেডর লি জিমিং।

এক্সিবিশন সেন্টারটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর। কাজ শেষ হয় ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে ২০১৫ সালে চীনের সহায়তায় ৭৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় ইপিবি। ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কমপ্লেক্স’ (বিসিএফইসি) নামের এ প্রকল্প নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণখালীর বাগরাইয়াটেকের ২০ একর জায়গার ওপর বাস্তবায়ন হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের মেলার অস্থায়ী মাঠ থেকে পূর্বাচলে নির্মিত সেন্টারটির দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলের এ প্রদর্শনী কেন্দ্রটির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। প্রদর্শনী কেন্দ্রে দৃষ্টিনন্দন ঢেউ খেলানো ছাদের নিচে দুই লাখ ৬৯ হাজার বর্গফুটের দুটি পৃথক প্রদর্শনী হল রয়েছে।

জানা গেছে, স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্র করার জন্য ২০০৯ সালে প্রাথমিকভাবে তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দরের ৩৯ একর খালি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। পরে সেখানে জায়গা না পাওয়ায় প্রকল্পটি সময়ের বিবেচনায় পূর্বাচল উপশহরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রদর্শনী কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি কেনা বাবদ সরকার দিয়েছে ১৭০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে বছরে একবার মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার বাইরেও সারা বছর সোর্সিং ও পণ্য প্রদর্শনী হবে। সে জন্য পাঁচ তারকা হোটেল, নতুন প্রদর্শনী কেন্দ্র, ভূগর্ভস্থ পার্কিং ইত্যাদি করা হবে। এসব স্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে বাড়তি ১৫ একর জমি পাওয়া গেছে।

 

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৯

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্র ও গণমানুষের সমর্থনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। তার গণতান্ত্রিক দুর্গম সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের’ উদ্যোগে রাজধানীর বনানীতে  ‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের এক যুগ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার এসব কথা বলেন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় কেক কাটার মাধ্যমে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের যাত্রাপথ, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে তার নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, বিচক্ষণ কূটনীতি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন স্পিকার।

১৯৮৪ সালে জাতীয় সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এই সংসদ জনতার সংসদ’ উল্লেখ করে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘ছেলেবেলায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম থেকে শুরু করে তার শিক্ষাজীবন, বৈবাহিক জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনীতিতে আসা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন, অনেক গবেষণালব্ধ বিষয় প্রদর্শনীটিতে ফুটে উঠেছে, যা প্রশংসনীয়।’

. স্পিকার বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর এদেশের ইতিহাসকে ভিন্নপথে পরিচালিত ও স্বাধীনতার চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। ১৯৮১ সালের ১৭মে স্বজনহারানোর বেদনা বুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশে আসা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন বাঁক। বাংলার মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, যা থেকে তার পথচলা। সেখান থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, স্বৈরশাসনের অবসানের সংগ্রাম, সংবিধান অনুযায়ী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সত্যি বিস্ময়কর।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ  উন্নয়নের বিস্ময়। নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে আত্মশক্তিতে বলীয়ান একটি জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছিলাম, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে গেছেন স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। তিনি তার পিতার মতো এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালবাসেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে অপূর্ণ স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, সে স্বপ্নের বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সুদক্ষ নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তার অবদান ও অর্জন নিয়ে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর প্রশংসা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি একটি ঐতিহাসিক বিশেষ মুহূর্ত বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ। এটি আমাদের অত্যন্ত আনন্দের এবং আবেগের।’

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং বিশ্ব রাজনীতির লায়ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু। আর এই লায়ন কিং এর বাস্তব রূপ হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি যদি লড়াই না করতেন, ফিরে যদি না আসতেন, আমরা আজকে এই বাংলাদেশ দেখতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আমার আরেকটি জিনিস মনে হয়, আমরা কেন জানি এই প্রজন্ম এখনও বুঝে উঠতে পারিনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য কতটুকু বড় গিফট। আমার কেন জানি মনে হয়, তিনি তো আছেনই আমরা তাকে দেখি। কিন্তু আজ  থেকে ১০০ বছর পরে যে প্রজন্ম আসবেন, তারা যখন পেছনে তাকাবে, তখন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারা মূল্যায়ন করতে পারবেন।’

