বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১৯ মার্চের ঘটনা।)
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু এইদিন গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভাষণদানকালে গণতন্ত্রের প্রতি তার দল ও সরকারের অবিচল আস্থার কথা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার পরিচালিত হবে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল আস্থা এবং দলের গণতন্ত্রের প্রতি অকৃত্রিম সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
দলীয় প্রধান থাকছেন বঙ্গবন্ধু
পরবর্তী কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে কাজ করতে সম্মত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এইদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দলীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু উপস্থিত সদস্যদের অনুরোধে আগামী কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতির কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হন বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়।
১৯৭৩ সালের জুলাইয়ের পরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এইদিন গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল অধিবেশনের প্রস্তুতি হিসেবে ১৫ মে’র মধ্যে ইউনিয়ন, ৩০ মে’র মধ্যে থানা ও ৩০ জুনের মধ্যে জেলা পর্যায়ে কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আগামীকাল অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন
২০ মার্চ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, এরপর কারও কাছে বেআইনি অস্ত্র পাওয়া গেলে তার ওপর ‘লাল ঘোড়া’ চলবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিল এই দিন ঘোষণা করেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো অস্ত্র সমর্পণ না করলে কাউকে দেশপ্রেমিক বলা হবে না। বেআইনি অস্ত্র পাওয়া গেলে আওয়ামী লীগকর্মী হোক বা অন্য কেউ হোক, তাকে ক্ষমা করা হবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কমিটি এদিন সরকারের কাছে সুপারিশ করেন, বেআইনি অস্ত্র দখলকারীকে সংক্ষিপ্ত আদালতে বিচার করতে হবে এবং এদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান বলেন, ২০ তারিখের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালাবে।
স্বাধীন বাংলা দেখতে পারলাম, আমি খুবই ভাগ্যবান
আমি খুবই ভাগ্যবান যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখে যেতে পারলাম, বলেন বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমান। এইদিন বিপিআই পরিবেশিত খবরে বলা হয়, জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ পিজি হাসপাতালে বঙ্গবন্ধুর ৯৩ বছর বয়সী পিতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাকে বলেন, আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে পারলাম এ জন্য পরম কৃতজ্ঞ। তিনি সুখি-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা দেখে যেতে পারবেন আশা প্রকাশ করেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই বাংলাদেশের জনগণ আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন ১০ এপ্রিল
১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল থেকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে বলে জানা গেছে। এইদিন বিপিআই পরিবেশিত এক খবরে বলা হয়, অধিবেশনের প্রথম দিনে নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবেন। প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংসদ সদস্যরা সম্ভবত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও নির্বাচন করবেন।









