X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

নুরুল থেকে ‘বন্দর ইসলামের’ উত্থান যেভাবে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৩

১৯৯৭ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে আসেন ভোলার নুরুল ইসলাম। কাজ শুরু করেন বন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ব্যবসার কাজে যেতে হয় টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড কাস্টমস কার্যালয়ে। পরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়। কয়েক মাসের মধ্যে গড়ে ওঠে সম্পর্ক। একসময় নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিতে শুরু করেন। সব ধরনের কাজ করে দেওয়ায় ক্ষমতা রাখায় ‘বন্দর ইসলাম’ নামে পরিচিতি পান। এরপর ‘বন্দর ইসলাম’ নাম বললেই কাস্টমস ও বন্দরের সব কাজ হয়ে যেতো তার। এভাবেই ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ জাল টাকা, তিন লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমার মুদ্রা, চার হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ দুই লাখ এক হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: দিনে পেতেন ১৩০ টাকা, এখন ৪৬০ কোটি টাকার মালিক

নুরুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর র‌্যাব দাবি করেছিল, টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম টেকনাফ কাস্টমস কার্যালয়ের নিয়োগকৃত কিংবা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ছিলেন না বলে জানিয়েছে টেকনাফ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

তবে তার ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার কথা শুনে বিস্মিত কাস্টমস কর্মকর্তারা। তাদের প্রশ্ন, কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন নুরুল ইসলাম?

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ স্থলবন্দরের প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা মো. আব্দুন নুর বলেন, ‘নুরুল ইসলাম নামে এখানে সরকারি কিংবা চুক্তিভিত্তিক কোনও কর্মচারী নেই এবং ছিল না। হয়তো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম চালিয়ে আসছিল নুরুল ইসলাম। তার সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। আমার অবাক লাগছে, কীভাবে ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক মালিক হলো? অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।’

নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও কীভাবে কাস্টমসের কার্যক্রম চালাতেন নুরুল ইসলাম এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে দেখিনি। তবে নাম শুনেছি। তার কোনও অবৈধ ব্যবসা থাকতে পারে। তা না হলে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন। আমরা এখানে নজরদারি বাড়াচ্ছি, যাতে কাস্টমসের নাম ব্যবহার করে আরও কেউ অপকর্মে না জড়াতে পারে।’

বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে নুরুল ইসলামকে কাস্টমস কার্যালয়ে দেখেছি। বন্দরের বড় বড় ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। একসময় কাস্টমস কার্যালয়ের পাশের বাসিন্দা পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়ার আবুল আহমদ ড্রাইভারের সঙ্গে সম্পর্ক হয়। পরে আবুলের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ে করেন। এরপর শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর কেন্দ্রিক গড়ে তোলেন দালাল চক্র। এই চক্র মিলে সরকারের শুল্ক ফাঁকি, অনিয়ম, কাগজপত্র জালিয়াতি, পণ্য মিস ডিক্লারেশন এবং ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কোটি টাকার মালিক বনে যান তার চক্রের লোকজনও। তার সঙ্গে জড়িত সীমান্তের প্রভাবশালীর একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। তার নেতৃত্বে ছিলেন নুরুল। তবে তার অপকর্মে ‘রাজনৈতিক’ ও সরকারি কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, নুরুল ইসলাম কাস্টমস কার্যালয়ের কেউ ছিল না, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এই কথা বললে হবে না। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সামনে বসে প্রকাশ্যে সব কাজ করতো নুরুল ইসলাম। যেভাবে প্রভাব খাটাতো তাতে সবার মনে হয়েছিল বড় কর্মকর্তা। তার কথা ছাড়া অফিসের ফাইল নড়তো না। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। টাকার ভাগ সবাই পেতো। এখন অস্বীকার করছে। তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

