X
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

বদলে গেছে শান্তির মানে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৩৭

একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় (যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই স্লোগানে) ১৯৮১ সালে শুরু হওয়া বিশ্ব শান্তি দিবস এখন কেবল অস্ত্র বিরতি ও সংঘাত নিরসনে আটকে নেই। সময়ের সঙ্গে বদলেছে শান্তির মানে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় অস্ত্র বিরতি ও সংঘাত নিরসনে কেবল দিবস নয় সে বছর শান্তি দশক পালনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই শান্তির মানে বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে বদলে সামগ্রিক ন্যায্যতাকে ধারণ করতে চায়। এখন কেবল অস্ত্র বিরতি বা সংঘর্ষ নিরসন শান্তি প্রতিষ্ঠা হিসেবে না দেখে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই শান্তি অর্জনকে জরুরি বলে মনে করছেন শান্তি অধ্যয়ন, গবেষণা ও আন্দোলনকারীরা।

তারা বলছেন, বিশ্বে কোভিড পরিস্থিতিতে টিকা ও স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি নিশ্চিতকরণে ধনী দেশগুলোর প্রান্তিক দেশগুলোর প্রতি যে দায়িত্ব, সেটি নিশ্চিত করা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে।

জাতিসংঘ কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত দিন যা এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের সকল দেশ ও সংগঠন কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ, হিংসা, আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগের মতো ঘটনা মুছে ফেলতেই প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বছরের শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘রিকভারিং বেটার ফর ইকুইট্যাবল অ্যান্ড সাসটেইন্যাবল ওয়ার্ল্ড (ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বিশ্ব পুনরুদ্ধার)’। টেকসই শান্তি অর্জনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে নিতে বিশ্বের সকল দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান মনে করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ যেমন জরুরি তেমনিই বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোর উচিত অপেক্ষাকৃত গরীব ও প্রান্তিক দেশগুলো যেন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। গত দুই বছরে বিশ্ব যে অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে যদি ক্ষমতাশালী শক্তিমান রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে না আসে তাহলে বিশ্ব আরও বৈষম্যের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সংঘাত বাড়বে। পক্ষান্তরে শান্তিও বিঘ্নিত হবে। সেইদিন বিবেচনায় এবারের শান্তি দিবসের যে প্রতিপাদ্য তা যথাযথ বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রফিক শাহরিয়ার বলেন, শান্তি এখন আর কেবল সংঘাত নিরসন ও অস্ত্র বিরতির ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে কোভিডের কারণে বিশ্ব নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে এখন ন্যায্যতার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে এসেছে। এখনও একশটি দেশ ভ্যাকসিনের তালিকায় নিজেদের ঢুকাতে পারেনি। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় টিকা এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি সহজলভ্য করে তোলার চেষ্টার কথা বারবার বলা হচ্ছে। এ সময়ে সেটি করতে না পারলে শান্তির নতুন যে সংজ্ঞায়ন দাঁড় হচ্ছে তা বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও কোভিড পরিস্থিতি এক জটিল বিশ্বের দিকে আমাদের অনবরত টানছে। উন্নত দেশগুলোকে প্রান্তিক দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ সংঘাত চলমান।

আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক তালেবান উত্থান ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র বিরতি ও সংঘাত নিরসনকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ১৯৮২ সালে প্রথম দিবসটি পালন হয়। সে বছর প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্বের মানুষের শান্তির অধিকার’। পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর বিশ্ব পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দিবসটি পালনে শান্তির নানা প্রস্তাবনা তুলে প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়। জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ যে কর্মসূচীতে শান্তির বার্তা বয়ে আনে সেগুলোই শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে প্রস্তাব আনে। পরে তা গৃহীত হয়।

/এনএইচ/

সম্পর্কিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১৯

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপাচার্যরা। একই প্রশ্ন ট্রাস্টিদের সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির। চলমান সফল তিন সেমিস্টার পদ্ধতি কমিয়ে এনে কেন দুই সেমিস্টার করতে হবে তা বোধগম্য নয় কারও। তারা বলছেন, ‘হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া এই নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করবে। তাহলে কার স্বার্থে মরিয়া হয়ে দুই সেমিস্টার পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি?’

