X
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বিকল্প সোর্স থেকে এক কোটি টিকা কেনার ব্যবস্থা নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ মে ২০২১, ২১:১১

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নাগরিকদের করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারত রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় টিকা সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা জানান তিনি। এ অবস্থায় সরকার বিকল্প সোর্স থেকে এক কোটি টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শুরু হওয়া এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাষণ সম্প্রচারিত হয়।

ভাষণের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী টিকা কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন। সবচেয়ে কার্যকর এবং পরীক্ষিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়েই সরকার গণটিকাকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জেনেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ টিকা রফতানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায়, আমরা বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছি। রাশিয়া এবং চীনের টিকা উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। উপহার হিসেবে চীনের কাছ থেকে টিকা ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি। আমেরিকার কাছেও অনুরোধ জানিয়েছি।

বিশ্ব টিকাকরণ সংস্থা কোভ্যাক্সের কাছ থেকেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টিকা পাবে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা এক কোটি টিকা ক্রয়ের ব্যবস্থা নিয়েছি। খুব শিগগিরই দেশে টিকা আসতে শুরু করবে। তাছাড়া, দেশেই যাতে টিকা উৎপাদন করতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। নিজেদের টিকা তৈরিতে কয়েক মাস সময় লাগবে। আমরা দেশের সব নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে আসবো, ইনশাআল্লাহ।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের অনুরোধ করেন।

 
/ইএইচএস/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি: প্রধানমন্ত্রী

গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি: প্রধানমন্ত্রী

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১২:০১

ইমরান হুসেইন, মুন্সি তারা মিয়া, হাবীব হাসান, মোল্লা সোহাগ আশায় বুক বেঁধেছিলেন- সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবেন স্বপ্নের ইউরোপে। উন্নত জীবনমান আর বেশি আয়ের স্বপ্নে প্রলুব্ধ হয়ে মানবপাচারকারীর হাত ধরে শুরু হয় তাদের ভূমধ্যসাগরের মরণযাত্রা। পরে মাঝ সমুদ্রে তাদের উদ্ধার করে আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজ। আশ্রয় হয় ইউরোপীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপ মাল্টায়। কথা বার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করে রেখে দিয়েছে ডিটেনশন সেন্টার নামক এক প্রকার জেলে। আর তাদের সেখান থেকে মুক্ত করে সেদেশে বৈধ উপায়ে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন-আয়েবা।   

মাল্টা থেকে কিছুদিন পরপরই বন্দি কিংবা আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মাল্টা সরকারের এমন পদক্ষেপ। সেখান থেকে গত জুন মাসেও ১৫৮ এবং তারও আগে ৪৪ বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। তাদের দেশে ফেরার জন্য আউটপাস ইস্যু করে গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। কারণ মাল্টায় বাংলাদেশের কোনও দূতাবাস নেই। মাল্টা সরকারের চলমান ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে রীতিমতো আতংকিত সেখানে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর আতংকে পার করতে হচ্ছে দিনরাত।

এই চার বাংলাদেশি যুবক এখন মাল্টার কারগারে বন্দি

তবে বন্দি এসব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে সেখানে কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন-আয়েবার নেতারা। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মাল্টায় প্রবেশ করায় ১৬৫ বাংলাদেশি দীর্ঘ ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে বন্দি আছে ডিটেনশন সেন্টারে। তাদের মুক্ত করতে মাল্টা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন আয়েবার নেতারা।

সংগঠনের মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাল্টা যান। দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। মাল্টা সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব কেভিন মাহোনে, নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা রায়ান এসপানিয়ল, ডিটেনশন সেন্টারের মহাপরিচালক রবার্ট ব্রিংকাউ। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।

সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশিরভাগই দালালের মাধ্যমে লিবিয়া কিংবা তিউনিশিয়ায় যান। সেখান থেকে বোটে রওনা হয়ে গ্রিস অথবা ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কোনও কারণে যদি তাদের বোট ডুবে যায় কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হয়, তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্ধার করে ইতালির দক্ষিণে অবস্থিত মাল্টা দ্বীপে এনে রেখে দেয়। সেখানে তারা রাজনৈতিক বা মানবিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।

