X
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

বর্জ্য থেকে তেল-গ্যাস, সঙ্গে জৈবসারও

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:৫৩

গৃহস্থালীর বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। তরুণ এই দুই বিজ্ঞানীর এইচএম রঞ্জু ও পীযুষ দত্ত। গত ২৭ মার্চ থেকে তাদের যন্ত্রটি তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু করে। এতে লাভের পরিমাণ খরচের ২৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর মাতুয়াইলে তুষারধারা এলাকায় প্রায় সাত কাঠা জমির ওপর বানানো প্ল্যান্টটি থেকে পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস ও জ্বালানি তেল। এ ছাড়াও এতে আরও সাত প্রকারের দ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান তারা। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ যুক্ত করে যন্ত্রটির মাধ্যমে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যাবে। এতে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়বে সাড়ে ৫ টাকা থেকে পৌনে ৬ টাকা।

গতবছরের ১৪ নভেম্বর প্ল্যান্টটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় চলতি বছরের ১৭ মার্চ। উৎপাদন শুরু হয় ২৭ মার্চ। এতে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

বর্জ্য থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদনের জন্য দুই তরুণ বিজ্ঞানী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের গবেষণার সার্বিক তদারকি করেছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তসলিম-উর-রশিদপ্রভাষক সাজিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ অ্যাডভান্স রোবটিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিমি মজুমদার।

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে১৯৯০ সালে দেশে দৈনিক উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। ২০১৪ সালে এসে তা দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টনে। ২০২৫ সালে দাঁড়াবে ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। এ হিসাবে বর্তমানে প্রতিদিন দেশে উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ গড়ে ৩২ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন।

এ বিশাল বর্জ্যর সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে দেখা দেবে পরিবেশ বিপর্যয়। রঞ্জু ও পীযুষের প্ল্যান্টটিতে প্রতি ১০০ মেট্রিকটন বর্জ্য থেকে ৯.২১ মেট্রিকটন জ্বালানি তেল২.১২ মেট্রিকটন গ্যাস০.৫০ মেট্রিকটন অ্যাকটিভেটেড কার্বন০.৯৩ মেট্রিক টন হাইড্রোক্লোরিক এসিড২০.৬৫ মেট্রিকটন ড্রাই আইস২১.৫৫ মেট্রিক টন বায়ো ইথানল ও ১১.২ মেট্রিক টন জৈবসার উৎপাদন সম্ভব। প্রযুক্তিটি পরিবেশবান্ধবভাবেই তৈরি করা হয়েছে।

এইচএম রঞ্জু ও পীযুষ দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেনতাদের উদ্ভাবিত প্ল্যান্টে প্রতিদিন ২৫০ কেজি প্লাস্টিক থেকে ৬০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও ২৫০ কেজি জৈব বর্জ্য থেকে ১০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অ্যাকটিভেটেড কার্বন উৎপাদন হচ্ছে। উদ্ভাবিত প্ল্যান্টে বর্জ্য শোধনের পুরো কাজটি স্বংয়ক্রিয়ভাবে হবে। এতে কোনও উচ্ছিষ্টও থাকবে না। 

তারা জানানপ্লান্টের পেট্রোলিয়াম গ্যাসটি এলপিজি হিসেবে বাড়ির রান্নার কাজে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া একে সিএনজিতেও রূপান্তর করা যাবে। উৎপাদনযোগ্য পদার্থগুলো হচ্ছে-ড্রাই আইসবায়ো ইথানল, অ্যাকটিভেটেড কার্বনহাইড্রোক্লোরিক এসিডজৈবসার ও ইউরিয়া সার।

গবেষণায় দেখা গেছে২০১৮ সালের দেশে যে বর্জ্য হয়েছিল, তা দিয়ে ২৩ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৫.৫৩ মেট্রিকটন জ্বালানি তেল উৎপাদন করা সম্ভব হতো। যা দেশের আমদানি চাহিদার ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া এসব বর্জ্য থেকে বছরে ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৯০৮.৯১ মেট্রিকটন জৈবসার উৎপাদন করাও সম্ভব।