আরাফাত বলেন, ‘আমি যখন ওয়াশিংটন ডিসিতে যাই, যখন আমি বিশাল স্টাচুর সামনে দাঁড়াই, আমার কেন জানি মনে হয়— জজ ওয়াশিংটন আমেরিকাকে স্বাধীন করেছেন, কিন্তু ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন  আমেরিকা যখন বিভক্ত হয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল, তখন আটকে রেখে, ধরে রেখে, আমেরিকার ভবিষ্যৎ রচনা করেছেন। সেরকম আব্রাহাম লিংকন দরকার ছিল বাংলার রাজনীতিতে। আমিও মনে করি, শেখ হাসিনা সেই আব্রাহাম লিংকন। আর  শেখ হাসিনার জন্য আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনেক দোয়া থাকবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন বলেন, ‘কানাডা এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক ভালো। বাংলাদেশের অনেকে কানাডায় বসবাস করেন এবং অনেক কানাডিয়ান বাংলাদেশিদের সম্পর্কে জানতে খুবই উদ্রেক যে, বাংলাদেশে কী হচ্ছে।’

‘বাংলাদেশকে কানাডা সবসময় বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে মনে করে’ উল্লেখ করে  তিনি বলেন, ‘এর আগে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে এতকিছু জানতাম না, কিন্তু এই দেশ এবং প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে, শেখ হাসিনার পরিবার সম্পর্কে জানতে পেরে অনেক ভালো লাগলো। আমি আশা করি, আমরা দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে আরও এগিয়ে যাবো।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

 

 /ইএইচএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪২

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় দেশে আসছে ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা প্রতিরোধী আরও ২৫ লাখ ডোজ টিকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগামীকাল সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে টিকার এ চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারসহ অন্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিতি থেকে এই টিকা গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে কোভ্যাক্স সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। আগামীকাল আরও ২৫ লাখ ডোজ এলে এ নিয়ে ফাইজারের মোট ৩৬ লাখ ৪ হাজার ৪৮০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে।

এর আগে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নার ভ্যাকসিনসহ ক্রয়কৃত ও কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় মোট ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। এর মধ্যে শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জনকে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়াও চীনের সিনোফার্মের ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের চুক্তি অনুযায়ী এ মাস থেকেই প্রতি মাসে ২ কোটি ডোজ করে ভ্যাকসিন দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

/জেএ/ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

১৪ কোটি টাকার সিরিঞ্জ কিনবে সরকার

অক্টোবর থেকে টিকা রফতানি করবে ভারত

অক্টোবর থেকে টিকা রফতানি করবে ভারত

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০০

দেশের পর্যটন খাত নিয়ে নেই সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যে কারণে এ খাতে গুণগত পরিবর্তন আসছে না। আর তাই পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান তথা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছর জুনে। তবে মহামারির কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাংলাদেশ ত্যাগ করায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের আগে তাই শেষ হচ্ছে না মাস্টারপ্ল্যানের কাজ।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন হয়। একই বছর ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীও অনুমোদন দেন। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চুক্তি হয়। ভ্যাট ও এআইটিসহ চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়।

লক্ষ্য ছিল মাস্টারপ্ল্যানটি তিনটি পর্যায়ে ১৮ মাসে শেষ হবে। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। তবে শুরুতেই থমকে যায় করোনার দাপটে।

২০২০ সালের মার্চ হতেই এতে যুক্ত বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ দেশে চলে যান। একপর্যায়ে কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মপরিকল্পনা দেয়। যা কিছু সংশোধনীসহ ২০২০ সালের ১১ নভেম্বরে অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আশা করছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে।

পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের পর্যটন শিল্পের চিত্র বদলে যাবে। বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। জিডিপিতেও অবদানও বাড়বে। এখন দেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ২ শতাংশ; যা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘এটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। পুরো দেশের পর্যটন চিত্র বদলাতে হলে পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে, যা এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণের মাধ্যমে সম্ভব।’