কাজী এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখানে কয়েকটি বিষয় আছে। যারা এখানে এসে পৌঁছায়, তারা একধরনের ট্রমার মধ্যে থাকেন। আধামৃত অবস্থায়, দিনের পর দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকেন। তাদের সেখানে নিরাপত্তাবাহিনী জেরা করে, পরিচয় যাচাই করে। সেগুলো করার পরে যখন আবেদনে স্বাক্ষর করতে বলে তখন তারা করে দেয়। কিসের মধ্যে স্বাক্ষর করছে তা তারা বুঝতে পারে না। কারণ এভাবে যারা এখানে আসেন, তাদের বেশিরভাগই মূলত কম শিক্ষিত এবং ভাষা জানেন না। যার ফলে নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে যা করতে বলে তাই করেন। এমনকি তারা যেভাবে বলেন সেভাবেই স্বাক্ষর করিয়ে নেন কাগজে। সমস্যা হচ্ছে– এখানে বাংলা অনুবাদকও কেউ নেই, আফ্রিকান অনুবাদ তাদের পড়ে শোনানো হয়। এসব নানা সমস্যায় পড়ে তারা এখনও জেলে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে আয়েবা নেতারা

সম্প্রতি মাল্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা তাদের বিষয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলাপ করেছি। এখানের নিয়মানুযায়ী ১৮ মাস ডিটেনশন সেন্টারে তারা রাখতে পারে, এরপর ছেড়ে দিতে হয়। মাল্টা সরকার তাদের বিষয়ে গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায়, কর্মকর্তারা তারপর আসেন এখানে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এসে বাংলাদেশিদের আউটপাস দেন। মাল্টা সরকার তাদের দেশে ফেরত পাঠায় দেয়। ১৮ মাস থাকলে এমনিতেই মুক্তি দিয়ে দেয় মাল্টা সরকার। আরেকটা উপায় হচ্ছে কোর্টে মামলা করলে, সেক্ষেত্রে মামলা দায়েরের জন্য ২৫০ ইউরো এবং জামিনের জন্য ২ হাজার ইউরো দিতে হয়। তারপর বের হতে পারবেন। কিন্তু সেদেশে কাজ করতে পারবেন না। আমাদের বৈঠকে আলাপ হয়েছে এদের বিষয়ে এবং বৈধ পদ্ধতিতে কীভাবে সেদেশে কর্মী নেওয়া যায় সেটা নিয়ে।

এনায়েত উল্লাহ জানান, বাংলাদেশ থেকে মানুষ যেতে পারে মাল্টায়, কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে তারা নিয়ে আসে। বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজে তাদের নিয়োজিত করা হয়। অনেকেই ভিসা নিয়ে আসেন, কিন্তু পরে মাল্টায় থাকেন না। তারা ইউরোপের অন্য দেশে চলে যান। যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ওপর চাপ দিয়েছে। এ কারণে মাল্টায় কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিক এখানে আছেই ৭০০-৮০০ জন। তার মধ্যে জেলে আছে ১৬৫ জন।

তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ মানবিক উদ্দেশ্যে তাদের পরিবারের আকুতির ভিত্তিতে এই কাজটা করছি। আমরা মাল্টা সরকারকে সমস্যার কথা জানিয়েছি এবং বলেছি যেভাবে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে তা যৌক্তিক নয়। আমি জানি এখানে প্রসেকিউশন কোর্টে আপিল করলে তারা মুক্তি পাবে। এজন্য প্রক্রিয়া অনুসরন করছি। আমরা সেদেশের সরকারকে বলেছি- সহজ উপায়ে তাদের মুক্তি না হলে আমরা কোর্টের মাধ্যমে তাদের মুক্তি করাবো। আমরা যার সঙ্গে মিটিং করেছি উনি আমাদের অনুরোধ করেছেন মাল্টায় একটা শাখা করতে আমাদের সংগঠনের এবং তারা বৈধভাবে কর্মী আনার বিষয়ে বলেছে আমাদের। এই লোকগুলোকে মুক্ত করায়ে আমাদের পরের প্ল্যান হচ্ছে এই লোকগুলোকে কাজের কথা বলে মানবপাচারের মতো কাজ করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় যাবো।