নুরুল ইসলামের সেন্ডিকেট সদস্যদের খুঁজছে গোয়েন্দা সংস্থা

নুরুল ইসলাম টেকনাফ বন্দর কেন্দ্রিক দালালি সিন্ডিকেটের প্রধান। তার সিন্ডিকেটের ১৫ জন সদস্য কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ মালামাল খালাস করে আসছিল। সিন্ডিকেটের সদস্যরা মিয়ানমার থেকে আমদানি মালামালের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রতি ঘোষণাপত্রে চার হাজার টাকা, প্রতি ট্রাকে দুই হাজার টাকা, প্রতি বিল অব এন্ট্রি থেকে ৫০০ টাকা, মালামাল লোডিংয়ে এক হাজার টাকা ঘুষ নিতো। নুরুল গ্রেফতারের পর সিন্ডিকেটের সদস্য কামরুল হাসান, রনি লিটন, নুরুল কায়েস, মুহাম্মদ ফারুক, আবু বক্কর ছিদ্দিক, এনামুল হক ও মো. মাসুম ও জব্বারসহ বাকিরা গা ঢাকা দেয়। এখন তাদের খুঁজছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।

স্থলবন্দরের ওপর নজর রাখা এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেফতারের পর নুরুল ইসলামের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীসহ বেশ কিছু নাম পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খুঁজছি আমরা। করোনার সংক্রমণ শুরুর পর নুরুল টেকনাফ থেকে চলে যায়। আড়ালে বসে স্থলবন্দর ও কাস্টমসের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেছিল।’

টেকনাফ স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নুরুল ছিলেন বন্দরের অপকর্মের মূলহোতা। তার নেতৃত্বে মিয়ানমারের আমদানি-রফতানি মালামাল থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয় করে আসছিল চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে মিয়ানমারে বিভিন্ন কসমেটিকস, সুপারি, স্যান্ডেল, নুডুলস ও কফিকে মিস ডিক্লারেশন দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি নিয়েছিল তারা। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রলার-ট্রাকে অবৈধ মালামাল আনতো এবং পাচার করতো। টাকার ভাগ সবাই পেতো।

২০০৯ সাল থেকে টেকনাফে সম্পদ গড়েন নুরুল ইসলাম

টেকনাফের স্থানীয় লোকজন ও দলিল লেখকরা বলেছেন, কক্সবাজার থেকে শুরু করে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত নামে-বেনামে সম্পত্তি গড়েছেন নুরুল ইসলাম। বেশির ভাগই ২০০৯-২০১৮ সালের মধ্যে করেছেন। স্ত্রী রাজিয়া ইসলামের নামে টেকনাফ পৌরসভা, লেঙ্গুরবিল ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় সাড়ে চার একর জমি কিনেছেন। টেকনাফ মৌজার খতিয়ান নম্বর ৪৭২০, ৫০০২ ও ৫০০৩। এসব এলাকায় একাধিক ভবন রয়েছে। তবে সম্প্রতি সেন্টমার্টিনের জমি বিক্রি করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এতদিন পর জানলাম নুরুল ইসলাম কাস্টমস কার্যালয়ের কেউ না। কিন্তু কাস্টমস কার্যালয়ে বসে নুরুল যেভাবে কাজ করতেন তাতে কারও বোঝার উপায় ছিল না। তবে তার সম্পদের কথা শুনে আমি বিস্মিত। বন্দর আর কাস্টমসের কাজ ও দায়িত্ব ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে এখানে কে কি ধরনের কাজ করছে তা জানা খুব মুশকিল। আসলে এমন অপরাধীদের ধরাও যায় না। আমরা বন্দরে নজরদারি বাড়াচ্ছি।’

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, ‘নুরুল ইসলামকে সামনে রেখে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি চক্র শত শত কোটি টাকা গায়েব করেছে। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা দরকার।  পাশপাশি স্থলবন্দর থেকে যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা সুবিধা নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাই।’

/এএম/

সম্পর্কিত

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৪৬

রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকা থেকে সিআইডির ভুয়া ইন্সপেক্টর পরিচয় দেওয়া একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দারুস সালাম থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতের নাম মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার অভি। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে।

এ সময় তার কাছ থেকে স্পেশাল ডিশন সিবি হরনেট-১৬০আর মোটরবাইক, একটি ওয়াকিটকি, একটি পাসপোর্ট একটি পোকো মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।

দারুস সালাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, শুক্রবার দারুস সালাম থানার গাবতলি তিন রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে পুলিশ সার্জেন্ট ও টহল পুলিশের সমন্বিত তল্লাশি চৌকিতে একজন মোটর আরোহীকে থামার সিগন্যাল দেওয়া হয়। চালক মোটরবাইক থামালে কর্তব্যরত অফিসার গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে নিজেকে সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দেন। তখন পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে বাইক নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:১১