এই দুই বিজ্ঞানী জানিয়েছেনদেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে এই প্ল্যান্ট তৈরি করা যায়। সব স্থান থেকে গৃহস্থালীর বর্জ্য সহজেই সংগ্রহ করা যায়। ১০০ টন বর্জ্য শোধন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্লান্ট তৈরিতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে। রাজধানীর গড়ে প্রতিদিনের সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিকটন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে এমন দুটি প্ল্যান্টই যথেষ্ট। একটি প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত দ্রব্যগুলো বিক্রি করে আট মাসের মধ্যে ব্যয় পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে চাইলে গবেষক এইচ এম রঞ্জু ও পীযুষ দত্ত বলেন, ‘আমরা প্রথমে ছোট আকারে একটি প্ল্যান্ট তৈরি করি। পরে আরেকটু বড় করি। এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছি। এলাকার পাড়া মহল্লা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে আমাদের উদ্ভাবিত প্ল্যান্টে গ্যাস ও জ্বালানি তেল উৎপাদন করছি। আমাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাসে ২৫ শতাংশ লাভ হচ্ছে।

তারা আরও জানান, প্লান্টে তেলের জন্য কাঁচামাল হিসেবে প্রতিকেজি প্লাস্টিক ১৫ টাকা দরে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক কেজি প্লাস্টিক থেকে ৬০০-৭০০ গ্রাম তেল উৎপাদন হয়। প্ল্যান্টের অন্যান্য উৎপাদন খরচসহ প্রতিকেজিতে খরচ ৩৫ টাকা। প্রতি লিটার বিক্রি করা যায় ৭০-৭৫ টাকায়। এ ছাড়া বর্জ্য দিয়ে বায়ো ফুয়েল, ড্রাই আইস এবং জৈবসারও উৎপাদন হচ্ছে কম খরচে।

তাদের চলমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশে উৎপাদিত বর্জ্য হতে এ ধরনের প্ল্যান্টে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ও বায়োফুয়েল (ইথানল)  তৈরি করা যাবে, তা দেশের আমদানির ২৫ শতাংশের বেশি। 

এই প্ল্যান্ট তৈরির ৬০ শতাংশ অর্থ তাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত ঋণ থেকে এসেছে। বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ বহন করেছে এবিবসি কনস্ট্রাকশন ক্যামিকেল কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের প্ল্যান্টে উৎপাদিত তেল এবং গ্যাসের কিছু অংশ আবার তাদেরই প্ল্যান্টের কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকিটা বিক্রি ও রিজার্ভ করা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, প্ল্যান্টে উৎপাদিত জৈবসারবায়োফুয়েল ও অ্যাকটিভেটেড কার্বনসহ বাকি পদার্থ এখন রিজার্ভ রাখা আছে। উৎপাদিত এসব পেট্রোলিয়াম পদার্থের বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষায় সন্তোষজনক দেখা গেছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে পারলে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবেন বলেও জানিয়েছেন এই দুই উদ্ভাবক।

প্ল্যান্টটি অটোমেটিক সিস্টেমে কাজ করছে। এতে কিছু বায়োকেমিক্যাল এবং কেমিক্যালের সঙ্গে থারমাল প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে জৈবসারড্রাই আইস ও অন্যান্য দ্রব্যগুলো বের করে আনা হচ্ছে। 

সম্প্রতি প্ল্যান্টটি পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. সাজিদুল ইসলাম। তিনি প্ল্যান্টে উৎপাদিত প্রতিটি পদার্থের টেস্ট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হয়েছেন।

দুই গবেষক জানান, আজকাল অনেক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। তাদেরটাকে ঠিক ওই ধরনের বায়োগ্যাস বলা যাবে না। তাদেরটা আরও বেশি পরিবেশবান্ধব

তারা আরও জানান, যদি কেউ এই প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করতে চায় তবে আমরা তাদেরকে প্রযুক্তিগত সহায়ত দিতে আগ্রহী। আমরা চাই এই প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে যাক। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলো তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের এই প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারে।

/এফএ/এনএ/

সম্পর্কিত

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ১১:১১

দ্বীপজেলা ভোলার থানা শশীভূষণ; প্রায় এক লাখ মানুষের এই জনপদটি আর্থসামাজিক উন্নয়নে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। এলাকার উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোহানের গড়া এই গ্রন্থাগারটিতে রয়েছে সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ ও অনুবাদ সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৫০টিরও অধিক বই আছে।