মাল্টায় টেকসই বাংলাদেশি কমিউনিটি তৈরি করে দিতে প্রতিনিধি দলের প্রতি দেশটির সরকার আহ্বান জানিয়েছে বলেও জানান এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা অবৈধভাবে অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করি। কিন্তু যেই লোকগুলো এসে এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে তাদের এখানেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের সংগঠন ইউরোপে গেল ১০ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে

সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে

ঢাকা-আঙ্কারা পর্যটন বাড়ানো আহ্বান

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:০৬

পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ ও বোঝা-পড়াকে শক্তিশালী করা গেলে তা ধাপে ধাপে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষাসহ অন্যান্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে তুর্কি ট্রাভেলার্স ক্লাবের সাথে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ: কোভিড-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় এক উদীয়মান পর্যটন গন্তব্য’ শীর্ষক একটি গোল-টেবিল বৈঠকে বক্তারা একথা বলেন।

ইস্তাম্বুলস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

কনস্যুলেট থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কোভিড-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় যে খাতগুলো দ্রুততার সাথে ঘুরে দাঁড়াবে এবং অর্থনীতিতে কার্যকরী অবদান রাখবে এর মধ্যে পর্যটন খাত অন্যতম।

তুর্কি ট্রাভেলার্স ক্লাবের সদস্যরা বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন ।

তারা বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার জন্য কনস্যুলেটকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উপস্থিত অতিথিদের তুর্কি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কিত তথ্যসহায়িকা ও লিফলেট প্রদান করা হয়।

/এসএসজেড/এমএস/

সম্পর্কিত

ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক: ‘রিব্যালান্সিং করতে গিয়ে অফ-ব্যালান্সিং যেন না হয়’

ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক: ‘রিব্যালান্সিং করতে গিয়ে অফ-ব্যালান্সিং যেন না হয়’

নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনতে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনতে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

সাগরপথে ইউরোপ যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১২:৩৫

মহামারির মাঝেও উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে গত ২২ জুলাই প্রাণ গেলো ১৭ অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশির। নৌকায় করে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে মারা যান তারা। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের আরও ৩৮০ অভিবাসন প্রত্যাশীকে।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এমন ঘটনা চলতি মাসেই বেশ কয়েকটি। আর যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই বেশি। এর আগে গত ২৪ জুন ২৬৭ জনকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। যাদের ২৬৪ জনই ছিল বাংলাদেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। ২১ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রপাড়ি দিয়েছে বিভিন্ন দেশের ৪১ হাজার ৭৭৭ জন। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার আছে বাংলাদেশি। গত ১০ জুনও ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় ১৮ মে ৩৬ জন, ২৭ ও ২৮ মে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। এ বছর এভাবে মোট তিন হাজার ৩৩২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার বা আটক করা হয়।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত নানা দেশের ২২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৫ জন মানুষ সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসে। একই সময়ে এ পথে আসতে গিয়ে মারা গেছে ২১ হাজার ৭০৭ জন।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের তথ্য অনুযায়ী, যত জন এভাবে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছেন তার সাড়ে ১৪ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি।

ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে এভাবে ৬০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছে।

দেশে ফিরতেই হলো
ময়মনসিংহের গফুরগাঁও উপজেলার ভরপুর গ্রামের মনজুরুল ইসলামকে কাজের কথা বলে প্রথমে আবুধাবি নেওয়া হয়। সেখান থেকে শারজাহ হয়ে  ওমানে যান তিনি। ওমানে একটি ঘরে তিনদিন থাকেন। আগে থেকেই সেখানে ৭-৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। সেখান থেকে সাগরপাড়ের আরেকটি ঘরে থাকতে হয় পাঁচদিন। সেখানে আরও ৩৫ জন বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা হয় তার। সবার গন্তব্য গ্রিস।

একদিন রাতে তাদের ২০-২২ জনকে একটি নৌকায় উঠিয়ে ইরানের বন্দর আব্বাসে নেওয়া হয়। সেখানে মুক্তিপণ হিসাবে মনজুরুলের পরিবার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ইরান থেকে তুর্কি যান তারা। সেখান থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে। এরপর মেসেডোনিয়া, সার্বিয়া,  ক্রোয়োশিয়া, অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানি যান। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। জার্মানিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ফিরে আসতে হয় দেশে।