কাঁধের একটি ব্যাগ আর একটি কার্টন নিয়ে বিমানবন্দরে এসেছিলের  স্বপন মাতব্বর। তিনি যাবেন সৌদি আরবের দাম্মামে। তবে তার সৌদি আরব যাওয়া হয়নি।  শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরে ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় তার কার্টনে ধরা পড়ে ইয়াবা। তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

জানা গেছে, সৌদিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪০৪৯ ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন স্বপন। বোর্ডিং শেষে চেক ইন ব্যাগেজ স্ক্যানিং এর সময় তার সঙ্গে থাকা একটি কার্টনে ইয়াবা শনাক্ত হয়। কার্টনের কার্বন পেপারে মুড়িয়ে আলাদা লেয়ার করে ২২ হাজার ৪৯০ পিস ইয়াবা লুকানো ছিল।

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন মাতব্বর জানিয়েছেন, তার বাড়ি মাদারীপুরে। সৌদি আরবে থাকা পরিচিত একজন তাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তার ভাইয়ের কাছ থেকে একটি সবজিসহ কার্টন নিয়ে আসার জন্য। 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান বলেন, বিমানবন্দরে ডি সারিতে স্ক্রিনার নুরুজ্জামান ও ইউনুস আলী ওই যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যানিং করেন। এরপর তার ব্যাগ তল্লাশি করে ইয়াবা আটক করেন তারা। আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

/সিএ/এমআর/

সম্পর্কিত

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব নয়

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৩

ট্রান্সফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ট্রান্সফ্যাটমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে প্রক্রিয়াধীন ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের শহীদ ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক  কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা এ তাগিদ দেন। 

অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত কর্মশালায় প্রিন্ট এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৯ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় প্রজ্ঞা’র পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

এ সময় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ব্রাক ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’র (বিএফএসএ) সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ, জিএইচএআই’র বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড রূহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

প্রজ্ঞার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা জানিয়েছে, খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন। ডব্লিওএইচও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এলক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ প্রণয়নে কাজ করছে।

কর্মশালায় আবু আহমেদ শামীম বলেন, ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে। অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “আমাদের গবেষকদল ঢাকার ডালডা নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পেয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হবে।

রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রফতানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাবো এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

/এসআই/এফএএন/

সম্পর্কিত

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা বেড়েছে

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা বেড়েছে

রাসেলের মুক্তি দাবি

রাসেলের মুক্তি দাবি

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের দাবি

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের দাবি

‘হাসপাতাল দরকার আছে তবে প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে নয়’ 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০০

আমাদের দেশে হাসপাতাল দরকার আছে। সেটা সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে নয়-বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ। 

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিআরবিতে গাছ কেটে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে ‘প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে বাণিজ্যিক স্থাপনা বন্ধ করো, সিআরবি বাঁচাও’ ব্যানারে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সমাবেশে উপস্থিত থেকে তিনি একথা বলেন। 

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সিআরবি নামক একটি জীবন্ত জায়গাকে নষ্ট করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণের  যে চক্রান্ত তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। হাসপাতালের কথা বলা হচ্ছে, হাসপাতাল হবে মানুষের চিকিৎসার জন্য।  কিন্তু অসুস্থতা কোত্থেকে আসে, মানুষ কেন অসুস্থ হয়, সেই জায়গাটি যেন আমরা খেয়াল করি। বুড়িগঙ্গা নদীতে যদি স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা থাকতো, তাহলে ঢাকা শহরের মানুষ যেসকল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যেমন,ফুসফুস, কিডনি,হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, পাকস্থলীসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিকাল সমস্যা যেগুলো আছে তার অর্ধেকও থাকতো না। একটা অসুখ তৈরির কারখানা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রকল্প আসলে হচ্ছে অসুখ তৈরির কারখানা।

দেশে  হাসপাতালের দরকার আছে তবে সেটা প্রকৃতি ধ্বংস করে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতি নষ্ট করে কিছু লোকের ব্যবসা করার জন্য, মুনাফা অর্জন করার জন্য হাসপাতাল নামে দখল বৈধতা দেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব নয়

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব নয়

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৫৯

১৩ মাসে মিরপুর ডিভিশনের দায়িত্ব পালন করে ১১ বারই ডিএমপিতে শ্রেষ্ঠ ডিসি হয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার এএসএম মাহাতাব। মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের।

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক কিংবা পারিবারিক নির্যাতন কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে? বিশেষ করে মিরপুর জোনের পরিস্থিতি কেমন?