জাবেদ আহমেদ আরও বলেন, ‘মহামারির কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। তবে পুরোদমে কাজ চলছে। সকলের অংশগ্রহণে কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তিনটি পর্যায়ে পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ হবে। ১ম পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, সংকট, দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হবে। এ ছাড়া, বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হবে প্রথম ধাপেই।

২য় পর্যায়ে দেশের পর্যটনের লক্ষ্য, পদক্ষেপ, কৌশলগত লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও যোগাযোগের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হবে। পর্যটন উন্নয়ন, প্রমোশন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩, ৫ এবং ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনাও থাকবে ২য় পর্যায়ে।

৩য় পর্যায়ে দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করা হবে। পর্যটন পণ্যের উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের কৌশল নিয়ে কর্মপরিকল্পনা থাকবে এ পর্যায়ে। বিপণন ও প্রচারের কৌশলও উঠে আসবে এ ধাপে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মহাপরিকল্পনা না ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক  প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।’

 

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এদিন জাতীয় সংসদের শরৎকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে জনগণের কল্যাণে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যেতে তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি বিধানে তিনি সরকারের সংকল্প এদিন পুনরুল্লেখ করেন।

সংসদে শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার দুষ্কৃতকারী সমাজবিরোধীদের নির্মূল করার জন্য সংকল্পবদ্ধ। তিনি পরিষ্কার জানান যে, অস্ত্রের ভাষায় ভ্রুকুটি সরকার কিছুতেই সহ্য করবে না। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার কিছুতেই এই ধরনের হুমকি সহ্য করতে পারে না। পরবর্তী নির্বাচনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের পরিবর্তন বর্তমান সরকার মেনে নেবে। কিন্তু অস্ত্রের মুখে নতি স্বীকার করবে না।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার আসবে সরকার যাবে। কিন্তু জাতিকে স্বাধীনভাবে টিকে থাকতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হবে না।

দেশের নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে সৈয়দ নজরুল বলেন, সরকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ভৈরব ব্রিজ উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

তিনি বলেন, ‘হয়তো কঠিন সময় উপস্থিত হবে এই দুই মাস। বরাবরই এই দেশের সংকটকাল। এই সময় বাংলাদেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়।’

 এ থেকে উত্তরণে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, কালোবাজারি, মুনাফাখোর ও সমাজবিরোধী শক্তিকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংসদে সৈয়দ নজরুল ঘোষণা করেন, দুনিয়ার কোনও শক্তি দেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে সমর্থ হবে না। দেশমাতৃকাকে স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষা করতে হয় বাংলাদেশের জনগণের তা জানা আছে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধীদলের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক বিরোধিতার অধিকার সবার আছে। কিন্তু অগণতান্ত্রিক অনিয়মতান্ত্রিক কার্যকলাপ চালাবার অধিকার কারও নেই।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, যদি কেউ অস্ত্রের ভাষায় সরকারের বিরোধিতা করতে চায় বা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চায় কিংবা তিন মাসের মধ্যে সরকারকে উৎখাত করতে চায় তাদের সম্পর্কে সরকার চোখ বুঁজে থাকতে পারে না।

দ্য অবজারভার, ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

বঙ্গবন্ধুর বাণী

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ভৈরব রেল সেতু পুনর্নির্মাণ করে নিয়মিত যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সর্বাত্মক জাতীয় প্রকাশে গৌরবোজ্জ্বল পদক্ষেপ বলে অভিহীত করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভৈরব সেতু উন্মুক্ত করা উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি বলেন, এ সেতু পুনরায় চালু হলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে। যা জাতীয় অর্থনৈতিক জীবনে প্রেরণা যোগাবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের দ্রুত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাঠানো সহজ হবে।

সেতুটি পুনর্নির্মাণে ভারত, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বন্ধুদের প্রদত্ত সাহায্যের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেতুটি এত সংক্ষিপ্ত সময়ে মেরামত ও পুনরায় চালু করার কাজে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সুযোগ্য পরিচালনায় ইঞ্জিনিয়ার, কারিগর, কর্মী ও শ্রমিকরা তাদের কর্তব্য সম্পাদন করেছে।

ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূত এডভার্ড কেনেডি এদিন জাতীয় সংসদের চেম্বারে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে একটি চেক প্রদান করেন।