গত ৯ আগস্ট দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারদের চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘২০২১ সালের পর বছরে দুই সেমিস্টার ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি হলে কমিশনের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’ শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক পরিচিতি নম্বর তৈরির চিঠিতে এই নির্দেশনা জুড়ে দিয়েছে ইউজিসি। এতে ২০২২ সালের জুলাই থেকে দুই সেমিস্টার রাখার কথা বলা হয়।

ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিত চন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগের চিঠিতে বলা হয়েছিল ২০২১ সালের পর থেকে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি নিতে হবে। দ্বিতীয় চিঠিতে সেই সময় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুলাই থেকে করা হয়েছে। দ্বিতীয় চিঠি অনুসরণ করতে হবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ও উপাচার্যদের মন্তব্য, ‘বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে তিন সেমিস্টার চালু আছে। কোথাও চার সেমিস্টারও রয়েছে। অথচ হঠাৎ বলা হচ্ছে, দুই সেমিস্টার ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। শিক্ষাক্রমের বিষয়ে কোনও আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি অনাকঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশে তিন সেমিস্টার থাকার বিষয়টি জানিয়ে মন্তব্য চাইলে ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীরের দাবি, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিন সেমিস্টার আছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় দুই সেমিস্টারে।’

শিক্ষার্থীদের ইউনিক পরিচিতি নম্বর প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি নিবন্ধন নম্বর থাকেই। তাহলে কেন হঠাৎ এত বড় একটি পরিচিতি নম্বর তৈরি হচ্ছে? পৃথিবীর অন্য কোথাও কিন্তু এত বড় নম্বর নেই।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বিষয় অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল। অ্যাকাডেমিক বিষয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির শর্তারোপ আইনে নেই, এ কারণে শিক্ষার্থী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নতুনভাবে চাপ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে শিক্ষাক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

ইউজিসি’র নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন। তার মন্তব্য, ‘যারা নতুন বিষয় চালু করতে চায় তাদের এই শর্ত দেওয়া হচ্ছে, যা আইনের মধ্যে পড়ে না। দুই সেমিস্টার হলে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বেশি টাকা দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ পড়বে।’

একই মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ট্রাস্টি বোর্ডের জ্যেষ্ঠ অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। তিনি বলেন, ‘দুই সেমিস্টার চালালে শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া তিন সেমিস্টার সফলভাবেই চলে আসছে। সফলভাবে চলা একটি নীতি বাদ দিয়ে নতুন প্রক্রিয়া শুরু না করাই শ্রেয়।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতির দাবি, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তো সেভাবে ছুটি নেন না। সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাসের পর মাস ছুটিতে থাকেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় খোলা থাকে।’

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমানের মতে, ‘আমাদের দেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে সেগুলোর অধিকাংশই ট্রাই-সেমিস্টার পদ্ধতিতে চলে আসছে। দুই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হলে একজন শিক্ষার্থীকে ছয়-সাতটি কোর্স নিতে হবে। ফলে তাদের বেশি কোর্সের চাপ নিয়ে পড়াশোনার বিষয়টি ভাবা প্রয়োজন। এসব সামাল দিতে সেকশন বেশি রাখতে হবে, ক্লাসরুম বেশি দরকার, শিক্ষকও বেশি লাগবে। আমার মতে এর কোনও মানে নেই।’

অ্যাকাডেমিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ক্ষমতা থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেয় ইউজিসি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘এটি ইউজিসির ক্ষমতা দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।’

এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম. আনিছুর রহমান। তার অভিমত, ‘করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে কোনও আলোচনা ছাড়াই দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। নতুন করে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হলে চাপে পড়বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদেরও দুই দফায় পুরো বছরের টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমনিতেই ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না, সেখানে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আরও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।’

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর মন্তব্য, ‘দুই সেমিস্টার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুইবারেই একবছরের টাকা নিয়ে নেবে। সেক্ষেত্রে আমাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। যদি তিন বা চার ভাগে টাকা নেয় তাহলে আমাদের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেই সুযোগ রাখতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’

দুই সেমিস্টারের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরলে ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ উল্লেখ করেন, দুই সেমিস্টারের পাঠ্যসূচির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তার পরামর্শ, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনে সেকশন করতে পারে, আসন বাড়াতে পারে। শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিবেচনায় তা করা যেতে পারে। কিন্তু তিন সেমিস্টারে ভর্তি করানো যাবে না।’