এএসএম মাহাতাব: মিরপুরে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ থাকে। ডিএমপির সবচেয়ে বড় বিভাগ এটি। নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের লোকজনও এখানে বেশি। ভাসমান লোকও প্রচুর। তুচ্ছ ঘটনায় সামাজিক এবং পারিবারিক কারণে যেন কারও ক্ষতি না হয় তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মোটিভেশনের কাজটি করে আসছি। সম্পর্কের ভাঙন ও এর বিপদ সম্পর্কে পরিবারগুলোকে জানাচ্ছি। পারিবারিক কিংবা সামাজিক নির্যাতনের ঘটনায় অনেকেই আমাদের কাছে আসছেন সহায়তার জন্য। আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনার কিছু সময় এ কাজে রাখি। এতে আমি মনে করি অন্য অপরাধের প্রবণতাও কমে আসবে।

বাংলা ট্রিবিউন: পারিবারিক বা সম্পর্কজনিত অপরাধে নতুন কোনও ট্রেন্ড কি দেখতে পাচ্ছেন?

এএসএম মাহাতাব: বিভিন্ন সময় ধর্ষণের অভিযোগে যারা থানায় মামলা করতে আসেন তাদের অনেকের ঘটনা তদন্তে দেখা যায়, পূর্ব সম্পর্কের জেরে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। পরে কোনও কারণে মনোমালিন্য হলে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে চাচ্ছেন। এসব আমরা খতিয়ে দেখি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলি আবার আইনানুগ ব্যবস্থাও নিই। ইদানিং দেখা যাচ্ছে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেও অনেকে নির্যাতনের মামলা দায়েরের চেষ্টা করছে। এ ধরনের সেনসিটিভ বিষয়গুলো এখন সতর্কতার সঙ্গে দেখছি।

বাংলা ট্রিবিউন: মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে কেমন সাফল্য রয়েছে মিরপুরে?

এএসএম মাহাতাব: মাদক তো গোটা দেশে ছড়িয়ে আছে। মিরপুর বিভাগে মাদকের যে ট্রেন্ড তাতে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। আগের চেয়ে ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ মাদক-মামলা বেড়েছে। বড় কয়েকজন কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেমন অ্যাকশনে যাচ্ছেন?

এএসএম মাহাতাব: এ সবে জড়িতদের তালিকা আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশ করি না। তবে অনেকের তথ্য রয়েছে। তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছি, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এই চাঁদাবাজির ঘটনা। কাউকে ফাঁসানো বা বিব্রত করতে কিংবা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধেও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত করে এসব জানতে পেরেছি। আবার ‘বড় সন্ত্রাসী’ পরিচয়ে চাঁদা চাইলে অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসতে চান না। অথচ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের প্রশ্নে দ্বিমত বিবেচনা করা হয় না। সবাইকে বলবো- কেউ চাঁদা চাইলে দ্রুত পুলিশের সহায়তা নিন।

বাংলা ট্রিবিউন: রাজধানীতে ঢোকার মুখে মিরপুর বেড়িবাঁধ ও গাবতলীর নিরাপত্তায় কী ধরনের নজরদারি রয়েছে?

এএসএম মাহাতাব: গাবতলী এলাকায় সার্বক্ষণিক তল্লাশি চলে। এই কাজে দারুসসালাম থানা, টেকনিক্যাল পুলিশ বক্স, দারুসসালাম পুলিশ ফাঁড়ি, গাবতলী পুলিশ বক্স-এ দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকেন। মিরপুর বেড়িবাঁধে আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: গাবতলী বাস টার্মিনাল কেন্দ্রিক ভ্রাম্যমাণ ছিনতাই ঠেকাতে কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?

