২০২০ সালের ২০ মে আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয় খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল। কয়রা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে সদর, উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মহারাজপুর ইউনিয়ন। আম্পানের রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি, মৎস্য ঘের বাড়ি-ঘর। তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘর বেঁধে আশ্রয় নেন কয়েক হাজার মানুষ। তবে এক বছরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তারা। কিছু মানুষ ঘর বেঁধে নতুন করে জীবন শুরু করলেও অধিকাংশই এখনও গৃহহীণ অবস্থায় ঝুপড়ি ঘরেই দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া এসব ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আম্পানের এক বছরেও মেরামত হয়নি অধিকাংশ রাস্তা, জরাজীর্ণ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলতে না পারায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
সদর ইউনিয়নের ঘাটাখালি গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, বিলের জমি কপোতাক্ষের ভাঙ্গনে নদীতে চলে গেছে। যেটুকু ছিল তাতে কোনোভাবে ঘর বেঁধে নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতাম। আম্পান ঝড়ের রাতে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সকালে ফিরে এসে দেখি আমাদের ঘর-বাড়ি নেই। বাঁধ ভেঙে বাড়ির উপর দিয়ে খাল চলে গেছে। বাঁধ ঠিক হলেও আমার ঘর বাঁধার জায়গা নেই। এখন পরের জায়গায় ঝুঁপড়ি বেধে বসবাস করছি।
উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, আম্পানে বিধ্বস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। বর্ষার আগে বাঁধ মেরামত হয়ে যাবে। আম্পানে বিধ্বস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও’র মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাছাড়া ৭০ পরিবারকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
কয়রা উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, আম্পানের তাণ্ডবে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছিল। আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল ৩৮ হাজার ঘর-বাড়ি, তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি, চার হাজার হেক্টর মৎস্য ঘের ডুবে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, অতীতের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগকে হার মানিয়ে খুলনার উপকূলবাসীকে সর্বহারা করে দেয় আম্পান। আম্পানের প্রভাবে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাসিয়ে দেয় কয়রা উপজেলার ৪টা ইউনিয়ন। উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী, কয়রা সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয় মারাত্মকভাবে।