তরুণরাই বেশি আগ্রহী
মূলত মহামারির কারণে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ থাকার সুযোগ নিচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভিজিট ভিসায় দুবাই, এরপর ইরান হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।

আটক হওয়ার পর ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুবাই ও ওমানে নতুন আসা বাংলাদেশি তরুণরাই মূলত পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট।

সমুদ্র পাড়ি দেওয়া এসব ঘটনা পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা ইউরোপে ঢুকতে বেশি মরিয়া থাকে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, গত কয়েকবছরে ইউরোপ ও লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ২ হাজার ২৮৪ জনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা- এসব জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি লোক এভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। একেকজন খরচ করেছেন তিন থেকে ১৫ লাখ টাকা।

ইউরোপ যাওয়ার ১৮ রুট
বাংলাদেশ থেকে ১৮টি রুট ব্যবহার করে মানবপাচারের চেষ্টা চলে ইউরোপে। বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে ভূমধ্যসাগর। যা সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুট হিসেবে পরিচিত। সেখানে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু হয় মূলত লিবিয়া থেকে।

এ বছরে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইতালিতে অনুপ্রবেশকারীদের ৬১ শতাংশই লিবিয়া থেকে এসেছে। সেখান থেকে ইতালি ও মাল্টায় অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল বাংলাদেশিরাই। গত কয়েকবছরে বলকান রুট দিয়েও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বাংলাদেশি প্রবেশ করেছে। এভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে বসনিয়ার জঙ্গলে এখনও শতাধিক বাংলাদেশি আটক আছেন।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত আছে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, আফগান ও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারী দালালচক্র। তারা শুরুতে কাউকে টাকা ছাড়াই, কাউকে ৪০-৫০ হাজার আবার কাউকে ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়। যারা কম টাকা দিতে চায় তাদের শর্ত দেওয়া হয় পৌঁছানোর পর বাকি ২-৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এই দালালদের কাছে থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র। জঙ্গল, শহর ও গ্রামে তাদের বাসাও আছে। যেখানে তারা বিভিন্ন গ্রুপে অভিবাসী প্রত্যাশীদের আটকে রাখে। সেখানে থেকে ছাড়া পেতে আটক ব্যক্তির স্বজনদের কাছে চাওয়া হয় মুক্তিপণ। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ মরুভূমিতে পুঁতে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

পাচারের প্রচার হয় টিকটক-ফেসবুকে
মানবপাচারের অন্যতম প্রচার মাধ্যম এখন টিকটক, লাইকি, হোয়াটস অ্যাপ। এমনকি ফেসবুক ব্যবহার করেও পাচারের ঘটনা ঘটছে। লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকে পাচারকারীদের ভাষায় বলা হয় ‘গেম’। এই ‘গেম’ এর খবর ফেসবুকে আসে বিভিন্ন গ্রুপে। ‘গেম’ হোক আর না হোক, ছবি পোস্ট করে প্রলুব্ধ করা হয়। লোভে পড়ে পা বাড়ায় আগ্রহীরা। বড় জাহাজের কথা বলা হলেও ওঠানো হয় নৌকা কিংবা রাবারের তৈরি উদ্ধারকারী বোটে। শুরু হয় অনিশ্চিত এক যাত্রা।

সম্প্রতি টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কিশোরীদের ভারতে পাচারের ঘটনা উঠে এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নারী ও শিশু পাচার নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ একটি গবেষণা করেছে। তাতে দেখা গেছে, পাচারকারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারের শিশু-কিশোরীদের পাচারের জন্য টার্গেট করে।

এ গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে নারী ভিকটিমদের পাচারচক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর তাদের বেশিরভাগকেই জোর করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়।