শশীভূষণে বেড়ে ওঠা সোহান বলেন, ‘শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক- প্রায় সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে আমাদের শশীভূষণ। এখানকার ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার ক্ষেত্রে অনেক বাধা মোকাবিলা করতে হয়। বিশেষ করে মেধাবীরা পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে এখানকার শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। 

বর্তমানে তরুণ-তরুণীরা বইপড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছেন কিংবা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে, হারিয়ে যাচ্ছে মাদকের অন্ধকার জগতে। ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগে অধ্যায়নরত সোহানের ভাষ্য, করোনার এই সময়ে এই অবস্থা এখন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি ফিরিয়ে আনতে একটি লাইব্রেরির চিন্তা মাথায় আসে, যা এর আগে এখানে কখনোই ছিল না।

লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রচারণা ও তহবিল সংগ্রহ সম্পর্কে সোহান বলেন, শুরুতে আমরা বিভিন্নভাবে যে তহবিল সংগ্রহ করেছিলাম সেটা দিয়ে ঘর ভাড়া নিই এবং তিনটি বইয়ের তাক ও তিনটি চেয়ার স্থাপন করি। নিজেদের বাসা থেকেও কিছু ফার্নিচার এনে লাইব্রেরি সাজিয়েছি। সমাজের বিত্তবানদের দ্বারস্থ হয়েছি,কারও পুরাতন বই থাকলে তা সংগ্রহ করেছি। এভাবেই পাঁচ থেকে ছয়জনের বসার পরিবেশ তৈরি করে ‘এসো সবাই বই পড়ি, সুন্দর এক সমাজ গড়ি’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করে ‘শশীভূষণ গ্রন্থাগার’।

নিজ উদ্যোগে গড়া গ্রন্থাগারে ঢাবি শিক্ষার্থী সোহান

সোহানের সহযোদ্ধা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমিনুল ইসলাম নাঈম লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন,"আমাদের লাইব্রেরিতে আর্থিক সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও লাইব্রেরিয়ান নেই। তারপরও আমরা স্বেচ্ছাসেবকরা মাসিক চাঁদা দিয়ে ঘরভাড়া এবং যাবতীয় খরচ চালিয়ে নিচ্ছি। গ্রন্থাগারটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার মানসিকতা জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হবে। ফলে তাদের শিক্ষাগ্রহণ হবে মানসম্মত ও আনন্দপূর্ণ। সুস্থ মস্কিষ্কের ধারার বিকাশ ঘটবে।’

সোহানদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রন্থাগারটি আমাদের এলাকায় একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হবে। আমি সর্বদা এই গ্রন্থাগারের যে কোনও প্রয়োজনে পাশে আছি।’

/ইউএস/

সম্পর্কিত

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ১৯:২২

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ইসাবেলা’র স্পেশাল ফিচারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের নবীন আলোকচিত্রী জে মুমুর আলোকচিত্র। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে এই সংবাদ জানান তিনি।

তরুণ আলোকচিত্রীদের উৎসাহিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিন ইসাবেলা। বিশ্বের ১৫৩ন আলোকচিত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এতে। সেখান থেকে স্পেশাল ফিচার বিভাগে নির্বাচিত ১০টি আলোকচিত্রের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে জে মুমুর ‘শতবর্ষী আনন্দ’।

মুমুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছবিটি তিনি তার মোবাইলে তুলেছিলেন। শখের বশে তোলা ছবিই এখন তাকে এনে দিলো বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি। জাপানে অনুষ্ঠিত থার্ড মেহুডো ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ভিজুয়্যাল মিডিয়া ফেস্টিভ্যালের ফটোগ্রাফি বিভাগে সিলভার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আলোকচিত্রটি। সম্প্রতি পুরস্কারের আর্থিক মূল্য দুই লক্ষ জাপানি ইয়েন (প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা) তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

জে মুমু

একই ছবি মনোনীত হয়েছে কানাডার ইসাবেলা ম্যাগাজিনের স্পেশাল ফিচারের জন্যও। মুমুর ‘শতবর্ষী আনন্দ’ ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও রোমানিয়ার দুটি উৎসবের প্রতিযোগিতাতেও মনোনীত হয়েছিল।

তরুণ আলোকচিত্রী মুমু চলতি বছর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২১, ১৭:০৪