ইউজিসি’র আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর নতুন নির্দেশনা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন । তার ভাষ্য, ‘একটি শিক্ষাবর্ষে তিন সেমিস্টার থাকতেই পারে। তবে মূল সেমিস্টার হবে দুটি। মূল দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। যদি কোনও কারণে কোনও শিক্ষার্থী খারাপ করে তাহলে একটি সংক্ষিপ্ত সেমিস্টার থাকতে পারে। ফেল করা শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত ওই সেমিস্টারের মাধ্যমে কাভার করবে। তৃতীয় সেমিস্টারে সংক্ষিপ্ত কোর্স চালানো যেতে পারে, তবে সাধারণ ভর্তি নয়। তিনটি সেমিস্টার হলে একটি সেমিস্টার শেষ না হতেই আরেকটি সেমিস্টার শুরু হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তিন সেমিস্টারেই শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। সে কারণে ছাত্রদের সময় কম থাকে। পাঠদান করা যায় না।’

দুই সেমিস্টারের ফলে বরং শিক্ষার্থীদের লাভ দেখছেন অধ্যাপক আলমগীর, ‘দুই সেমিস্টার করে চার বছরে শিক্ষার্থীরা শেষ করবে। বছরে দুইবার সেমিস্টারের ফি দিতে হবে তাদের। কিন্তু তিন সেমিস্টার থাকলে বছরে তিনবার সেমিস্টার ফি দিতে হবে। বাকি ক্রেডিটের টাকা তো একই থাকে। একজন শিক্ষার্থী কি শুধু ক্লাস করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়? একটি সেমিস্টার শেষের পর শিক্ষার্থীর জন্য একটি বিরতি দরকার। বিদেশে তো তিন মাস বন্ধই থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। যারা ফেল করে ওই সময় তারা তৃতীয় সেমিস্টারে কাভার করে নেয়। পাস করা শিক্ষার্থীদের তার দরকার হয় না।’

 

 

 

 

    

/এসএমএ/এসএএস/জেএইচ/

সম্পর্কিত

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

প্রশ্নফাঁসের গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নফাঁসের গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৬

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসীর আদালত ওই আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৭ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। এরপর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের জন্য আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রামপুরার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এক নারী সহকর্মীর ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে এ মামলা হয়।’

‘ইমন তার সহকর্মীর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও তথ্য গণমাধ্যমের কালোবিড়াল নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন। এছাড়াও একই বার্তা ও পেজ লিঙ্ক শতাধিক সহকর্মীকে ইনবক্সে পাঠান।’ রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি রফিকুল ইসলাম।

/এমএইচজে/এমএস/

সম্পর্কিত

মাদকের নতুন রুটের বিষয়ে ভারতকে জানালো বাংলাদেশ

মাদকের নতুন রুটের বিষয়ে ভারতকে জানালো বাংলাদেশ

‘একাত্তরের মতো আগামী দিনেও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করবো’

‘একাত্তরের মতো আগামী দিনেও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করবো’

যাত্রাবাড়ীতে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারী পথচারীর

যাত্রাবাড়ীতে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারী পথচারীর

ইউনিফর্ম পরা দেখলেই ডিবি বা র‌্যাব মনে করবেন না: হারুন

ইউনিফর্ম পরা দেখলেই ডিবি বা র‌্যাব মনে করবেন না: হারুন

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪২

২০২২ সালের পর ঢাকা শহরে যত্রতত্র, উন্মুক্ত স্থানে আর বর্জ্য থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দক্ষিণ সিটির ৬৩ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মেয়র বলেন, ‘আজ  ৫৩ নম্বর ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের উদ্বোধন করলাম। এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪২টি অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।

তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যে ৭৫টি ওয়ার্ডেই বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।  ৭৫টি ওয়ার্ডেই বর্জ্য সেবা সংগ্রহকারী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছি। তাদের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে নিয়ে আসবো। সেখান থেকে আমরা মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে বর্জ্য স্থানান্তর করবো। সুতরাং, ২০২২ সালের পর ঢাকা শহরের উন্মুক্ত স্থানে আর বর্জ্য থাকবে না।’

যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকার ফলে বাসযোগ্যতার তালিকায় ঢাকা শহর একেবারে নিম্ন সারিতে অবস্থান করছে জানিয়ে তাপস বলেন, ‘বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে শহরগুলোর যে তালিকা প্রণয়ন করা হয় সেখানে দেখা যায়, ঢাকা সর্বনিম্নে অবস্থান করে। এর একটি অন্যতম কারণ হলো— ঢাকা শহরের যেখানে-সেখানে, রাস্তার ওপরে, নর্দমার ভেতরে-বাইরে, খালে-বিলে সব জায়গায় বর্জ্য উপচে পড়ছে। যত্রতত্র উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকে। সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক একটি করে অন্তবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমাদের ৭৫টি ওয়ার্ডেই এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘আমাদের ব্যাপক কার্যক্রমের ফলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর হার একেবারে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মাত্র ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি, ঢাকার অন্যান্য এলাকাসহ আশপাশের এলাকা ও অন্যান্য জেলায় ডেঙ্গু রোগীর বিস্তার বেড়েছে। এতে দক্ষিণ সিটিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে কিউলেক্স মশার বিস্তার রোধে আমরা কার্যক্রম শুরু করবো।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর সিতওয়াত নাঈমসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসএস/ এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২২

বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।  বুধবার (২৭ অক্টোবর) ‘বৃহত্তর নাগরিক সমাজ সংগঠন বিকাশে অন্তর্ভুক্তিমূলক-সহনশীলতার সংস্কৃতি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল অধিবেশনে বিডিসিএসও প্রক্রিয়ার বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে এই অভিমত প্রকাশ করেন তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমুন্বয়ের সভাপতি ড. আতিউর রহমান।

ভার্চুয়াল অধিবেশনে বক্তারা বলেন, সামাজিক এই শক্তি বা পুঁজি  তৈরি উন্নয়ন করতে প্রয়োজন উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহযোগিতাগুলোর স্থানীয়করণ, অন্তর্ভুক্তি বা ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস এবং সহনশীলতার মানসিকতা। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য এই ধরনের সামাজিক শক্তি অপরিহার্য এবং সামাজিক মূলধনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চারটি নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে গ্র্যান্ড বার্গেইন, উন্নয়ন কার্যকারিতা এবং চার্টার ফর চেঞ্জ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিমালা পূরণ করার জন্য আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃটিশ হাইকমিশনের ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জুডিথ বারবার্টসন, ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশনের ইগনাসিও প্যাকার এবং বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর’র প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যান ডার ক্লাউ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন হিউম্যানিটারিয়ান এইড ইন্টারন্যাশনালের সুধাংশু শেখর সিং (ভারত),  বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের শরীফ জামিল এবং ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি  মোর্শেদ আলম সরকার।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনা ভ্যাকসিন নিয়েও এক ধরনের বর্ণবাদ এবং দ্বন্দ্ব রয়েছে, অথচ বাংলাদেশ তার সীমিত সামর্থ্য নিয়েই লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, এটা আমাদের জণ্য অবশ্যই গর্বের একটি বিষয়। রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে  আন্তর্জাতিক শক্তি ও সম্প্রদায়ের উদ্যোগ খুবই সীমিত, এটা আমাদের অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপ, কিন্তু আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশিরা নৈতিকতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা সবার জন্য প্রযুক্তি নিশ্চিত করবো।’

সুধাংশু  শেখর সিং বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তি এবং সহনশীলতার ক্ষেত্রে ভিন্নমতকেও শুনতে হবে এবং সমালোচনামূলক সুশীল সমাজ বিকাশের সুযোগ রাখতে হবে।’ তিনি ধনী দেশের পরামর্শ মতো কাজ না করে তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক সমাজকে তাদের নিজস্ব বিষয়বস্তু তৈরি করার আহ্বান জানান।

জুডিথ হারবার্টসন বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণ স্থানীয়করণ এবং স্থানীয় সুশীল সমাজকে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে স্থানীয় এনজিও ও সিএসওগুলোর সঙ্গে যৌথ চাহিদা মূল্যায়ন এবং সমন্বয় কাঠামো রয়েছে আমাদের। ব্রিটিশ সরকার এখানে একটি প্রাণবন্ত সুশীল সমাজ দেখতে চায়।’

