ইস্তানবুলের পশ্চিম প্রান্তে একটি নতুন খাল খনন উদ্বোধন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। খালটির অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে তুরস্কের উন্নয়নের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হলো। গত শনিবার কৃষ্ণ সাগর এবং মারমার ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে যাওয়া খালটির খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে এই খালটির পরিকল্পনা করা হয় অটোম্যান সাম্রাজ্যের সুলতান সুলেমানের আমলে।
সুয়েজ বা পানামা খালের আদলে কৃত্রিমভাবে খনন করা হবে 'কানাল ইস্তানবুল' বা ইস্তানবুল খাল। এর লক্ষ্য হচ্ছে বসফরাস প্রণালীর বিকল্প তৈরি করে বেশি সংখ্যক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করা। ইস্তানবুল শহরের ইউরোপীয় অংশের মধ্য দিয়ে খনন করা ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের প্রস্থ হবে ২৭৫ মিটার। আর গভীরতা হবে ২০.৭৫ মিটার। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হবে নতুন একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর, কন্টেইনার টার্মিনাল, কিছু কৃত্রিম দ্বীপ এবং খালের দুই পাশ বরাবর বেশ কয়েকটি আধুনিক শহর।
একে পার্টি ক্ষমতায় বসার পর ২০১১ সালে ইস্তানবুল খাল খননের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। সেসময় অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক চমক আখ্যা দেয়। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খালটি খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় এরদোয়ানের সরকার।
তবে বসফরাস প্রণালীর বিকল্প খাল খননের চিন্তাভাবনার শুরু সেই সময়ে নয়। অটোম্যান আমলেই খালটি খননের পরিকল্পনা করা হয়। সুলতান সুলেমানের প্রকৌশলী মিমার সিনান এই পরিকল্পনাটি তৈরি করলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। সুলতান তৃতীয় মুরাদের আমলে ১৬৯১ সালের ৬ই মার্চ এই খাল খননের জন্য একটি রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়। কিন্তু পরে সেটিও বাদ হয়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে মোট সাত বার খালটি খননের পরিকল্পনা করা হলেও কোনওবারই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তবে এবারে খালটি খননে রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সরকারের মরিয়া হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। বসফরাস প্রণালী ব্যবহারের শর্তের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে নতুন জলপথ তৈরি করতে চাইছেন তারা। বসফরাস প্রণালী ব্যবহৃত হয় মন্ট্রো চুক্তি নামে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী। আর ওই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত থেকে মুক্তি পেতে চাইছে তুরস্ক।
তবে ইস্তান্বুল খাল খনন পরিকল্পনা নিয়ে এখনও সন্দিহান তুরস্কের পরিবেশবাদীরা। পরিবেশবিজ্ঞানীদের অভিযোগ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইস্তানবুলে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ কমে যাবে। শহরটির ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা নেমে যাবে, লবণাক্ততাও বাড়বে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা









