X
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

এবার মরুর বুকে ক্ষত-বিক্ষত মাহমুদউল্লাহরা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৯

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে এক প্রকার বলে কয়েই হারালো স্কটল্যান্ড। ম্যাচের দুইদিন আগে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ বাংলাদেশকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন। বাস্তবে যার প্রমাণও মিললো। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে স্কটল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের চেয়ে কতটা এগিয়ে তারা! ব্যাটিং,বোলিং,ফিল্ডিং- কোন বিভাগেই প্রতিপক্ষকে ছাড়াতে পারেনি মাহমুদউল্লাহর দল। এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের কারণেই ‘পুঁচকে’ স্কটিশদের কাছে ৬ রানে ধরাশায়ী হতে হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্কটিশ বাধা পেরুতেই পারছে না বাংলাদেশ। ২০১২ সালে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ৩৪ রানে জিতেছিল স্কটল্যান্ড। স্কটল্যান্ডের ৭ উইকেটে করা ১৬২ রানের জবাবে ১৮ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় মুশফিকরা। ৯ বছর আগে হেগের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আশা করা হচ্ছিল মরুর বুকে ফুল ফোটাবেন মাহমুদউল্লাহরা। ভাগ্যদেবী সহায় না হওয়ায় হেগের মতো ওমানের মরুভূমিতেও একই চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ হলো।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ে নিয়ে অস্বস্তি ছিলই। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্লো উইকেটে কোন ব্যাটসম্যানই ছন্দে ছিলেন না। ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী হলেও ব্যাটাররা ছিলেন নিষ্প্রভ। যার প্রভাব পড়ে দুটি ওয়ার্মআপ ম্যাচে। একই ধারাবাহিকতা দেখা গেলো স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম পর্বেও। যার ফলে আইসিসির সহযোগী দলের বিপক্ষে বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত দিতে হলো ম্যাচ হেরে। স্কটল্যান্ডের দেওয়া ১৪১ রানও টপকাতেই পারলো না বাংলাদেশ।

এই হারে বরং সাকিবদের ঘিরে আশঙ্কাটা ঘনিভূত হচ্ছে আরও। তুলনামূলক সহজ বোলিং-ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে এমন ব্যর্থতায় দলটির মূল পর্বের পারফরম্যান্সে এঁকে দিচ্ছে প্রশ্ন চিহ্ন!

রবিবার টস জিতে শিশিরের শঙ্কায় ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশি বোলাররা বেশ ভালো মতোই স্কটিশদের চেপে ধরেছিল। ১২তম ওভারে ৫৩ রানে ৬ উইকেট তুলে তাদের অল্পতে বেঁধে ফেলার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু শেষ ৮ ওভারে বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে স্কটিশ ব্যাটাররা ১৪০ রান জমা করেন স্কোরবোর্ডে। তারপরও কুড়ি ওভারের ক্রিকেট এটি মামুলি লক্ষ্যই।

অথচ সহজ এই লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই সৌম্য-লিটন যেভাবে আউট হলেন, নবীন কোন ক্রিকেটার তেমনটা করবেন না। ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার মেরে শুরু করেছিলেন সৌম্য। বাঁহাতি এই ব্যাটারের ওই শটের পর একজন ফিল্ডারকে নিয়ে যাওয়া হয় মিডউইকেটে। অভিজ্ঞ এই ওপেনার ঠিক সেখানেই লোপ্পা ক্যাচ তুলে দিলেন দ্বিতীয় ওভারে। সৌম্যর মতোই মিডঅনে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন আরেক ওপেনার লিটন।

এরপর অফফর্মে থাকা সাকিব টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে দলের রানরেট বাড়িয়ে তোলেন। সেই বেড়ে যাওয়া রান রেট থেকে আর ফিরে আসতে পারেনি বাংলাদেশ দল। মুশফিক শুরুতে স্লো ব্যাটিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আগ্রাসন বাড়াতে থাকেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্রিস গ্রেভসের গুড লেন্থের বলটি স্কুপ করতে গিয়েই বোল্ড হন তিনি! সাকিব-মুশফিকের বিদায়ের পরই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ কয়েক ওভারে মাহমুদউল্লাহর এক ছক্কা ও মেহেদীর ছোটখাটো ক্যামিও ইনিংসে কেবল হারের ব্যবধান কমাতে পেরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

মূলত স্কটিশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই অসহায় আত্মসমপর্ণ করেছে বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে পারফেক্ট ফিল্ডিং পজিশনও রিয়াদদের আটকে রাখতে সহায়তা করেছে। মুশফিক-সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-আফিফরা দারুণ কিছু শটস খেলেছেন যদিও, কিন্তু বেশিরভাগই ফিল্ডারদের হাতে জমা পড়েছে। বাউন্ডারি লাইনে বল গেলেও গ্রাউন্ড শটসগুলো থেকে ব্যাটাররা একের বেশি রান নিতে পারেনি। এর বাইরে ওভার দ্য টপ খেলতে গিয়ে মুশফিক-লিটন বাদে বাকি ব্যাটাররা ফিল্ডারদের হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়েছেন! কোন ফিল্ডারকেই বাড়তি কষ্ট করতে হয়নি।

সবমিলিয়ে তিন বিভাগেই বাংলাদেশের চেয়ে ছন্দময় ক্রিকেট খেলে ম্যাচ জিতেছে স্কটল্যান্ড। কিন্তু রবিবার বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল হেগের ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর। উল্টো মরুর শহরে এসে ফের বিধ্বস্ত হতে হলো লাল-সবুজদের।

/এফআইআর/

সম্পর্কিত

জয়ের অভিষেকের দিনে টস জিতলো পাকিস্তান

জয়ের অভিষেকের দিনে টস জিতলো পাকিস্তান

সাকিবকে নিয়ে ভালোর আশায় বাংলাদেশ

সাকিবকে নিয়ে ভালোর আশায় বাংলাদেশ

আগারওয়াল ১২০*, কোহলি ০

আগারওয়াল ১২০*, কোহলি ০

শাহীন বলছেন, মিরপুরেও পেসারদের সফল হওয়া সম্ভব

শাহীন বলছেন, মিরপুরেও পেসারদের সফল হওয়া সম্ভব

quiz
সর্বশেষসর্বাধিক
© 2021 Bangla Tribune