‘জানতে হবে নিজেকে জানাতে হবে সবাইকে’— এই শ্লোগানে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে ‘জেনারেল নলেজ অলিম্পিয়াড’। সাধারণ জ্ঞান ভিত্তিক ভিন্ন এক প্ল্যাটফর্ম জিকে নেটওয়ার্ক এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করে।

‘দেশসেরা সবজান্তা’ খুঁজে পেতে বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৯ আগস্ট জানা যাবে কে হতে যাচ্ছে ‘দেশসেরা সবজান্তা’। 

এর আগে অনলাইনে অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় পর্ব অফলাইনে আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই দফায় পরিবর্তন হয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতার সময়।

প্রসঙ্গত, জেনারেল নলেজ অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় আসরও অনুষ্ঠিত হবে অনলাইনে।

আঞ্চলিক পর্বে সারাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে দশ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্য থেকে জাতীয় পর্বের জন্য নির্বাচিত হয় এক হাজার প্রতিযোগী। প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি, সিনিয়র— এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বিষয়ের সংমিশ্রণে প্রশ্ন করা হয়।

সাধারণ জ্ঞানের ভয় দূর করার লক্ষে এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি করতেই এই আয়োজন- এমনটাই জানান জিকে নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত। তিনি ভাষ্য, সাধারণ জ্ঞান বিষয়টা নি‌য়ে অনে‌কেরই একটু অলসতা রয়েছে। তা ছাড়া বিষয় হিসেবে খুব বে‌শি গুরুত্ব না দেওয়ায় সাধা‌রণ জ্ঞা‌নের ভাণ্ডারে ভাটা পড়তে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ জ্ঞা‌নের প্র‌য়োজনীয়তা থাকে, তবুও অনেকে এটাকে আড়ালে রে‌খে দেয়।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ১৬:৫৪

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেবা আক্তার দোলা। অনেক দিন ধরেই কাজ করছে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে। যোগাচ্ছে অনুপ্রেরণা। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে চলমান এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে জোরকদমে। দেশে-বিদেশে তাকে নিয়ে হয়েছে অনেক প্রতিবেদন। কদিন আগে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বক্তব্যও দিয়েছিল দোলা।

 

এ অভিযানের শুরু কীভাবে?

রাজধানীর ফিরোজা বাশার আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেবা আক্তার দোলা বাংলা ট্রিবিউনকে জানালো, ‘জাতীয় শিশু ফোরামে যখন যুক্ত হই, তখন আমার বয়স ১০। ওই সময় একদিন মায়ের কাছ থেকে তার কৈশোরের মজার স্মৃতি জানতে চেয়েছিলাম। মা বললেন, একটা মেয়ের যখন তেরো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় এবং বিয়ের পর একগাদা দায়িত্ব নিতে হয়, তখন তার কৈশোরের মজার স্মৃতি থাকে না। সেদিনই ধাক্কা লাগে মনে। বুঝতে পারি বাল্যবিয়ে কতটা ভয়ানক হতে পারে। মায়ের কথা শোনার পর মনে হলো আমার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা ঘটে! তবে তো জীবনের সেরা স্মৃতি বলে কিছু থাকবে না। আমার মা বাল্যবিবাহের শিকার, তাই তিনিও কোনওদিন চাননি আমার শৈশব নষ্ট হোক। আর ওই দিন থেকেই ঠিক করি, একটা কিছু করতে হবে। তখনই যুক্ত হই জাতীয় শিশু ফোরামে।’

দোলা আরও জানালো, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের সঙ্গে থেকে শিশু ফোরামের পক্ষ হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে বাল্যবিয়ের কুফল ও সচেতনতা করার পদ্ধতি নিয়ে অনেক কিছু শিখি।’

এ নিয়ে বিশেষ কোনও ঘটনা আছে কিনা জানতে চাইলে দোলা বলে, ‘একদিন খবর পাই রাজধানীর এক এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়ের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। নজর পড়ে বাচ্চা মেয়েটার অসহায় মুখে। তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সে কতটা বিপদে আছে। আমরা সবার আগে মেয়েটির অভিভাবককে বোঝাই। ওই মুহূর্তে দ্বিধায় ছিলাম এ কাজে সফল হবো কি না। তবে হয়েছিলাম। মেয়ের মাকে সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনি। বাবা-মা দুজনই আমাদের কথা দিলেন, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না। ওই মেয়ের সঙ্গে আমার এখনও যোগাযোগ আছে। আমাদের কাজের ধরনটা এমনই। প্রথমে শিশু ফোরামের সেন্ট্রাল মেম্বাররা মিলে অভিভাবককে বোঝানোর চেষ্টা করি। তাতে কাজ না হলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিয়ে আটকানোর ব্যবস্থা করি।’

এসব কাজে দোলা পরিবারের পক্ষ থেকে কতখানি সমর্থন পেয়েছে জানতে চাইলে বলে, ‘প্রথমে নিরাপত্তার কথা ভেবে বড়রা মানতে চাননি। মাকে বোঝাতে শুরু করি। তাকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কিছু প্রোগ্রামে নিয়ে গেলাম। তখন তিনি বুঝতে পারেন। এখন আমি আনন্দের সঙ্গেই বলি যে আমাকে নিয়ে মা কিন্তু খুব গর্ব করেন।’

জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ এ দুই বছরের মধ্যে জাতীয় শিশু ফোরামের পক্ষ হতে ৬০০ বাল্যবিবাহ রোধ করা হয়েছে। সারাদেশের ৫৪টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু কাজ করছে বাল্যবিবাহ রোধে। এক লাখ ৩০ হাজার শিশুর প্রতিনিধিত্ব করছেন সেন্ট্রাল কমিটির ১৫ জন সদস্য। আর তাদের মহাসচিবই হলো রেবা আক্তার দোলা। 

 

হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনার

সম্প্রতি লিঙ্গ সমতাকে ‘জেন্ডার পলিসি কাউন্সিল’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। লিঙ্গ সমতা বিকাশে ধারাবাহিকভাবে এ সংক্রান্ত কনফারেন্স আয়োজন করে আসছে হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিরা।

হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে দোলা

গত ১০ আগস্ট সেই মিটিংয়ে দোলাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় একজন বক্তা হিসেবে। বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে নির্বাচিত ১০ কিশোরী-নেতাকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওই ওয়েবিনারে যোগ দিয়েছিল দোলা। ওই মিটিংয়ে দোলা বলেছে ‘যৌন হয়রানি দূর করতে শৈশব থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাল্যবিয়ে বন্ধের উপায় ও এর ক্ষতি সম্পর্কে সবাই বিস্তারিত জানাতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ পেতে সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে নির্দিষ্ট একটা সময়ে আলোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা উচিৎ বলে সে জানায়।’

দোলা বললো, ‘তারা (হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা) আমাদের কাজের প্রশংসা করলেন। আমার প্রস্তাবগুলোও গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। ওই মুহূর্তটা যে কতটা গর্বের তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

 

দোলার যত ব্যস্ততা

বাল্যবিয়ে বন্ধের পাশাপাশি জাতীয় শিশু ফোরামের সদস্যরা কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোরও দায়িত্ব নিয়েছিল। দোলা জানালো ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লকডাউনের শেষের দিকে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা যখন শোচনীয়, তখন ঈদের আগমুহূতে ফোরামের সদস্যরা কিছু তহবিল সগ্রহ করে রাজধানীর হাজারীবাগের ৩৫টি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল ঈদ উপহার।

চার বছর পর পর ইউএন গ্লোবাল এডুকেশন সামিট হয়। এ বছরের ২৯ জুলাই সেই কনফারেন্সে দোলাও বিশ্বের সকল মেয়েদের অবস্থা তুলে ধরেছিল।

২০১৯ সালেও সুইজারল্যান্ডে বক্তব্য দিয়েছিল দোলা। জেনেভা সফর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, দেশের কিশোরীদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষ হতে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে যথাসম্ভব বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থা তুলে ধরেছি।

উল্লেখ্য, গার্লস নট ব্রাইডস সংস্থাটি বলেছে, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুবধূ রয়েছে। যার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ!