ইগনাসিও প্যাকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যার প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দেন, এনজিও ও সিএসও-গুলোকে একে অপরের কথা শুনতে হবে, সুশীল সমাজ হিসেবে আমাদের একটি সাধারণ ন্যূনতম অবস্থান দরকার, স্থানীয়করণের ক্ষেত্রে আমাদের ভালো উদাহরণ তৈরি করতে হবে।’

জোহানেস ভ্যান ডার ক্লাওউ উল্লেখ করেন যে, ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে সরকারের সঙ্গে রয়েছে। তিনি বাংলাদেশি জনগণ ও সরকারের ব্যতিক্রমী উদারতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মোর্শেদ আলম সরকার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বাংলাদেশি সিএসও/এনজিওর সক্ষমতার ঘাটতির দিকে অতি মনযোগ দেওয়া উচিত নয়। তাদের উচিত স্থানীয় এনজিওগুলোকে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার ভার ছেড়ে দেওয়া।’ এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পরবর্তী সময়ের জন্য বাংলাদেশের এনজিওগুলোকে প্রস্তত করতেও স্থানীয়করণ প্রয়োজন।’

এতে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন— আরপিএস’র আকবর হোসেন, আফাদ’র  সৈয়দা ইয়সমিন,  এবং  বিএনএনআরসি’র এএইচএম বজলুর রহমান। অধিবেশন পরিচালনা করেন মোস্তফা কামাল আকন্দ ও ইকবাল উদ্দিন। স্বাগত বক্তৃতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিডিসিএসও প্রক্রিয়ার জাতীয় সমন্বয়ক রেজাউল করিম চৌধুরী।

 

/এসও/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র কপ-২৬’র এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি: স্পিকার

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০৮

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, শিশুরাই হতে পারে পরিবর্তনের নিয়ামক। শিশু ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র। শিশুরা কেমন গ্রহ ও পৃথিবী চায়, তা নীতিনির্ধারকদের জানাতে পারছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিশুদের চিন্তাধারাকে কপ-২৬ এর বৈশ্বিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্লাটফর্মে নেতৃত্ব দিতে পারে।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ফোরামে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তিনিই প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে তিনি ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দি আর্থ’ পুরস্কার লাভ করেছেন।

স্পিকার বলেন, বিশ্বব্যাপী সকলে জলবায়ু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, যদিও বাংলাদেশ এর জন্য দায়ী নয়।

পার্লামেন্টারি ককাস অন চাইল্ড রাইটসের সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি এবং আরমা দত্ত এমপি  বক্তব্য রাখেন।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

/ইএইচএস/এমআর/

সম্পর্কিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নিতে কেন মরিয়া ইউজিসি?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: সাংবাদিক ইমন কারাগারে

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘২০২২ সালের পর রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক শক্তি’

শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র কপ-২৬’র এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি: স্পিকার

শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র কপ-২৬’র এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি: স্পিকার

মাদকের নতুন রুটের বিষয়ে ভারতকে জানালো বাংলাদেশ

মাদকের নতুন রুটের বিষয়ে ভারতকে জানালো বাংলাদেশ

প্রশ্নফাঁসের গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নফাঁসের গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

করোনা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী 

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় ১১ নভেম্বর

‘অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে’

‘অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে’

সর্বশেষ

ব্যবসায়ীর গুদামে গরিবের ১০ হাজার ৭০০ কেজি চাল

ব্যবসায়ীর গুদামে গরিবের ১০ হাজার ৭০০ কেজি চাল

‘ফেসবুক প্রটেক্ট’ কেন প্রয়োজন?

‘ফেসবুক প্রটেক্ট’ কেন প্রয়োজন?

প্রাইম ব্যাংককে যুক্তরাজ্যের সিডিসি গ্রুপের ৩০ মিলিয়ন ডলার ট্রেড লোন প্রদান

প্রাইম ব্যাংককে যুক্তরাজ্যের সিডিসি গ্রুপের ৩০ মিলিয়ন ডলার ট্রেড লোন প্রদান

আর্থিক ক্ষমতা পেলেন দুপচাঁচিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র

আর্থিক ক্ষমতা পেলেন দুপচাঁচিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু

© 2021 Bangla Tribune