ভারতে পাচার হওয়া প্রায় ২ হাজার নারীকে গত ১০ বছরে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম পাচারের শিকার ৬৭৫ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ১৬ থেকে ২০ বছরের কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার। এরপরই আছে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা। তারা বেশিরভাগই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, ২০১২ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মানবপাচারের যেসব মামলা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, প্রায় ‍দুই হাজার নারী মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২০ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে উদ্ধারকৃত নারীর সংখ্যা ৩০৩ জন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার দিক থেকে প্রথম। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। বাংলাদেশের সঙ্গে এই তালিকায় আছে সিরিয়া, আফগানিস্তান, সুদান ও ইরিত্রিয়া। দেশগুলোতে যুদ্ধ ও দারিদ্র্যপীড়িত। বাংলাদেশের অবস্থা কিন্তু এমন নয়। তারপরও শুধু অলীক স্বপ্নে আমাদের লোকজন এভাবে ইউরোপে যাচ্ছে। শ্রম অভিবাসনের নামে ভিজিট ভিসায় দুবাই যাচ্ছে লোকজন। ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে নারী ও কিশোরিরা। পাচার প্রতিরোধে আমাদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

মামলায় অনীহা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) জি এস এম জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মানবপাচার মামলার বিচার দ্রুত করা গেলে কাজ হবে। অপরাধীর বিচার নিশ্চিত হলে সাপ্লাই চেইনও বন্ধ হবে। আমরা ইমিগ্রেশনকে বলতে পারি যে ট্যুরিস্ট ভিসায় যারা যাচ্ছে তাদেরকে যেন আরও কঠোর মনিটরিংয়ে রাখা হয়।’

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানবপাচার বিষয়ক সেলের বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, ভূমধ্যসাগর থেকে যারা ফেরত আসে তাদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অভিযোগ নেওয়া যায় না। অনেকসময় তাদের এলাকায় আমাদের টিম পাঠিয়ে মোটিভেশন করে মামলা নিতে হয়। তারা যে মানবপাচারের শিকার হয়েছে সেটা জানাতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় যারা ফেরত এসেছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, পাচারকারীরা ভিকটিমকে তথ্য গোপন রাখতে বলে। এগুলো নাকি প্রচার হলে তাদের ক্ষতি হবে, বিদেশ যাত্রা বন্ধ হয়ে যাবে।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

করোনাকালেও ভূমধ্যসাগর রুটে ইউরোপে প্রবেশ সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশির

করোনাকালেও ভূমধ্যসাগর রুটে ইউরোপে প্রবেশ সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশির

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০৯:০৭

মার্কিন বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান বব মেনেন্দেজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। এসময় সিনেটর মেনেন্দেজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি শ্রম অধিকার ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসির সিনেট হার্ট অফিস ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১২ বছরে বাংলাদেশে যে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা সিনেটরকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সিনেটরের সমর্থন কামনা করেন।

সিনেটর মেনেন্দেজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

উপদেষ্টা দেশে শ্রমিকের অধিকার এবং সুরক্ষা অধিকতর উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গৃহীত বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে সিনেটরকে অবহিত করেন।

রূপগঞ্জের একটি কারখানায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান ভবন সুরক্ষা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা পরিদর্শন করার জন্য তার নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিনেটরকে অবহিত করেন।

বৈঠকে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরে চলমান বাংলাদেশ বিনিয়োগ রোডশো সম্পর্কিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।

/এসএসজেড/ইউএস/

সম্পর্কিত

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে

সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ভুট্টোকে বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাইয়ের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর একগুঁয়েমি মনোভাব- সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে এবং উপমহাদেশে উত্তেজনা জিইয়ে রাখছে। যুগোস্লাভিয়ায় পাঁচদিন ব্যাপী সরকারি সফর শেষে সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে আগুন নিয়ে না খেলে যুক্তি মেনে বাস্তবতা স্বীকার করে নিতে বলেন। উপমহাদেশে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর দেশের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা আবার ঘোষণা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশে উত্তেজনা হ্রাস এবং উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার জন্য কাজ করে যাবো’। বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের মুক্তি এ শান্তি সংগ্রামে সমর্থন জানাবে বলে তিনি জানান।

১৯৭১ সালে যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত মানবিক সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবে পাকিস্তান অনুকূল সাড়া না দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এদেশ বন্ধুত্ব নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। জোট নিরপেক্ষ ও অপর দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে দৃঢ় আস্থাশীল বাংলাদেশ এবং যুগোস্লাভিয়া বিশ্ব শান্তি স্থাপনে একযোগে কাজ করে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মার্শাল টিটোর সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। টিটোর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ সফরের কথা তার মনের মণিকোঠায় জ্বলজ্বল করবে।