মহামারি পরিস্থিতি এ সংখ্যা আরও বেড়েছে জানিয়ে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হবে।

দোলার পরিকল্পনা হচ্ছে তাদের কাজ ও বার্তা বাংলাদেশের সকল জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের কোনও একটি জেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত ঘোষণা করা। আপাতত এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাবে তার টিম।

/এফএ/

সম্পর্কিত

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ২১:১৬

‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক তরুণদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা’- এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুদিনব্যাপী ‘ছায়া যুব সংসদ ২০২১’ আয়োজন করা হয়। পথশিশু, জেলে, হিজড়াসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবারের অধিবেশনে।

জাতীয় সংসদের আদলে সাজানো এ অনুষ্ঠানের যাবতীয় কার্যাবলী সাজানো হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। রবিবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আয়োজকরা জানান, জাতিসংঘ যুব ও ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব) এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এবারের আয়োজন করা হয় ৬ ও ৭ আগস্ট।

৬ আগস্ট ‘ছায়া যুব সংসদ ২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠ করেন ইউনিস্যাবের সভাপতি শ্যামী ওয়াদুদ। উদ্বোধনে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক। তিনি ইউনিস্যাব-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সহ-সভাপতি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে যুব ছায়া সংসদ প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ভার্চুয়ালি।

দেশে বিদ্যমান নানা সমস্যা নিয়ে তরুণদের চিন্তা, মতামত এবং সমাধান নিয়ে প্রস্তাবিত ধারণাকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছায়া সাংসদরা তাদের এলাকার সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন।

এতে, রাজশাহী-৩ আসনের কল্পিত সাংসদ পাঠ্যবই পরিবর্তনের কথা বলেন। দিনাজপুর-৩ আসনের ‘সাংসদ’ মাদ্রাসা শিক্ষাকে বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের কথাও বলেন কেউ কেউ। বিশেষত, নওগাঁ-৬ আসনের ‘সাংসদ’ বলেন, সাঁওতালদের মাতৃভাষাকে লিখিত ভাষায় প্রণয়ন করা জরুরি এবং তাদের পাঠ্যবইয়ে তাদের বর্ণমালা অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ করেন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন ছায়া মন্ত্রণালয় প্রান্তিকদের ভূমি দখল, আইন ও বিচার ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা, মাতৃত্বকালীন ভাতা দুই বছর থেকে পাঁচ বছরে উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন। গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তারা। সমাজের চলমান অসঙ্গতি নিরসনেও বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরেন।

‘ছায়া যুব সংসদ ২০২১’-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ১৫০ জন তরুণ অংশ নেন। হাজারেরও বেশি তরুণের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় তাদের। মনোনীত ১৫০ আসনের মাঝে ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল অবহেলিত প্রান্তিক তরুণ সমাজের জন্য।

দুই দিনের আয়োজনটিতে ছিল ছায়া স্থায়ী কমিটি সেশন, প্রস্তাবনা পেশ, বিল উত্থাপন, ভোট গ্রহণ, এবং প্রেস ব্রিফিং এবং ফলাফল ঘোষণাসহ নানা আয়োজন। সেশনগুলো পরিচালনা করেন একজন ছায়া স্পিকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে একশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের উপস্থিতিতে এবারের আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

/এসও/এফএ/এনএইচ/

সম্পর্কিত

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শশীভূষণে প্রথম গ্রন্থাগার

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

কানাডার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুমুর আলোকচিত্র

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

‘দেশসেরা সবজান্তা’ কে, জানা যাবে ১৯ আগস্ট

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

ছায়া সংসদে তারা জানালেন সমস্যা, দেখালেন সমাধানও

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

বর্ষসেরা নারী শিক্ষার্থী প্রকৌশলী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের সাদিয়া

আজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগআজমের গল্পটা যেন ছবির মতো

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

অক্সিজেন লাগবে, অক্সিজেন?

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে গাড়িচালক-হেলপাররা

সর্বশেষ

তালেবানকে বয়কট করবেন না: জাতিসংঘে কাতারের আমির

তালেবানকে বয়কট করবেন না: জাতিসংঘে কাতারের আমির

লিঙ্গ সমতার জন্য নারী নেতৃবৃন্দের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

লিঙ্গ সমতার জন্য নারী নেতৃবৃন্দের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

‘তালেবানের বিরুদ্ধে দুই দশকের লড়াই বৃথা যায়নি’

‘তালেবানের বিরুদ্ধে দুই দশকের লড়াই বৃথা যায়নি’

৭১ লাখ ফাইজার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

৭১ লাখ ফাইজার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

গবেষণাপানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, নেপথ্যে ‘নজরদারির অভাব’

© 2021 Bangla Tribune