ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের করোনা আইসিইউ ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন রোগীর মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন স্বজনরা। ওই ইউনিটে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা ও আগুন লাগার পর স্থানান্তরের সময় অক্সিজেনের অভাবে মুমূর্ষু রোগীদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
বুধবার (১৭ মার্চ) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ঢামেকে করোনার জন্য ডেডিকেটেড নতুন ভবনের আইসিইউতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহত ওয়াটার অ্যান্ড ফায়ার ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির (ওয়াপদা) অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার কাজী গোলাম মোস্তফার ছোট ভাই কাজী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার রাতে আমার ভাইকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তখন ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে তার কিছুটা ডেভেলপমেন্ট আছে। তখন তার অক্সিজেনের লেভেল ১০০ এর কাছাকাছি ছিল। আমরা সবাই একটু আশ্বস্ত ছিলাম যে, আমাদের রোগীর অবস্থা ভালো রয়েছে।
তবে সকালে যখন আগুন লাগে, তখন পুরো রুমটি ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। ইউনিটের ভেতরে কোনও ফায়ার প্রোটেকশন ছিল না। এখনও আপনারা গেলে দেখতে পারবেন কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার, আমি বাইরের প্রতিটি হাসপাতালে দেখেছি যে, ফায়ার স্টিংগার থাকে। কিন্তু এখানে কোনও ব্যবস্থা নেই। এঅবস্থায় রোগীগুলো মারা গেছে। আমার ভাই স্মোকের (ধোঁয়া) কারণে মারা গেছেন।
কিশোর চন্দ্র রায়ের স্বজন সুজন বলেন, আমার চাচা ৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন ১২ নম্বর বেডে আগুন লাগে। আগুনটা মুহূর্তেই অক্সিজেন হাইপার মনিটরে চলে যায়। তখন সবাই যার যার রোগীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমাদের অনেক মানুষকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অক্সিজেনের অভাবে আমাদের রোগী মারা গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. নাজমুল হক বলেন, সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের সূত্রপাত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে কারও মৃত্যু হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। রোগী স্থানান্তরের সময় কারও অক্সিজেন বন্ধ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৮ টা ১০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমাদের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের চার তলার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন রোগীকে আইসিইউ থেকে আমরা বের করে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যাই।’ তবে তাদের অবস্থা তখন সংকটপন্ন ছিল।
আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে তদন্ত করে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম ও শাহেদ শফিক
আরও পড়ুন:
ঢামেকের করোনা আইসিইউ ইউনিটে আগুন, স্থানান্তরের সময় ৩ রোগীর মৃত্যু