এদিন সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। অধিবেশনের শেষ দিনে আরও চারটি বিল পাস হয়। এগুলো হলো- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিল ১৯৭৩, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিল ১৯৭৩, বাংলাদেশ গার্লস গাইড সমিতি বিল ১৯৭৩, ওয়্যার হাউসিং করপোরেশন সংশোধনী বিল ১৯৭৩।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের নতুন বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে বইটি তুলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বইটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

ড. মোমেন সম্পাদিত এ গ্রন্থে রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার গুণী ও বিদগ্ধজনের ৭৫টি লেখা স্থান পেয়েছে। এতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বহুমাতৃক নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। চন্দ্রাবতী একাডেমি প্রকাশিত এ বইয়ে প্রধানমন্ত্রী এক উজ্জ্বল, ত্যাগী, দূরদর্শী ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্বের প্রতিভূ হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন।

ড. মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ছয় বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং বিচিত্র মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার লেখায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনের একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন ।

এ গ্রন্থ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হাসিনা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। লক্ষ্য অর্জনে কখনও পিছপা হননি তিনি। তার অক্লান্ত প্রয়াসে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক বিস্ময়।

বই এর কাভার পেজ (ছবি বাসস) ড. মোমেন বলেন, ২০২১ সালে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী’ ও ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’ আমরা এক সঙ্গে উদযাপন করছি। একই বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। তিনটি বিষয়ই বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য গৌরব আর অহংকারের।

ড. মোমেন পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে সময় পেলেই তিনি বই পড়েন ও লেখালেখি করেন। তার গ্রন্থিত ও সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ: শেখ হাসিনা’, ‘বাংলাদেশ- একুশ শতকের পররাষ্ট্রনীতি: উন্নয়ন ও নেতৃত্ব’, ‘বাংলাদেশ: রোড টু ডেভেলপমেন্ট’, ‘বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়’, ‘বাংলাদেশ মার্চিং ফরোয়ার্ড’, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ: উন্নয়ন ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা’, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সমগ্র ১৯৫৫-১৯৭৫’, ‘বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা ও কূটনীতি’, ‘টেকসই উন্নয়নের পথে অভিযাত্রা: বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’, ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন: ফাইন্যান্সিং এসডিজি’, ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি অব এমপাওয়ারিং পিপল’, ‘বাংলাদেশ: ফোরটি ইয়ারস ইন দ্যা ইউএন’। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গবেষণাগ্রন্থে তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা আড়াইশ’রও বেশি।

সূত্র : বাসস

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

গণমানুষের সমর্থনের প্রতি বিশ্বাসই প্রধানমন্ত্রীর চালিকাশক্তি: স্পিকার

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

আসছে মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে পর্যটনের চিত্র

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমাপনী ভাষণে যা বলেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী

৮ মাসেও চূড়ান্ত হয়নি নদী রক্ষা কমিশন আইনের সংশোধনী

বিশ্ব নদী দিবস আজ৮ মাসেও চূড়ান্ত হয়নি নদী রক্ষা কমিশন আইনের সংশোধনী

দুই কারণে ড্রিমলাইনার বিমানে: প্রধানমন্ত্রী

দুই কারণে ড্রিমলাইনার বিমানে: প্রধানমন্ত্রী

২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

করোনায় শনাক্ত নামলো হাজারের নিচে

সর্বশেষ

নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ৩ জনকে উদ্ধার

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ৩ জনকে উদ্ধার

নকল কসমেটিক-ভেজাল খাদ্য উৎপাদন: ১৫ লাখ টাকা জরিমানা  

নকল কসমেটিক-ভেজাল খাদ্য উৎপাদন: ১৫ লাখ টাকা জরিমানা  

দেশের অগ্রগতি নষ্ট করতে চাইলে দাঁতভাঙা জবাব: ওবায়দুল কাদের

দেশের অগ্রগতি নষ্ট করতে চাইলে দাঁতভাঙা জবাব: ওবায়দুল কাদের

‘আজ নারিনের বদলে সাকিবকে নেওয়া জরুরি ছিল’

‘আজ নারিনের বদলে সাকিবকে নেওয়া জরুরি ছিল’

© 2021 Bangla Tribune