১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাইয়ের পত্রিকার একাংশ বঙ্গবন্ধু অটোয়া যাচ্ছেন

শান্তির সন্ধানে এশিয়ার মহান নেতা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেলগ্রেড থেকে এদিন অটোয়ায় যাত্রা করার কথা। ২ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যাবেন। সম্মেলনের প্রথম পর্যায়ে জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর নেতা ও যুগোস্লাভিয়ার মধ্যে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ নিয়ে কথা বলবেন তিনি। উভয়দলের কাছ থেকে জানা গেছে, শান্তি ও পারস্পরিক স্বার্থের ব্যাপারে উভয়নেতার মতের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান বৈঠক মুলতবি

ভারত ও পাকিস্তান বর্তমান আলোচনা মুলতবি রেখে দিল্লিতে নতুন করে আলোচনা অনুষ্ঠানে সম্মত হয়েছে। বর্তমান আলোচনা থেকে উদ্ভূত প্রতিকার বিষয়ে আরও বিবেচনার জন্য আলোচনা সম্ভবত দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি রাখা হয়।

১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাইয়ের পত্রিকার একাংশ এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ দূত পিএন হাকসার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন। ভারতীয় ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে, তা দূর করার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। গত সাতদিনের আলোচনায় বর্তমানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছিল কূটনীতিক মহল।

বৈঠকের বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে এই বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে সতর্ক আশাবাদ দেখা দেয়। রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইউএনআই-এর খবরে প্রকাশ, দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাকিস্তানের একগুঁয়েমির কারণে ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের ফেরত নিয়ে আসা।

আরেকদফা আলোচনা শেষে ভারতীয় প্রতিনিধিদল পাকিস্তান পক্ষকে আভাস দেন যে, বর্তমানে যে লাইনে আলোচনা চলছে তাতে কোনও সুফল পাওয়া যাবে না।

২৪ জুলাই আলোচনা শুরুর পর প্রায় ১৫ ঘণ্টা ব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা এখন স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে, পাকিস্তান তার অনমনীয় মনোভাব না বদলালে কোনও আশান্বিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিন  দু’ঘণ্টা আলোচনার পর ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা হাকসার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থা আরও সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছি।’

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

মার্কিন সিনেটর মেনেন্দেজের সাথে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৃত্যু ৭৬, শনাক্ত ৬৯৯৬

সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে

সিনোফার্মের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা আসছে রাতে

সর্বশেষ

লকডাউনে বন্ধ মার্কেট ও দোকানে চলছে ‘বিকল্প’ লেনদেন

লকডাউনে বন্ধ মার্কেট ও দোকানে চলছে ‘বিকল্প’ লেনদেন

গৃহবধূর সঙ্গে পুলিশ সদস্যের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, বাড়ি ঘেরাও 

গৃহবধূর সঙ্গে পুলিশ সদস্যের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, বাড়ি ঘেরাও 

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সোনা

টোকিও অলিম্পিকসাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সোনা

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

করোনায় অসহায় মানুষের পাশে মৌসুমী ও সুমি  (ভিডিও)

করোনায় অসহায় মানুষের পাশে মৌসুমী ও সুমি  (ভিডিও)

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

ঝরে পড়াদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান বাউবি ভিসির

ঝরে পড়াদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান বাউবি ভিসির

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

ঢাকা-আঙ্কারা পর্যটন বাড়ানো আহ্বান

ঢাকা-আঙ্কারা পর্যটন বাড়ানো আহ্বান

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি: প্রধানমন্ত্রী

গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশ জয়েরই চিন্তা: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল বাংলাদেশ জয়েরই চিন্তা: প্রধানমন্ত্রী

‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ভালো কাজে পুরস্কার খারাপ কাজে শাস্তি: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রধানমন্ত্রী

ভালো কাজে পুরস্কার খারাপ কাজে শাস্তি: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রধানমন্ত্রী

জয়কে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণ

জয়কে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণ

© 2021 Bangla Tribune