এএসএম মাহাতাব: এই টার্মিনালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের কার্যক্রম চলছে। আগের চেয়ে গাবতলী টার্মিনালে চুরি-ছিনতাই কমেছে। সন্ধ্যার পর রাত অবধি যেসব বাস গাবতলী থেকে বিভিন্ন জায়গা ছেড়ে যায়, সেগুলোর যাত্রীদের ভিডিও ধারণ করা হয় মালিক ও পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সহায়তায়। এতেও অনেকে অপরাধ করার সাহস পায় না।

বাংলা ট্রিবিউন: থানাগুলোকে জনবান্ধব করার কোনও পরিকল্পনা আছে?

এএসএম মাহাতাব: অনেকেই তো বলে ‘পুলিশ খারাপ’। তথাপি, থানায় প্রতিদিন মামলা হচ্ছে, জিডি হচ্ছে। তবে কেউ কেউ থানাকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে চান। মানবিক, ব্যক্তিগত বা এখতিয়ারের বাইরের কোনও কাজে থানা সম্পৃক্ত হয় না। এটাও অনেকে মানতে চান না। আবার কেউ যদি মিথ্যা মামলা করতে চান আর বিষয়টি যদি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেনে থাকেন তবে অবশ্যই ওই মামলা তিনি নেবেন না। অনেকে এই ক্ষোভ থেকেও বলেন থানায় মামলা বা জিডি নেয় না। সত্যিকারের ভুক্তভোগীরা ঠিকই থানায় আসেন। পুলিশি সেবাও পেয়ে থাকেন।

বাংলা ট্রিবিউন: ভুইফোঁড় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নজরদারি রয়েছে কি?

এএসএম মাহাতাব: নামসর্বস্ব কয়েকটি পত্রিকার পরিচয় দিয়ে অনেকেই পুলিশের কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। কিছুদিন আগে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজি করতে আসা নামসর্বস্ব একটি পত্রিকার দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর সাংবাদিক ক্লাব নামে একটি সংগঠন একজনের জমি দখল করে কার্যালয় নির্মাণ করেছিল। সেটাও আমরা উচ্ছেদ করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো কী কারণে আপনার নজরদারিতে এলো?

এএসএম মাহাতাব: আমি ২০২০ সালের ৯ আগস্ট  মিরপুর বিভাগে জয়েন করি। এখানে জয়েন করার সময় আমি দিনে অন্তত ৪০-৫০টি নারী নির্যাতন বিষয়ক অভিযোগ পেতাম। পরে দেখলাম ৭০ ভাগই স্রেফ ক্ষোভের বশে মামলা করতে আসেন। মামলা না নিলে চলে তদবির। এ সময় ভেবে দেখলাম ঘটনার গুরুত্ব সাপেক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে যদি তাদের বোঝাতে পারি তবে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে ধন্যবাদ।

এএসএম মাহাতাব: পুলিশের বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ।

মিরপুরের সাত থানার অপরাধচিত্র

চলতি বছরের ১-১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিরপুরের ৭টি থানায় যত মামলা হয়েছে—  ২টি হত্যাকাণ্ড, ৮টি ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ৭টি, ছিনতাইয়ের ২টি, চুরির ১৩টি, মাদকের ১১৩টি, অন্যান্য ঘটনায় ৩১টি। এসব মামলায় ৩১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/এফএ/

সম্পর্কিত

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

প্রতারক এহসানকে পদক দিয়েছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক

প্রতারক এহসানকে পদক দিয়েছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও থানায় ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও থানায় ইভ্যালির রাসেল

৮৫ হাজার কারাবন্দিকে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

৮৫ হাজার কারাবন্দিকে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

চার জনের পেটে ৮৪০০ ইয়াবা

চার জনের পেটে ৮৪০০ ইয়াবা

সর্বশেষ

অস্কার ব্রুজনের ‘আগুনের গোলায় ঝাঁপ’

অস্কার ব্রুজনের ‘আগুনের গোলায় ঝাঁপ’

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

২ হাজার বছর পুরনো ব্যাকট্রিয়ান সোনার খোঁজে তালেবান

২ হাজার বছর পুরনো ব্যাকট্রিয়ান সোনার খোঁজে তালেবান

© 2021 Bangla Tribune