ফেনীতে স্বর্ণের বার ডাকাতি মামলার গ্রেফতার হওয়া ছয় পুলিশ সদস্যের রিমান্ডে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যে কিছুটা ধোঁয়াশায় পড়েন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপালের এক সময়ের ব্যবসায়িক পার্টনার ছমদুল করিম ভুট্টু চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতেই বেরিয়ে আসে নানা তথ্য। তবে অভিযোগকারী গোপালের স্বর্ণের পরিমাণ, সংখ্যা, বৈধতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, ‘দাফতরিক আদেশে ১৫ আগস্ট ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. মনির হোসেনের কাছ থেকে মামলার যাবতীয় নথি বুঝে পাই। একই দিন রাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপালের এক সময়ের ব্যবসায়িক পার্টনার ছমদুল করিম ভুট্টু ফেনী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে তা চাঞ্চল্যকর এই মামলার রহস্যের জট খুলতে সহায়ক হবে।’
ছমদুল করিম ভুট্টুর আদালতে জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত সূত্র জানায়, তিনি এবং গোপাল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের হাজারী লেনের ইকুইটি কোহিনুর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘আলো জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণ দোকান পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়িক বনিবনা না হওয়ায় তারা কয়েক মাস আগে পৃথক হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ভুট্টুর দেওয়া তথ্য ও পরিকল্পনায় ফেনী ডিবি পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রামের ফতেহপুরে গোপালের গাড়ি আটক করে স্বর্ণের বার নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, ৮ আগস্ট বিকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনীর ফতেহপুর এলাকায় ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাসের গাড়ি থামিয়ে ২০ স্বর্ণের বার লুটে নেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা। এ বিষয়ে গোপাল ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায় ফেনী মডেল থানায় ডাকাতি মামলা করেন। ওই রাতেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইফুল ইসলামের বাসার আলমারি থেকে ১৫ স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় ঘটনায় অভিযুক্ত ডিবির ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, এসআই মোতাহের হোসেন, নুরুল হক ও মিজানুর রহমান, এএসআই অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানাকে।
১১ আগস্ট তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে ওসির চার ও বাকিদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ১৪ আগস্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যের রিমান্ড শেষে পুনরায় তিন দিন করে ও ১৬ আগস্ট ওসি সাইফুল ইসলামের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট বিকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ডিবির ওই সদস্যরা তার গাড়ি থামান। ওই সময় তারা ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে চার জনকে আটক করে। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী আরও দুজনকে আটক করা হয়। ডিবির ওসি সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ১৫টি বার উদ্ধার করা হয়। এর পর গত ১০ আগস্ট রাতে গোপাল কান্তি দাস তাদের নামে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিকে অভিযুক্ত ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।








